হাওর মোদের জীবন মরণ- জীবন কৃষ্ণ সরকার।।HAOR MODER JIBAN MORON BY JIBAN KRISHNA SARKER।। HPBN-2019-002-21-03

0
657

কাব্যগ্রন্থঃ হাওর মোদের জীবন মরণ

লেখকঃ জীবন কৃষ্ণ সরকার
প্রকাশকঃ সিদ্দিক আহমদ
প্রকাশনীঃ পায়রা প্রকাশ
প্রকাশকালঃ একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৯
এটি লেখকের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।

উৎসর্গ : পিতৃতুল্য শিক্ষ সিরাজ উদ্দিন আহমদ ও সমগ্র শিক্ষা জীবনের সকল শিক্ষকবৃন্দকে।

ISBN:978-984-082010
Price-130/-

হাওরকবি সম্পর্কে প্রকাশকের মন্তব্য

“হাওরবাসীর কথা বলে
হাওর নিয়ে সুখে চলে
জীবন কৃষ্ণ সরকার
এমন মানুষ বিরল ভবে
হাওর নিয়ে কথা কবে
তাকেই খুব দরকার।”
-সিদ্দিক আহমদ
প্রকাশক,পায়রা ট্রকাশ,সিলেট।

সূচিপত্র

১।চাষী
২।শ্রমিকের জয়ো গান
৩।পল্লী মায়ের বুকে
৪।হাওর থেকে বলছি
৫।অজোপাড়ার কবি
৬।চাঁদনী রাত
৭।মৎস কন্যা বলছি
৮।নিঝুম রাত
৯।হাঙ্গর
১০।একটি ভয়াল রাত্রি
১১।মনাই পারের ছেলে
১২।ফাগুণের আগুনে
১৩।হাওর পারের মানুষ
১৪।বিষন্নতার নীল সমুদ্র
১৫।রাখাল বালক
১৬।ভালোবাসি এ দেশটাকে
১৭।দিনলিপি ২৩
১৮।পৌষ সংক্রান্তি
১৯।হাওর মোদের জীবন মরণ
২০।জীবন নদীর কিনারে
২১।স্বাধীনতা তুমি
২২।ডানা ভাঙ্গা পাখি
২৩।বঙ্গবন্ধুর সেনা
২৪।রক্তরাঙ্গা শিমুলিয়া
২৫।মতির বিয়ে
২৬।শিক্ষা বনাম মনুষত্ব
২৭।হাওর পারে জন্ম আমার
২৮।ফেইসবুক
২৯।বিদায়
৩০।একুশ
৩১।সিদ্ধি বাবা
৩২।ভালোবাসা ও মানবিকতা
৩৩।ক্রীড়ক
৩৪।স্বাধীনতার মানে
৩৫।দুধের ধার
৩৬।তেল সমাচার
৩৭।নিয়তির নিষ্ঠুর আবর্তে
৩৮।অমর জননী

১। চাষী

সোনার ক্ষেতে সোনা ফলায় চাষী তাদের নাম
ক্ষেত খামারে সময় কাটায় ঝড়ায়ে মাথার ঘাম।
তিলে তিলে শস্যালয়ে জমিয়ে শ্রমের পাহাড়
বিধির কিঞ্চিত কৃপা হলে লভে কিছু আহার।

স্বপ্ন তাদের বাঁচার সম্বল স্বপ্ন নিয়েই চলে
স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে যায় ক্ষেত খামারে বিলে।
রাত্রি পোষায় গভীর রাতে তাদের ঘড়ির কাঁটায়
তাদের ভাষায় হাতের পিঠখান দেখা নাহি যায়।

মেঠো পথখান যায়না দেখা ঠাহর করে চলে
হাড়কাঁপুনি শীতের মাঝেই তাঁরা নামে জলে।
কেহ করে হালচাষ আর কেহ ধরে মাছ
শত কষ্টে কাজ সারিলেও আনন্দে করে নাচ।

ইরি, বোরো শালি নামে কতো ধান চাষ করে
মোটা, চিকন হরেক রকম ধান তুলে ভাই ঘরে
হরেক রকম ধান চাষিলেও সত্য বড়ো কঠিন
স্বর্ণখচিত মিহি ধান বেঁচে চাষী শোধে ঋণ।

চাষী সে যে অন্ন ফলক! খায় সে মোটা ভাত
কেহ কেহ ঋণের জ্বালায় মাথায় রাখে হাত
এসব দৃশ্য, নয় অদৃশ্য ঘটছে অহ অহ
রোগ যাতনায় চাষীরা কতো হচ্ছে দুর্বিষহ।

তাই বলি ভাই চাষীদের কেহ করোনাকো হেলা
চাষীহীনে বড় ছোট কারো চলবেনা সুখের ভেলা
চাষী তোমার মহৎ পেশা,তুমি চির অম্লান
যুগযুগ ধরে নারী,নরে করিবেই তোমায় সম্মান।

২৭ ডিসেম্বর ২০১৭
কেন্দ্রীয় হাওরসাহিত্য গণপাঠাগার,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

২। শ্রমিকের জয়ো গান

গাহি তাঁদেরি জয়োগান-
যাদের অক্লান্ত শ্রমে, ঘামে তৈরি হয় সোনার ফসল,
তৈরি হয় বাবু সাবদের মুখে অন্ন।যাদের নিরন্ন শ্রমে তৈরি হয় গম্বুজ,অট্টালিকা,টাওয়ার, তাঁদের আমরা কতটুকুই বা মূল্যায়ন করতে পারি?যাদের রাত বিরাত খাঁটুনির ফলে তৈরি হয় আমাদের পরিধানের বস্ত্র, যা ব্যবহারে আমরা হই অভিজাত,করি বংশের গৌরব,বাড়ে স্ট্যাটাস, তাঁদেরকে এই নিষ্ঠুর সমাজ কতটুকুই বা মূল্যায়ন করতে পারে?

গাহি তাঁহাদের জয়োগান-
যাদের অপরিমেয় চেষ্টার দরুন আমাদের সন্তান,সন্ততিগণ হয়ে উঠে পূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী, হয়ে ওঠে সমাজ নির্ধারণকারী, চালিয়ে যায় গবেষণা,আবিষ্কার করে নতুন নতুন উদ্ভাবন।যাদের বিনিদ্র চেষ্টায় তৈরি হয় দূরারোগ্য ব্যধির ভেক্সিন,জীবন ঝুঁকি নিয়ে মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে করে যায় সংগ্রাম,বাঁচিয়ে রাখে একটি মানব প্রজন্ম তথা মানব স্বত্বাকে,এই সংগ্রামে কেউ কেউ চলে যায় ওপারে,উৎর্গ করে জীবন মানবের তরে এই সমাজ কি তাঁদের ন্যায্য পারিশ্রমিক কিংবা পরিশ্রমের সম্মানটুকু দেয়?সময় এসেছে জাগবার,জাগাবার,তাইতো বলতে ইচ্ছে হয়-

“ শ্রমিক তুমি হয়োনাকো হতাশ হও আগুয়ান
তোমার শ্রমেই পাবে সম্মান হবেনাকো ম্লান,
সেদিনটি আর নয়কো দূরে গাইবে সবাই বিশ্বজুড়ে
শ্রমিকের জয়ো গান।”

১ মে ২০১৭
লক্ষীপুর,বিশ্বম্ভরপুর,সুনামগঞ্জ

৩। পল্লী মায়ের বুকে

পাড়া গাঁয়ের ছেলে আমি
পাড়ার ছবি আঁকি
চোখের সামনে ভাসে যাহা
তাহাই আমি দেখি।

পাক-পাখালির কিচির-মিচির
সদা কানে ভাসে
মন অজান্তেই মনমন্দিরে
ভাটিয়ালি বাজে।

সুর সংগীতের আদি সৃষ্টি
পাক-পাখালির স্বর
বিনা মাইনে বিনা বাঁধায়
শুনি দিন দুপর।

বিকাল বেলায় পল্লীমাঠে
চড়াই আমি গরু
খোশ মেজাজে সবাই মিলে
করি খেলা শুরু।

সন্ধ্যা হলে বাড়ি ফিরি
নিয়ে গরু সব
চতুর্দিকে আবার বাজে
পাক পাখালির রব।

খানা পিনার পরে চলে
কিচ্ছা গল্প গান
এসবপ্রতি চিরদিনই
আছে আমার টান।

দাদা দিদির কথা শুনলে
মনে পাই যে সুখ
কভু কিচ্ছা না শুনিলে
দিলে লাগে দুখ।

রাত্র গভীর হলে নামে
আন্দার চারিদিকে
শান্ত মনে ঘুমিয়ে পড়ি
পল্লী মায়ের বুকে।

২৭ ডিসেম্বর ২০১৭
কেন্দ্রীয় হাওরসাহিত্য গণপাঠাগার,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর, সুনামগঞ্জ

৪। হাওর থেকে বলছি

হে তাবৎ বিশ্ববাসী-
তোমরা কি শোনেছো নিরীহ হাওরবাসীর বুকফাটা আর্তনাদ? তোমরা কি কভু দেখেছো কৃষাণ-কৃষাণীর ক্রন্দন?

না,তোমরা শোননি,তোমরা কখনো শোননি দুঃখিনী মায়ের কান্না,তোমরা কখনো শোননি জাঙ্গাল ভেঙ্গে সর্বস্ব তলিয়ে যাওয়া কৃষকের কান্না। নিরীহ কৃষাণ কৃষাণীর
শ্রমের ঘামের ফসল তলিয়ে যাওয়ার খবর তোমরা রাখোনি।তাই আজ আমার কৃষক দিশেহারা?
যে কৃষকের হাসি দেখে সারা বাংলা হাসতো
সেই কৃষক আজ নিজেই বিমলিন। হ্যাঁ সত্যিই তাই!

আমি হাওর থেকে বলছি-
হাওরের অন্ত গহ্বর থেকে বলছি
দেখে যাও দেখে যাও
তাবৎ বিশ্ববাসী।

৪ নভেম্বর ২০১৭
কেন্দ্রীয় হাওরসাহিত্য গণপাঠাগার,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

৫। অজো পাড়ার কবি

অজোপাড়ার ছেলে আমি
অজোপাড়ার কবি
পুব আকাশে সাত সকালে
দেখি রঙিন রবি
দেখি আলো ছায়ার ছবি।

সরষে ফুলের ঝিকমিকিতে
স্বর্ণ আমি দেখি
তাই দেখিয়া মনের আয়নায়
শব্দগুচ্ছ লিখি
আমি গান কবিতা শিখি।

ডোবা খালে, সবাই মিলে
জলসিচনী দেখি
জল সিচনী প্রায় শেষিলে
মাছ খেলনী দেখি
মোরা মাছ ধরিতে থাকি।

এভাবেতেই চলে মোদের
সাতসকাল আর দুপুর
শীত সকালের এমন সকাল
প্রায় আনন্দে ভরপুর
করি আনন্দে হইহুল্লোড়।

না জানি ভাই আর কতো দিন
চলবো এমন করে
যন্ত্র-মানব সভ্যতা ভাই
নিচ্ছে সবই কেড়ে
হর্ষ যাচ্ছে মোদের ছেড়ে।

দুখ নেই মোদের প্রভুর কাছে
করি ফরিয়াদ
তোমার প্রেমে অজোবাসী
থাকে যেন্ উন্মাদ
পেতে নেই কোন আর সাধ।

১০৯/শেফা মঞ্জিল,খরাদিপাড়া,শিবগঞ্জ।

৬। চাঁদনী রাত
(প্রিয় ছাত্র/ছাত্রী সুজনা,সুইটি,ফেরদৌস,আমিনুলকে উৎসর্গ করে)

ছোট বোনটা ডাকছে-
দাদা-দাদা,মা ডাকছে তোমাকে,

কিন্তু কিছুতেই যেনো আজ মন চাইছেনা নড়তে এক পা,
মনে হলো এমন জ্যোৎস্না শোভিত
চাঁদনী রাত আর আমি দেখিনি কভু,
পলক দৃষ্টিতে কেবল তাকিয়ে রইলুম।
উজ্জ্বল ঝলকিতে আলো দেখে মনে হলো
যেনো স্বর্গ থেকে আলোক দলেরা নেমে এসেছে এধরায়,
কম্পাসে আঁকা বৃত্ত ও যেনো হার মেনেছে তার দেহাবয়ব দেখে।

চারদিকে বৃক্ষলতার উপর প্রবাহিত আলোক বন্যায় যেনো ঝলমল করছে। মনে হলো প্রতিটি লতা,পাতাই যেনো একেকটি আলোর আঁধার। তাই আজ একটি বাক্যই আমার প্রাণে বেশি নাড়া দিচ্ছে আর হৃদয়
থেকে উচ্চারিত হচ্ছে-
অন্ধকার! আজ তোমায় দিলেম ছুটি…।

৩ নভেম্বর ২০১৫
এসপি বাংলো,দাতিয়াপাড়া,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর, সুনামগঞ্জ

৭। মৎস কন্যা বলছি

আমি এক মৎস্য কন্যা বলছি-
আমি আজ বড়ো অসহায়। যেমনি আমি আজ বিপদ সংকুল আছি জলজমীনদের মাঝে, তার চেয়েও বিপদ সংকুল আমি আজ স্থলজ হীনমন্যদের মাঝে।কে শুনবে আমার হাড় তাঁপুনি চিৎকার!

পৃথিবী যে আজ বড়ো স্বার্থালয়!
কি করিবো ভেবে
দিবালোকে যবে
দেখিনো ভন্ডের জয়!

তাই ভোগ বিলাসীদের ভীড়ে আমি
শান্ত, ক্লান্ত,পন্থহারা এক।চারিদিকে কেবল করাল গ্রাস,
গ্রাসিবার তরে মোরে।
আসিবে কে আর পাক পরোয়ার্দিগার
কেবল তিনিই রক্ষিতে পারে।

২৬ ডিসেম্বর ২০১৭
কেন্দ্রীয় হাওর সাহিত্য গণপাঠাগার,বংশীকুন্ডা, মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

৮। নিঝুম রাত

পল্লীগাঁয়ের ছেলে আমি
অজোঁপাড়ায় বাড়ি
রাত পোহালেই লাঙ্গল কাঁধে
গাঁয়ের এ পথ ধরি।

এ পথ ধরে হাঁটার পরে
নামি শালি ক্ষেতে
ঘাম ঝড়ানো হাল-চাষের কাজ
সহি মাথা পেতে।

খানা-পিনা সকাল দুপুর
চলে ক্ষেতের মাঝে
সন্ধ্যা হলে ফিরি ঘরে
হাল চাষেরই সাজে।

সাবান চুলোয় ঘষি শরীল
নামি পুকুর জলে
মনপবনে ভাবি মোরা
ময়লা গেলো জলে।

খানার পরে নিঝুম রাতে
বসি বারান্দায়
চারিদিকে খেঁক শেয়ালের
কুহুক শোনা যায়।

জোনাই বাতির ঝিলিমিলি
লাগে আমার গাঁয়
মনে ভাবি স্বর্গপুরী
নামছে বারান্দায়।

কলাগাছে ফুড়ুত শব্দে
মনে লাগে ভয়
বুঝতে পারি ভয় কিছু নয়
বাঁদুড় মামার জয়।

হরেক রকম চিন্তা নিয়ে
যাই বিছানার পরে
কিচির মিচির পাখি ডাকে
(আবার) ভোরবেলা ঘুম ছাড়ে।

২৭ ডিসেম্বর ২০১৭
কেন্দ্রীয় হাওরসাহিত্য গণপাঠাগার,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

৯। হাঙ্গর

দেখেছো সোমেন-
আর কষ্ট পোহাতে হবেনাকো মোদের
সকাল সকাল হাওরগুলো জেগে উঠেছে এবার,
প্রাতঃকালে জাল নিয়ে চলে যাবো হাওরপাড়ে।
প্রত্যহ মাছ শিকার করে অন্তত দু মুটো অন্নাহারের
ব্যবস্থা তো করতে পারবো!

যাবো ঐ সুগভীর জলরাশিতে
যেথায় সুস্বাদু মাছদল আবাস গড়েছে।
যাবো হেথায়,যেখানে অনাবিল আনন্দে মাছ ধরা যায়,বাড়ি ফেরা যায়,কিন্তুরকোন প্রতিবন্ধকতা নেই,
নেই কাহারো বিভেদ আমাদের সাথে।

সোমেন বললো দাদা-
এও কি সম্ভব! ওই বিশাল জল রাশি যে আর বিশাল নেই দাদা! ক্রমেই তাহা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে যাচ্ছে-
শোষক শ্রেণীরা হাঙ্গরের মতই আমাদের শোষণ করছে নিয়ত। আমি আর জলে হাঙ্গর দেখিনা দাদা
আমার কাছে এখন-
ওই শোষক শ্রেণীরাই প্রকৃত হাঙ্গর।

১৮ অক্টোবর ২০১৫
এসপি বাংলো,দাতিয়াপাড়া, বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

১০। একটি ভয়াল রাত্রি

ঘুমের ঘুরে স্বপ্ন দেখি আমি
নীল সমুদ্রের ঢেউয়ের চূড়ায় খেলা করছি,
ভেসে চলেছি একা সাঁতারিয়ে। ভেতরের নিঃস্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আমার। কেবল চারদিকে অমানিশা।

চিৎকার করছি ভয়ে ভয়ে বাঁচার নেশায়। কিন্তু কেউ এগোয়না রাস বেশি ঢেউ হতে রক্ষিতে আমায়। আমি কাঁদি,ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদি,কিন্তু কেউ আমাকে দেখেনা
সামনে বিরাটকায় হাঙ্গর,তিমি,শুশুক গোগ্রাসে এগিয়ে আসছে আমায় গ্রাসিবার তরে কিন্তু কেউ নেই আমার পাশে।

সমুদ্রের জলজ হিংস্র প্রাণীগুলো যখন আমায় ধরে ধরে অবস্থা, তখনি বিছানা থেকে চিৎকার মেরে
লুঠিয়ে পড়ি মাঠিতে,ভেঙ্গে যায় আমার ঘুম।
চেয়ে দ্যাখি চারিদিকে অন্ধকার,নিস্থব্দতা
কোথাও টু শব্দটুকুও নেই। নীরবে শুয়ে থেকে কখনো চোখ বন্ধ করি,আবার কখনো চেয়ে দেখি
এভাবেই শেষ হলো আমার স্মৃতির
সেই ভয়াল রাত্রি।

১৯ নভেম্বর ২০১৫
এসপি বাংলো,দাতিয়াপাড়া, বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

১১। মনাই পারের ছেলে

মনাই পারের ছেলে আমি
মনাই পারেই বাড়ি
মনের সুখে নদীর বাঁকে
করি ঘুরাঘুরি।

বর্ষা কালে ঢেউয়ের তালে
নানুর বাড়ি যাওয়ার ছলে
একা কিংবা সদল বলে
কলার ভেলায় চড়ি!
মনাই পারের ছেলে আমি
মনাই পারেই বাড়ি।

ঢেউয়ের তালে সবাই মিলে
জল পাই খেলা করি
মনসা আর দুর্গা পূজায়
ধূলায় গড়া গড়ি।

খুশি খুশি খুসি নৌকায়
উত্তর থেকে দক্ষিণ পাড়ায়
যুবক বৃদ্ধ আত্ম হারায়
করি হই হুল্লোড়ি,
মনাই পারের ছেলে আমি
মনাই পারেই বাড়ি।

নদীর বুকে সাঁতার কেটে
ওপারে দেই পাড়ি
ঝড় তোফান আর বিজলি দেখলে
করি দৌড়া দৌড়ি।

বাতাস বাতাস বাতাস বহে
আম পরে যায় আর কি সহে?
রাত পোহালেই নাটাই লহে
উড়াই রঙ্গিন ঘুড়ি,
মনাই পারের ছেলে আমি
মনাই পারেই বাড়ি।

২০ নভেম্বর ২০১৫
এসপি বাংলো,দাতিয়াপাড়া,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

১২। ফাগুনের আগুনে

পরশ পাথর আমি দেখিনি
আমি দেখেছি ফাগুনের আগুন,যার তীব্র দহনে আবেগী আমি থাকতে পারিনি নিশ্চুপ,থাকতে পারিনি আমি নিশ্চল,প্রাণ চঞ্চল হয়ে উঠে আমার মন।

শীতের প্রকোপে ওষ্ঠাগত আমার প্রাণ।এমন সময় বসন্তের আগমনে ফিরে পেলাম নব উদ্যম।ফিরে পেলাম লেখনী শক্তি,গাছেরাও জেগে উঠলো নবপ্রাণে,ফুলেরাও ফিরে পেলো সজীবতা,প্রকৃতি ফিরে পেলো তার প্রকৃত রুপ।

আজ নেই আমার জীর্ণতা,আমার ভীরুতা,কেবল ফাগুণের উৎসব বহে মোর মননে,হারানো ছন্দগুলো ফিরেছে আজ,আমারি আম্র কাননে।

১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
কবিকুঞ্জ,বাট্টা,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

১৩। হাওর পারের মানুষ

হাওর পারের মানুষ আমি
থাকি হাওর পারে
নিত্য সকাল পুবের রবি
আসে আমার ঘরে।

ঝিলিক রবির আগমনে
হাই তুলে ভাই চাই
পূব আকাশে নীল সমুদ্রের
আভা দেখতে পাই।

একসময় দিল হারিয়ে যায়
নীল সমুদ্রের কোণে
দিন রোজকার শতেক দুঃখ
রয়না তখন মনে।

হাওর পারের মানুষ আমি
হাওরে বাঁধি ঘর
নিত্যি রাতে কুহুক ডাকে
করে ভূতের ডর।

নানান রঙের ভূতের গল্প
শুনছি নানীর কাছে
মনে ভাবি পানির মাঝে
ভূতই নাচন নাচে।

বিলের মাছের সুবাস পেলে
আর কি থাকে ডর?
মন মন্দিরে হিড়িক জাগে
জাগবো রাত্রিভর।

রাত্রি জেগে দেখবো কতো
মৎস্যরাজির খেলা
মাছের খেলা দেখতে দেখতে
পূবে ভাসে বেলা।

হাওর পারের মানুষ আমি
গায়ে কাঁদার গন্ধ
কবিতায় আর কি লিখবো তাই
পাইনা খোঁজে ছন্দ।

ছন্দ ছাড়াই অন্ধ মায়ায়
লিখতে কিছু বসি
শুধু জানি জন্ম থেকেই
হাওর ভালোবাসি।

বন্ধু বান্ধব সবার কাছে
একটি দোয়াই চাই
সারাজনম হাওর নিয়ে
লিখে যেতে চাই।

৪ নভেম্বর ২০১৭
কেন্দ্রীয় হাওরসাহিত্য গণপাঠাগার,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

১৪। বিষণ্নতার নীল সমুদ্র

রাত্রি নিশি হয়,নিশি হয় আমার মন।সারাক্ষণ শুধু আলো ছায়ার খেলায় মত্ত রাখি নিজেকে। তবু যেনো প্রবোধ পাইনা শুধু তোমারি বিহনে। ওই দুর নীল দিগন্তে মেঘেরা খেলা করে। তাদের ভীড়েও আমি তোমাকে দেখি।

অন্তরীক্ষচারি আমি গগনে তোমাকে খুঁজি। মরুবাসী হয়ে আমি সাহারায় তোমায় খুঁজি।রআমি খুঁজি তোমায় বিষণ্নতার নীল সমুদ্রে। সাগরে সৈকতে,হই হুল্লোড়ের ভীড়ে। আমি তোমাকে খুঁজি, কখনো পাই উপলদ্ধিতে, কখনো থাকি অপেক্ষায়।

মনে মনে শুধুই আমি ভাবি কবে আসবে তুমি,পাখির মতো ঊড়ে, সুদুর মালয় সাগর পার হয়ে আমারি ক্রোড়ে
দিবানিশি কেবল এই বাসনাই করি।

১১ জানুয়ারি ২০১৬
এসপি বাংলো,দাতিয়াপাড়া, বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর, সুনামগঞ্জ

১৫।রাখাল বালক

আমি একজন রাখাল বালক। জন্মের পর দেখিনু কভু বাবাকে। পরের বাড়িতে কাজ করতে দেখেছি আমি মাকে। স্বপ্ন, সাধ,আহ্লাদ হয়নি পূরণ কভু হতাশায়, দূরাশায় ভোগীনি আমি তবু, চেয়ে আছি বিধি পন্থপানে।

প্রাতঃ সকালে গায়ের মেঠো পথ ধরে গরু নিয়ে আমি চলি, চলি অনেক দূর থেকে দূরান্তর, হ্যাঁ চলি আমি দূর হাওরের তেপান্তর। সন্ধ্যে হলে আবার ফিরি গাঁয়ে
দূঃখিনী মা আমার দাঁড়ায়ে থাকে আমারি পন্থপানে।

সেই সকালে একমুঠো ভাত। আর সারাদিন অনাহার
পেটে ক্ষুধার পাহাড় জমে, কপালের লিখন করিবো কি আর, পরেছি প্রভুর বামে।
দুহাত তুলে ডাকি প্রভু দেখিও তুমি মোরে
কিঞ্চিত কৃপা পাই যে দয়াল তোমারই দরবারে।

২৭ ডিসেম্বর ২০১৭
কেন্দ্রীয় হাওরসাহিত্য গণপাঠাগার,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

১৬। ভালোবাসি এ দেশটাকে

ভালোবাসি এ দেশটাকে
মনের মতন করে
মণিকোঠায় এ দেশটাকে
রাখবো যতন করে।

মনের ভেতর লালন করি
গড়বো সোনার দেশ
বিশ্ববাসী অবাক হয়ে
বলবে বেশ বেশ।

নেপোলিয়ন নয়কো আমি
তবু আমি ভাবি
দেশ রক্ষার্থে, দেশের তরে
করবো আমি সবি।

যখন শুনি সন্ত্রাসীরা
করছে বোমাবাজি
ধ্বংস করতে এদের তখন
মরতেও আমি রাজি।

যখন শুনি দুর্নীতিবাজ
গড়ছে টাকার পাহাড়
মনের দুখে সেদিন আমি
বর্জন করি আহার।

তিলে তিলে এদেশটাকে
করছি মনে লালন
আমি যেনো দেশের সকল
নিয়ম করি পালন।

৬ জুন ২০১৭
কবিকুঞ্জ,বাট্টা,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

১৭। দিনলিপি ২৩
(প্রিয়তমা স্ত্রী বিনতা কৃষ্ণ সরকারকে উৎসর্গ করে)

সকাল হয়ে গেছে,ভাবছো অন্ধকার বাহিরে
বিছানায় গড়িয়ে গড়িয়ে মনে পড়ছে আমার প্রিয় মানুষটির কথা। আজ তাঁর জন্মদিন।

কিন্তু সে তো আজ অনেক দূরে আমার ছায়া থেকে
তারহীন যন্ত্রে ক্ষুদে বার্তায় জানালাম শুভেচ্ছা। এতেই তৃপ্ত মনে করছি নিজেকে। মনের না বলা কথাগুলো ভেসে উঠছে আমারি চোখের সামনে।

দুপুর গড়িয়ে বিকাল,বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা। মাঝ দুপুরে কিছুক্ষণ মোবাইলে কথা। কিন্তু এই মন তাকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষার প্রহর গুণছে। কবে আসবে তুমি,কবে বসবো দুজনে। কাঁঠাল গাছের ছায়ায়
জুড়াবে এ দেহ। জুড়াবে হৃদমঞ্জিলের তপ্তদাহন।

২৩ জানুয়ারি ২০১৭
কবিকুঞ্জ, বাট্টা, বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

১৮। পৌষ সংক্রান্তি

পৌষ সংক্রান্তিতে ঘরে ঘরে চলে
নবান্নের উৎসব। ছেলেমেয়েরা পিঠা হাতে কলরব।

সংক্রান্তির সকালে ছেলেমেয়েদের সকলে। নদীতে দেয় ঝাঁপ, করে স্নান, করে নিজেকে পবিত্র। আবহমান কাল থেকেই এই উৎসব চলে আসছে কার্তিক নবান্নের দেশে।

হরেক রকম নকঁশি পিঠা বানায় পল্লী বধূ
করে আপ্যায়ন পাড়া- প্রতিবেশীকে।
কিন্তু দিনকে দিন এসব উৎসব হচ্ছে যেনো ফিকে।
আজকের এই দিনে আমরা সকলের মনে করি আশা
পৌষ সংক্রান্তিরটিকে থাকুক, কাটুক দুঃখ,হতাশা।

২৭ ডিসেম্বর ২০১৭
কেন্দ্রীয় হাওরসাহিত্য গণপাঠাগার,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

১৯। হাওর মোদের জীবন মরণ

হাওর মোদের জীবন মরণ
হাওর খেলার সাথী
যারপরনাই হাওর নিয়ে
করি মাতামাতি।

যবে থেকে জ্ঞান ফুটল
আঁখি মেলে দেখি
সামনে হাওর পেছনে হাওর
নয়কো তিলেক মেকি।

শনির হাওর,,টাঙ্গুয়ার হাওর
হরেক রকম হাওর
প্রায় বছরই আশ্বিন মাসে
দেখি কতো বাওড়।

হাওর,বাওড় নিয়েই মোরা
করছি বসবাস
কবে জানি,সুদিন আসবে
ফেলি দীর্ঘ শ্বাস।

বর্ষাকালে বন্যা ঢলে
হাওর হয় উতালা
কারো ভাঙ্গে ভিটের মাটি
কারো ডুবে চালা।

পানির উপর চাং বান্দিয়া
আমরা অনেক থাকি
চাং এর উপর শুয়ে থেকেই
রঙ্গিন স্বপ্ন দেখি।

দুঃখে ভরা জীবন হলেও
পাইনা দুঃখের খোঁজ
আনা কিংবা
সিকি সুখেই নিজেকে দেই বুঝ।

বড়ো বড়ো ধাপ্পা দিয়ে
গপ্পো করি শুরু
নদী,ডোবা, বিল বাদড়ে
আমরাই নেতা গুরু।

বাস্তবতা কতো কঠোর
বুঝি সময় হলে
জালি কুঁচটাও কাঁড়িয়ে নেয়
নামলে ডোবা বিলে।

ইজারাদারির নামে তারা
করে মোদের শোষণ
কারো কি আর সাধ্য আছে
করবে এসব বারণ?

এভাবেতেই চলতে চলতে
আসে বোশেখ মাস
নানান রঙ্গের ফুল ফল দেখে
মনে করি আশ।

কে জানে ভাই গহিন রাতে
জাঙ্গাল ভাঙ্গার জেরে
সোনার ফসল তলিয়ে গিয়ে
পানি আসবে ইড়ে?

মুহুর্তে সব স্বপ্নগুলো
তলিয়ে যায় জলে
কৃষকরা সব টলোমলো
চোখের পানি ফেলে।

শস্যধানে নির্ভর করে
আমরা সবে চলি
পরম স্রষ্টার কৃপা হলে
কিঞ্চিত ঘরে তুলি।

হাওর বাঁচলে আমরা বাঁচি
বাস্তবতা তাই
হাওরই মোদের জীবন মরণ
আবার বলে যাই।

৫ ডিসেম্বর ২০১৭
লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়,দাতিয়াপাড়া
(শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে বিদায় দিয়ে ক্লাস রোমে একা একা বসে লিখা হয়েছে কবিতাটি)

২০। জীবন নদীর কিনারে

আমি আজ ক্লান্ত,শান্ত,পন্থ হারা এক পথিক
জীবনের অপসিদ্ধান্তগুলো ঠুকরে খাচ্ছে আমাকে
আমার মনোমঞ্জিলের চিন্তাগুলোকে। অবিমৃষ্য বেদনা বার বার পীড়া দেয় আমায়। আমি আজ দিশে হারা একজন।

মনো পীড়ায় পীঁড়িতে বসে। লিখছি হৃদ্যতার কথা। কবিতা তো নয়,যেনো লিখছি আপনার মনোব্যাথা। ব্যথার খোঁয়াড় জমেছে আমার মননে,দখিনা হাওয়ায় প্রাণ শীতল হয়। কেবল শীতল হয়না আজ আমার দেহ পিঞ্জর। যেনো আমি এক পথ হারা পথিক।

কাক তন্দ্রায় তন্দ্রাচ্ছন্ন আমি আজ। ঘুম নাহি আসে আমার কাননে। মায়ের হাতের সাজানো আমার পরিপাটি বিছানা। রঙ্গিনপাটি হয়েছে যেনো আজ মলিন
আমারি মলিনতায়। আমি স্তব্দ, ক্রুদ্ধ,রুদ্ধ প্রাণ এক।

তন্দ্রা ঘুমের ঘুরে স্বপনে আমি দ্যাখি। উদ্বেড়ালে খেয়েছে দিঘীর মাছ। কেবলি পরে আছে ভাগ সিকি। চারিদিকে যবে উৎপীড়ণের দামামা। বাঁচিবার আশায় স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখি। আদমসুরত দাঁড়ায়ে দোয়ারে আমার। করজোড়ে তাই প্রভুকে আমি ডাকি।

প্রভু,দয়াল প্রভু আমার,একবার তুমি দ্যাখে নিয়ো মোরে
তুমি বিনে চাইনি কভু চড়িতে সুখেরি মিনারে
আমি যে তোমারি কান্ডারি এক,পড়িয়া রহিয়াছি জীবন নদীর কিনারে।

৩০ নভেম্বর ২০১৫
এসপি বাংলো,দাতিয়াপাড়া,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

২১। স্বাধীনতা তুমি

স্বাধীনতা তুমি মুক্ত মনের, মুক্ত প্রাণের বাহক। তোমায় পেয়ে ফিরে পেয়ছি মোদের বাক্ প্রতিবিম্ব,চিনতে পেরেছি নিজের স্বীয় সত্ত্বাকে। তোমায় হাজারো সালাম হে প্রিয় স্বাধীনতা…

স্বাধীনতা তুমি অমর, অবিনশ্বর এক স্বত্ত্বা। যে তোমায় পায় তার আর থাকেনা কিছু বাকি পাওয়ার। আর যে তোমাকে পায়না,সে যেনো হারিয়েছে সব। কিছুই থাকলোনা তার আর। তোমাকে পেয়ে গর্বিত মোরা।
হে স্বাধীনতা,তোমায় হাজারো সালাম।

স্বাধীনতা তুমি। যেমনি বুদ্ধিজীবি,চাকুরিজীবি,জ্ঞাণী,গুণী সকলের প্রেরণার উৎস। তুমি তেমনি প্রেরণার উৎস তপ্তদাহে পুড়া হাওরের নিরীহ কৃষকের, তুমি আছো বলেই,বুক ফুলিয়ে চলে ওরা, ফলায় সোনার ধান।
জানে ওরা, এখন আর ফলানো পন্য যাবেনা পাকিস্থান
হবে দুখের অবসান।

তাইতো বলি এই অবেলায় অন্তকুঠর হতে
স্বাধীনতা তুমি এসেছো বলেই পেয়েছি স্বর্গ হাতে।

যতদিন বাঁচি পৃথিবীর তরে
গাবো তোমারই গান
স্বাধীনতা তুমি জীবনে মরণে
স্বাধীনতাই মোর প্রাণ।

২২ মার্চ ২০১৮
কেন্দ্রীয় হাওরসাহিত্য গণপাঠাগার, বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

২২। ডানা ভাঙ্গা পাখি

মনের গভীরে গ্রথিত ব্যাথা জ্বলে বারেবার,জ্বলে বারংবার। অথচ মুখ থেকেও মুখহীন প্রাণীর মতো
চেয়ে থাকি আমি, চেয়ে দ্যাখি আমি সমাজ দর্পণের হাল। চোখের সামনে আমার মানুষগুলি হয়ে যায় পর,হয়ে যায় স্বার্থপর। কিঞ্চিত স্বার্থের লোভে এই কি তাদের সাজে?

লাল পাখিরা,নীল পাখিরা ঊড়ে যায় একদেশ থেকে অন্য দেশে,যে দেশে তাদের বসত হয় বসতির বেশে। আমি এক ডানা ভাঙা পাখি, যার শতো ইচ্ছে ভেতরে থাকলেও ঊড়তে না পেরে আজ,মুখ বুঝে সইতে হয়
ভুক্তভোগীর বেশে,এই দেশে।

১৯ এপ্রিল ২০১৬
এসপি বাংলো, দাতিয়াপাড়া,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

২৩। বঙ্গবন্ধুর সেনা

বঙ্গবন্ধু নাম শুনিলে
আমরা সবে খুশি
শেখ মুজিবের নাম শুনিলে
অবাক বিশ্ববাসী
বঙ্গবন্ধুর সেনা
আমরা দেশকে ভালোবাসী।

দেশের তরে যুদ্ধ করে
রাখবো দেশের মান
সুখে দুখে থাকবে মোদের
জয় বাংলা শ্লোগান
জয় বাংলা বলিয়াই স্বাধীন
হয়ছিল দেশবাসী।।

হলফ করে বছর ধরে
করবো লেখা পড়া
শেখ মুজিবের স্বপ্ন ছিল
সোনার এ দেশ গড়া
সোনার দেশ গড়িতেই ধরবো
অসী ছেড়ে মসী।।

দুর্নীতি আর চাঁদাবাজি
রাখবোনা এই দেশে
বিশ্ববাসী হবে খুশি
মুজিব দেশে এসে
জীবন কৃষ্ণ এই ভাবনা
করে দিবানিশি
বঙ্গবন্ধুর সেনা
আমরা দেশকে ভালোবাসী।।

১৭ মার্চ ২০১৫
কবিকুঞ্জ,বাট্টা,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

২৪। রক্ত রাঙা শিমুলিয়া

ভোরের কলকল সমীরণ,তেজোময় প্রহরের রিমঝিম আলোক জ্যোতি,বিকেল বেলার শান্ত পবনিয়া,
সবি যেনো একাকার সম্মিলন রক্তরাঙ্গা ওই শিমুলিয়ায়।

বলছি হাওরশিরা যাদুকাটা হৃদিনীর তটে,মনোলোভা,চিত্তহারিণী,মায়াবী শিমুলতলা কথন।

নিয়ত অযুত সৌন্দর্য পিপাসুর স্বর্গ যেখানে হাতের মুঠোয়, সেটিই হচ্ছে হাওরের সৌন্দর্যের রাণী
যাদুকাটার যাদুর আঁকর ওই শিমুলিয়া।

শান্তি যদি নেমে থাকে এ ধরায়-
ওরে তোরা দেখবে কে কে আয়,
দেখে যা একপলক,শিমুলের রঙিন আভার ঝলক।

শিমুলের ডাল যেনো মনুষ্য বাহুর ন্যায় হাত ঊড়িয়ে ডাকিছে সবাকারে-

“এসো, এসো হে নবীণ, প্রবীণ,ভ্রমণ পিপাসুগণ,
আমরা তিন সহস্র সহোদর এক পায়ে রয়েছি দাঁড়ায়ে,রবো চিরকাল-
তবু বলি তোমাদেরই পদভারে মুখরিত হোক
আমাদের এই শিমুলিয়ার প্রতিটি সকাল”

১ মার্চ ২০১৮
কেন্দ্রীয় হাওরসাহিত্য গণপাঠাগার,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ।

২৫। মতির বিয়ে

মতির বিয়ে হলো,বছর দুয়েক গেলো
পাড়া পড়শি জিজ্ঞাসিলে
বলে বউ খুব ভালো।

এইভাবেতে হায়!বছর দু-এক যায়
হঠাৎ একদিন ভুত চাপিল
মতিরো মাথায়।

পাড়ায় পাড়ায় বলে,করবে মতি বিয়ে
শুণে শীঘ্র মতির বউয়ে
পায় ধরিলো যেয়ে।

পায় ধরোনা তুমি,বলিতেছি আমি
কি আর করবো কথায় কথায়
ঝগড়া করো তুমি?

পরের দিনে যেয়ে,যৌতুক কিছু পেয়ে
বউয়ের কথায় কান না দিয়ে
করলো মতি বিয়ে।

রোজ সকালে বেলা,দুই সতীনের জ্বালা
কাজে কর্মে ঠেলাঠেলি
মতির মুখখান কালা।

বড় বউ কয় সব কাজ করি,ছোট বউ দেয় ঝাড়ি
কিলা-কিলি করে মতির
চলছে জীবন ঘড়ি।

সুখে দুখের সাথী,বুঝল এবার মতি
আগের বউই ভালো ছিল
এখন কি দুর্গতি!

মতি মনে ভাবে,বুঝিনিতো আগে!
দুই সতীনের চুলাচুলি
আমাার জীবন যাবে?

৬ অক্টোবর ২০১৫
এসপি বাংলো,দাতিয়াপাড়া,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

২৬। শিক্ষা বনাম মনুষত্ব

শিক্ষার উদ্যেশ্য কেবলি যেনো চাকুরি প্রাপ্তি না হয়
এই উপলব্দিই যদি ফুটিল না মানব হৃদয়ে,তবে এই অকিঞ্চিতকর জ্ঞান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে কি হবে মানব কূলের? মানুষের মধ্যে মনুষত্ববোধ জাগিলনা এমন শিক্ষায় কি হবে জাতি কিংবা দেশের?

দলে দলে ছুটিল বিদ্যাপীঠ পানে, হলো শিক্ষিত,ছুটিল চাকুরির পেছনে,পেলো চাকুরি,তাতেই বড়-সর কিছু হয়ে গেছে মনে হয়। মনুষ্যত্বের বীজ খোসার ভিতরেই রইলো
ফুটিলনা কভু কাননে,তাইতো আজ দিশে হারা পথহারা যাত্রী আমরা।

দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে খুন,ধর্ষণ,লুণ্ঠন
কারা করছে ওগুলো? ভেবেছো কি চাষা-ভূষা?
কাগজে নিয়ত প্রকাশে ডিগ্রীধারীই তারা,পদস্থ কর্মচারিও বটে! কাজেই শিক্ষার প্রকৃত উদ্যেশ্য যেনো
মনুষত্ববোধ জাগ্রত করা হয়,সেদিকেই সমাজ তথা জাতির দৃষ্টি রাখতে হবে,তবেই শিক্ষা হবে
স্বার্থক ও সাফল্যমন্ডিত।

১১ জানুয়ারি ২০১৬
এসপি বাংলো,দাতিয়াপাড়া, বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

২৭। হাওর পারে জন্ম আমার

হাওরপারে জন্ম আমার
হাওরপারে থাকি
মনের সুখে রংতুলিতে
কতো ছবিরআঁকি।

গাছের ছবি,মাছের ছবি
কতো রঙ্গের ছবি
গাঁও গেরামের ছবির পাশে
আঁকি রঙিন রবি।

বোশেখ মাসে অনায়াসে
আঁকি ধানের ছবি
নিমেষ তরে জাঙ্গাল ভাঙলে
যায় ফসলি ডুবি।

মনের দুঃখে নিজ বক্ষে
ভাঙা ছবি আঁকি
ভাঙা মনে ভাঙা ছবিই
আপন করে রাখি।

বর্ষাকালে বানের জলে
ভাসিয়ে নেয় ঘর
বছর বছর ঘটছেই এমন
পাইনা তবু ডর।

ঘর ভাসানি ছবিই তখন
রংতুলিতে আঁকি
শত দুঃখও ছবিগুলো
সংরক্ষণে রাখি।

নানান রঙের ছবি এঁকে
আমরা মিঠাই খিদে
ছবির মতই জীবন মোদের
বলতে নাহি দ্বিধে।

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
কেন্দ্রীয় হাওরসাহিত্য গণপাঠাগার,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

২৮। ফেইসবুক

ফেইসবুক তুমি বিস্ময়কর আবিস্কার,তোমাকে নিয়ে আমাদের কতো অহংকার!তবে তুমি পাবে কিনা পুরস্কার,নাকি পাবে তিরস্কার,
তা আমি জানিনা।

তোমার বুকে অনেকে দেয় স্ট্যাটাস,স্ট্যাটাসে অনেকে মন্তব্য করে বেফাঁস,তা নিয়ে লোকে করে পরিহাস।
এগুলো দেখে আমি আজ বড়ো হতাশ।
তবু ফেইসবুক চালাই কেনো,
তা আমি জানিনা।

অনেকে চালায় খুব বেশি ফেইসবুক, সু-কাজে হলে আমার নেই কোন দুখ। যদি হয়ে যায় এটাই কারো রোগ, পাবেনাকো জীবনে আর কোন সুখ
তার জন্য আমি ফেইসবুককে দোষীনা।

২৫ অক্টোবর ২০১৫
এসপি বাংলো, দাতিয়াপাড়া,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

২৯। বিদায়

বিদায় কথাটি হৃদয় বিদরক বটে, কে রয়েছে চিরস্থায়ী জীবন নদের তটে? কেহ আগে কেহ পরে,এই ভবের খেলা,কেহ অঙ্কুরে,কেহ ভঙ্গুরে,সবি যে তাহারি খেলা!

ভবের খেলায় মেতিয়া মোরা খুঁজি মণি, মুক্ত,খুঁজি হীরা, মানিক। ভেবেছো কী একবার ? হীরে,মুক্ত সকলিই যে অলীক? তবু কেবল খুঁজি,কেবল খুঁজি
আসলে কি যে খুঁজি,কেবল জানেন ভূবন মাঝি।

অন্তিমে এসে সকল হিসেব যখনি দাঁড়ায়ে সামনে। বিধাতার গান গেয়ে মাপ চাই মোরা কাঁকুতি অক্ষি রোদনে,কি জবাব দেবো অপারে হৃদালয়ে দেয় সাড়া,
নাহি কোন লাভ থাকিতে যৌবন বুঝেনিকো আগে যাহারা।
পৃথিবীর সব শক্তি,সামর্থ ডুবিল বুঝি জলে,
তাই প্রভুর কথা স্মরিয়া নিজেকে প্রবোধি এইটুকু বলে-

“বিদায় বেলায় কেঁদোনাকো তুমি
কেঁদোনা হতাশা ভরে
যতটুকু মনোবল,ততটুকুই সম্বল
ততটুকুই রক্ষিতেও পারে।

১ জুন ২০১৭
কবিকুঞ্জ,বাট্টা,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

৩০। একুশ

একুশ তুমি বাঙালি তথা,গোটা বিশ্বের,সমগ্র মনুষ্য জাতির অহংকার। ধরিত্রির সমগ্র ভাষা সম্মানিত হয়েছে আজ তোমার আবির্ভাবে, তাই তোমাকে সশ্রদ্ধ সালাম।

‘একুশ’ তুমি ভীরু কাপরুষদের সাহসিকতার পথে এগিয়ে নেবার এক অনবদ্য সৈনিক। তোমার চলার পথে আজো মায়ের রোগা ছেলেটিও চলার দিশা পায়। তাই তোমাকে সশ্রদ্ধ সালাম।

‘একুশ’ তুমি স্বাধীনতার অগ্রপথিক। তোমাকে পেয়ে একটি দেশ বিশ্ববুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে
যার নাম “বাংলাদেশ” তাইতো তোমায় সশ্রদ্ধ সালাম।

২৬ অক্টোবর ২০১৫
এসপি বাংলো,দাতিয়াপাড়া,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

৩১। সিদ্ধিবাবা

সিদ্ধিবাবা নাম পড়েছে
আর কি লাগে আমার
সিদ্ধির ব্যবসা করেই
আমি গড়ছি টাকার পাহাড়।

থাকো তোমরা ফকির হয়ে
আমার দরকার টাকা
টাকা ছাড়া চলে কি ভাই
কারো জীবন চাকা?

আজকাল কেহ কাজ করিলে
মাইনে পাইনা সঠিক
সিদ্ধির আড্ডায় পড়লে তোমরা
দেখবে টাকার হিড়িক।

সিদ্ধি খাইলে বুদ্ধি বাড়ে
বলবো কতো ছবক
বুদ্ধি দিয়ে টাকা কামাই
আমি কি আর টগ?

বুদ্ধির বলেই সিদ্ধির ব্যবসা
করছি দিবা রাতে
লাইন ঘাট কিছু ঠিক রাখতে হয়
পুলিশ ভাইদের সাথে!

লোকে আমায় বেলাজ বলে
এই কি তাদের সাজে?
আমি তো ভাই তাদের বাড়ি
যাইনা কোন কাজে?

সিদ্ধিখোর সব সময়মত
আমার বাড়ি আসে
হাজার হাজার টাকা পাচ্ছি
বাড়িতেই আমি বসে।

পাড়া-পড়শির চড়,থাপ্পর ভাই
মাঝে মধ্যে খাই
তাই বলে ভাই আমার কি আর
একটু ইজ্জত নাই?

তোমরা ইজ্জত নাই বা দিলে
সিদ্ধিখোর তো আছে!
কতো ভালোবাসে তারা
বলছি নয়কো মিছে।

মাঝে মাঝে তারাও আবার
লাথি ঘুষি মারে
তাই বলে কি ভাবো তারা
আমার পিছু ছাড়ে?

তোমরা হয়তো ভুল বুঝেছো
তারাই আমার আপন
দিনে মাসে কিলাকিলি
এটাই মোদের জীবন।

সমস্যা নাই এমন জীবন
নিজেই গড়ছি ভাই
নিজে জ্বলি অন্যকে জ্বালাই
এভাবেই শান্তি পাই।

১২ ডিসেম্বর ২০১৫
এসপি বাংলো,দাতিয়াপাড়া,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

৩২। ভালোবাসা ও মানবিকতা

ভালোবাসা মানে এই নয় যে,
কারো প্রতি নিজেকে দৈহিক আকর্ষণ বোধ
কিংবা আকাংক্ষা সৃষ্টি করা।

হৃদয়ের উষ্ণতা অনুভব করে নিঃশব্দ অনুভূতিগুলো নিজের অন্তকুঠরে জাগিয়ে তোলাই হচ্ছে
মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা।

হিংসার বেড়াজাল ভেঙে অপরকে নিজের মায়াবী জ্যোৎস্নার আলোয় আলোকিত করে তার মন মন্দিরের
সকল কলুষ দূর করার প্রচেষ্টাই হলো
অন্যের প্রতি তোমার ভালোবাসা।

ভালোবাসা ছাড়া যেমন মানুষ অন্ধ,তেমনি ভালোবাসা অন্ধ মানবিকতা ছাড়া। যেখানে মনুষ্যত্বের শিকড় ভুলুণ্ঠিত, সেখানে মনোকুঞ্জের মনোব্যকথার আর্তনাদ নির্বাসিত, সেখানে ভালোবাসা নয় কেবলি হতাশা।
হৃদয় অন্তপুরে মানুষের প্রতি হৃদ্যতা, অন্তরঙ্গতা সৃষ্টির নামই কারো প্রতি তোমার প্রকৃত ভালোবাসা।

২৫ অক্টোবর ২০১৬
এসপি বাংলো, দাতিয়াপাড়া,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

৩৩। ক্রীড়ক

জীবনের জীবন চক্রে চলেছি আমি একা।জীবন নদীর গহীন তলে খুঁজি মুক্ত,খুঁজি সুখ পাখির নীড়। গগনচারী হয়ে আমি দ্যাখি গ্রহ,নক্ষত্র তারকাপুঞ্জের খেলা। আমি! আমি দ্যাখি শুধু সুখ,দুখের আলোছায়ার খেলা।

জীবনযুদ্ধের রণভূমে আমি কে? আমি যে এক নেহায়েত যোদ্ধা বৈকি? আমি বিজয়ী হই নাকি আমাকে বিজয়ী করা হয়,কেবলি জানে অন্তর্যামী। তবুও চালিয়ে যাই যুদ্ধ, চালিয়ে যাই নিরন্তর প্রচেষ্টায় বিজয়ীর বেশ ধরে।

পাপ পূণ্যের বিচার সবি যে তাঁরই হাতে। তবু যদৃচ্ছা করি আস্ফালন,করি অন্যের অপযশ। আমি করি,আমি করি,কেবলি আমি করি এই ভাবনাই ছাড়িতে নারি মোরা, মোরা কতো বড়ো পীর!
বেশভূষণেই করছি সন্যাসগিরি সত্যি আমরা আজব খেলোয়াড়,আজব ক্রীড়ক এক এই পৃথিবীর।

৩০ নভেম্বর ২০১৫
এসপি বাংলো,দাকিয়াপাড়া, বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

৩৪। স্বাধীনতার মানে

স্বাধীনতার মানে কি এই যে, তুমি যাচ্ছে তাই করে যাবে, আর সমাজ দর্পণ তা চক্ষুদ্ধয় বন্ধ করে,শুধু চুপিসারে সহনশীলতার মালা পরে থাকবে?

স্বাধীনতার মানে কি এই যে,তুমি খুন,ধর্ষণ, হত্যা,লুণ্ঠন চালিয়ে যাবে,কারো প্রতি হিংসা কাতর হয়ে অযথাই ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থে কারো সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেই যেতে থাকবে? আর রাষ্ট্রযন্ত্র তা বসে বসে দেখবে আর আঙুল চুষবে?

না এটাকে স্বাধীনতা বলেনা। বরং এটাকে অন্যের জন্য পরাধীনতা বলা হয়। অন্যের ক্ষতি ব্যতীত তোমার যতটুকু চাওয়া কিংবা পাওয়ার অধিকার,সেটাই হচ্ছে তোমার জন্য প্রকৃত স্বাধীনতা।

১৮ অক্টোবর ২০১৫
এসপি বাংলো,দাতিয়াপাড়া, বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

৩৫। দুধের ধার

মা,তুমি কেবলি একটি মাত্র শব্দ নও। যেনো মমতার এক বিশাল সিন্ধু। যা শ্রবণে মেদিনীর তাঁবৎ সন্তান আনত মস্তকে। শ্রদ্ধা নিবেদন করে তোমার চরণ কমলে।
তোমার এক বিন্দু দুধের ধার শোধিতে অক্ষম সবে।

দুঃসহ যন্ত্রণা, হতাশা,অবসন্নতা যখন ঘিরে ধরে,
চারিদিক যখন তমসাচ্ছন্ন,তখন তোমার সন্তান শুধুমাত্র তোমার একটিমাত্র মমতা মাখা অমৃতবাণী শুনে ভুলে যায় সকল যাতনা।এখানেই ‘মা’ কথাটির যথার্থ অর্থ নিহিত।

‘মা’ কথাটির মাঝে যেন সহস্র আবেগ মমতা,ভালোবাসা লুকিয়ে আছে,এই একটি মাত্র শবাদেই যেনো হাজারো মমতা মাখা শব্দের প্রতি নিধিত্ব করছে।

তোমার নরম হাতের আলতো ছোঁয়া সন্তানের আশীর্বাদ,বিজয়ের প্রতীক। তোমার স্পর্শেই জেগে ওঠে সন্তানের অবচেতন প্রাণ, সুপ্ত মেধা হয় দ্বীপ্ত সন্তান হয়ে ওঠে অজেয়।মা তোমায় অযুত নমস্কার।

১০ অক্টোবর ২০১৫
এসপি বাংলো, দাতিয়াপাড়া,বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর, সুনামগঞ্জ

৩৬। তেল সমাচার

তেলে তেলে তেলাতেলি
চলছে তেলের বাহার
কেহ করছে বাড়ি, গাড়ি
কারো জুটছে আহার।

বসের কাছে মাঝে মধ্যে
করলে ঘষাঘষি
সময় মত তেল মর্দনে
দেখবে তখন খুশি।

দেখবে তখন বসের হাসি
খুবই চমৎকার!
তেলে তেলে তেলেসমাতি
রুখবে সাধ্য কার?

নারিকেল তেল,সরিষার তেল
আরো কদুর তেল
সব তেলেরই আছে দরকার
বুঝবে সময় গেল্।

চুল যেমনে বিবর্ণ হয়
খাঁটি তেল বিহনে
নেতার মুখও বক্র হবে
খাঁটি সুরেশ বিনে।

সময় মত জায়গা মত
করলে ব্যবহার
তেলের মালিশ, সকল নালিশ
করিবে সংহার।

তেলের ঘ্রাণে মনের টানে
বলবে নেতা তখন
তুমি আমার মনের মানুষ
বুঝো আমার মন।

কোর্ট-কাচারি,মোকদ্দমায়
তেলের টেংকি লাগে
বুঝে শুনে তেলনা দিলে
দুঃখ থাকে ভাগে।

সাক্ষী প্রমাণ থাকলে পরেও
খাটতে হবে জেল
যথাশীঘ্র বেরুতে হলেও
মাজতে হবে তেল।

এইভাবেতে সর্বত্রই
তেলের ছড়াছড়ি
কেউ প্রকাশ্যে কেউ গোপনে
করে তেল কারবারি।

তাই বলি ভাই বলবো কতো
তেলের সমাচার
তেলে তেলে তিলে তিলে
জীবন অন্ধকার।!

১৩ মে ২০১৭
কবিকুঞ্জ,বাট্টা, বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

৩৭। নিয়তির নিষ্ঠুর আবর্তে

বন্ধুর পথ বেয়ে বেয়ে চলেছি আমি। চলেছি আমি বছরের পর বছর অন্তর্নিবিষ্ট বাসনাগুলোকে। অন্তর্গৃহে নিজ সরোবরে অন্ধি-সন্ধি করে করে। কতো অকিঞ্চন আমার চিন্তনে। চিন্তাকূলিত আমি নিরংশু হয়ে বসে আছি
কবে উদিত হবে আমার আশা জাগানিয়া বিবস্বান,আমি দেখবো জীবনের নবকোরক। হঠাৎ বিজলির ঝলকানিতে ভড়কানিয়ে চলি আমি হয়ে যাই যেনো অসহায় পথিক এক।

তবু থামিনা আমার যাত্রা পথে,চলেছি ঢিমা তালের ন্যায়
কুঁদুলে মানুষগুলি চতুরালী করে বার বার আমারি সনে
আমি নিরাতপ হয়ে যাই,নিরাতপ হয়ে যাই দ্যাখে তাদের স্পর্ধা,দ্যাখে তাদের নির্বুদ্ধিতা,আমি যেনো নির্বাসিত এক জীব। জানি আসবেনা কভু জটায়ু রক্ষিতে আমাকে
তবু চলেছি আমি ডাহুকের ন্যায় ক্ষুদ্র প্রয়াসকে সঙ্গী করে। আমি জিষ্ণু,বিজয়ী আমাকে হতেই হবে,তাইতো কুতুপের ন্যায় নিভো নিভো করেই চলেছি আমি বিজয় বুরুজের দিকে। তবু হাল ছাড়িনি কভু,আমার চলার চলনিতে।

ওরা মাৎস্যনীতিতে বিশ্বাসী মনীষা ভাবে নিজেকে
আটালির ন্যায় শোষণ করে চলেছে সমাজকে।
আবার তারাই সেবকের বাহক পরিচয় দেয় নিজেকে
এই কি তাদের সাজে? পরপীড়ণে পীড়িত হয়ে নিষ্পাপজনেরা আজ অতিষ্ঠ কিন্তু তাতে কি? সমাজ দর্পণ হয়েছে যে আজ অন্ধ! তাই সর্বসংহা হয়েই চলতে হবে মোদের,চলতে হবে পাষাণিয়া এই ধরায়।

জগতে অখ্যাত হয়েছে অনেক বিখ্যাত,হয়েছে গুণমণি,
কেবল আমারি বেলায় যেনো তা কাঁঠালের আম সত্ত্ব
কারণ, ওরা ওড়ামুড়ি করে আমার যশোলাভে,আমার অর্জণীতে।রউপকারে মানুষ পায় কতো উপঢৌকন,আর আমি পাই তীব্র দংশন এই ছিল মোর ভালে?
চাকভাউড়িতেই চলছে জীবন আমার, কাটাই সময় হাত দিয়ে তাই গালে।রযেনো আমি নীড় হারা, দল হারা এক পাখি।

এভাবেই চলছে মানবগাড়ী আমার কুইনাইন গিলে গিলে।
আড়ুলিতে দাঁড়িয়ে তারা,আর আমি চলেছি সাঁতারিয়ে নদীতে। আমি পারি কি কভু দাঁড়াতে তাঁদেরি ভীড়ে?
ওরা পৌরুষ,ওরা উন্মার্গ,আত্মশ্লাগায় ভোগে ওরা। গুণনিধি উপাধি কেড়েছে বহু আগে। খোদহাকিমি চলাফেরা ওদের, কিঠিমিঠি করে কি লাভ বলো?
কস্মিনকালেও হয়নিকো দুর্বল ওরা, আর হবেওনাকো হয়তো কভু এধরায় থাকিতে। তাই সহনীয়তার কবুলিয়ত করেই পথ চলেছি আমি,চলেছি নিয়তির নিষ্ঠুর আবর্তে।

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
এসপি বাংলো,দাতিয়াপাড়া, বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

৩৮। অমর জননী

ভোরের রবি উদিত হয় মাগো! তোমার শিরো দেশে,রঙিন হাসি হেসে,শুরু হয় তোমার বুকে পদচারণা,শুরু করি তোমায় গাত্রদাহন।
কৃষক লাঙল দিয়ে তোমাররবুক ছিঁড়ে বুনে শস্য,
সেই শস্যে তুমি দাও তোমার রক্তে, মাংসে নির্যাস
বেড়ে উঠে কৃষকের আশা।

বসন্তের কোকিলের কুহু স্বরে দোলা দেয় কৃষকের প্রাণ।
কাক নিদ্রা ভেঙ্গেই যখন কৃষক তার সবুজিমা ঘেরা
সবুজালয় দেখতে পায়,তখনি প্রাণটি ভরে যায় তার।

মাগো! তোমার ডাকে সাড়া দিয়ে নীরদ বর্ষিত হয়
তোমার বুকে বেড়ে ওঠা উঠন্ত ফলজ বিটপি ফিরে পায় তাদের প্রাণ,সোনা ফলে তাদের গর্ভে সার্থক হয় তাদের জনম।

মাগো দাঁড়িয়ে রয়েছে গিরিদল তোমার মুন্ডদেশে
তবু তুমিরকি পারো ফেলিতে তাদের?
না তুমিেপারোনা মা যুগের পর যুগ বয়ে চলেছো তুমি
নিজ তনয় ভেবে তাদের,তারা কি কখনো তোমায় নিজ জননী ভাবে? তবুও করোনি হেলা তুমি নিমেষের তরে
এই হলে তুমি জননী,জন্মদাত্রী,জন্মভূমি।

মাগো তোমার বুকে বহে স্রোতস্বিনী,জ্বলে উঠে অর্ণব
হিল্লোলে প্রকম্পিত হয় লোকালয়,প্রকম্পিত হয় অম্বর
তখনো তুমি কান্ডারি হয়ে আমাদের পাশেই থাকো
তবুও তোমাতে নাহি কোন ঘৃণা তাদেরি প্রতি আশ্রয় দিয়ে চলেছো আপন বাহুডোরে তাদেরো, তাইতো তোমায় মহি বলে শোধায় সকলে।

জলে থাকে জল অধিবাসীরা,তারাও তোমাতে বাসা বাঁধে
তোমাতেই আহার খোঁজে,তুমি তাদেরো পোষণ করো
অথচ বিন্দুমাত্রও স্বার্থ নেই তাতে। তোমার কোলে প্রতিপালিত হয়,কিন্তু তোমার কাজে বিন্দু না লাগে,
তবু হতাশ করোনি তাদের তোমার মায়া মমতা থেকে
চিরদিনই ত্যাগীয়াছো কেবল নিজেকে,জলফোটাও এক গ্রহণ করোনি কভু তাদের দানাশয় থেকে।

তোমার বুকে ছিদ্র করে নরে, তুলে উদক,ফলায় ফসল
সদলবলে ভোগরকরে তা কতো রঙ্গ করে। ভুল করেও কি তোমায় স্মরণ করে সেই সরে? শত ব্যাথা ধারণ করে চলেছো তুমি,কভু কি বলেছো তাদেরি কাছে?
নাকি অভিসম্পাত করেছো তাদের কখনো?
করোনি মা তুমি কখনো তিলেক দুঃখ ও প্রকাশ করোনি।

তাইতো বলি “অমর জননী” তুমি মাগো
তোমার তুলনা কে করিতে পারে?
চিরদিন এভাবেই আপন করে রেখো মাগো
তোমারি সন্তানেরে, তোমারি হৃদপিঞ্জরে।

১২ এপ্রিল ২০১৬
এসপি বাংলো,দাতিয়াপাড়া, বংশীকুন্ডা,মধ্যনগর,সুনামগঞ্জ

————সমাপ্ত———–

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে