হাওর পারের নাইয়া – জীবন কৃষ্ণ সরকার।। HAOR PARER NAIYA BY JIBAN KRISHNA SARKER।। HPBN -2023- 002-02- 04

0
303

হাওর পারের নাইয়া -জীবন কৃষ্ণ সরকার
HAOR PARER NAIYA BY JIBAN KRISHNA SARKER
প্রকাশনী: গাঙ্গুড়,প্রকাশক: অসীম সরকার
ISBN: 978-984-96585-5-9

কবি পরিচিতি

কবি জীবন কৃষ্ণ সরকার একজন হাওরবাদী লেখক ও গবেষক।হাওর বিষয়ক মুক্ত কোষ “হাওরপিডিয়া” ও “মধ্যনগর দর্পণ” পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক তিনি। ২০০৪ সাল থেকে তিনি হাওর ও হাওরের সমস্যা,সম্ভাবনা নিয়ে কবিতা, কলাম, নাটক লিখে যাচ্ছেন নিয়মিত।হাওর নিয়ে লেখালেখির দরুন পাঠক মহল তাকে হাওরকবি হিসেবে অভিহিত করেছে।তাই তিনি মূলত হাওরকবি হিসেবেই সমধিক পরিচিত তার পাঠক মহলে।বলা চলে হাওরের এক অকুতোভয় সাহিত্য সৈনিক হাওরকবি। তৃণমূল হাওরে উন্নয়ন ভাবনা ছড়িয়ে দিতে ২০১৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারী তিনি গঠন করেন হাওর সাহিত্য উন্নয়ন সংস্থা(হাসুস) বাংলাদেশ নামে হাওর ভিত্তিক দেশের প্রথম সাহিত্য ও সামাজিক সংগঠন।সংগঠনটির সদস্যরা হাওরের সাত জেলায় নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।এর আগে তৃণমূল হাওরে সাহিত্য ভাবনা জাগিয়ে তুলতে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন হাওরসাহিত্য ভিত্তিক দেশের প্রথম গণপাঠাগার “কেন্দ্রীয় হাওরসাহিত্য গণপাঠার” বংশীকুন্ডা।পাঠাগারটি সুনামগঞ্জ জেলার দুর্গম হাওরাঞ্চল মধ্যনগর উপজেলাধীন বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন সদরে অবস্থিত।কবি’র সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিচে তুলে ধরা হলো-

নামঃ জীবন কৃষ্ণ সরকার

পিতাঃ সুধীর রঞ্জন সরকার
মাতাঃ মিলন রাণী সরকার
স্ত্রীঃ বিনতা কৃষ্ণ সরকার
পুত্রঃ বিজয় কৃষ্ণ সরকার
জন্মঃ ৪ঠা জানুয়ারী ১৯৮৭ ইং
গ্রামঃ বাট্টা,উপজেলাঃ মধ্যনগর,পোঃবংশীকুন্ডা,জেলাঃ সুনামগঞ্জ
প্রিয় শখঃ বই পড়া,বই লেখা,ভ্রমণ।

শিক্ষাজীবনঃ

বিএস,সি অনার্স (২০১১),এমএসসি (গণিত)(২০১২),শাহজালাল বিজ্ঞাণ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,সিলেট।

পেশাঃ লেখালেখি, শিক্ষকতা,সাংবাদিকতা।গণিত শিক্ষক, প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়,দঃসুরমা,সিলেট।
ফ্রি- ল্যান্স সাংবাদিক,সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান,বঙ্গনিউজ।

লেখকের প্রকাশিত অন্যান্য গ্র সমূহ :

১। মাটির পুতুল(২০১৬)-কাব্যগ্রন্থ
২। স্মৃতির অবয়ব (২০১৬) (যৌথ কাব্যগ্রন্থ)
৩। হাওরবিলাপ(২০১৭)-কাব্যগ্রন্থ
৪। হাওর মোদের জীবন মরণ(২০১৮)-কাব্যগ্রন্থ
৫। গাঙচিলকণ্ঠ (২০১৯)-(যৌথ কাব্যগ্রন্থ)

Facebook:Jiban Krishna Sarker

মূখবন্ধ

হাওরকবি জীবন কৃষ্ণ সরকার হাওরপারের জনজীবনের নিদারুণ গল্প লিখেন হৃদয়াবেগ মিশিয়ে।
বলেন জীবনের কথা। এ জীবন সংগ্রামের, এ জীবন বিধ্বংস-বিপর্যয়ের। প্রকৃতির সাথে যুদ্ধরত এক জনপদের মানুষের কথা লিখেন তাঁর কবিতায়। কবিতার ভাঁজে ভাঁজে যিনি চিত্রায়িত করেন মানুষের সুখ-দুঃখ, বিরহ-বিচ্ছেদ, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, পাপ -প্রায়শ্চিত্ত, সমস্যা-সম্ভাবনা ও অনুশোচনার কথা। হাওরকেন্দ্রীক সমাজ বাস্তবতার কথা, দরিদ্র মানুষের জীবনযাপনের কথা সহজ ভাষায় মানুষের কাছে উপস্থাপন করেন বিধায় লোকমুখে তিনি “হাওরকবি” নামে পরিচিত।
হাওর, নদী, নৌকা, জল,ধান,মাছ আর শালুকের কথা এতো সুন্দরভাবে কবিতায় উপস্থাপন করা যায় তা হাওরকবির কবিতা না পড়লে অজানাই থেকে যাবে।

হাওরকবির এবারের প্রকাশনা “হাওর পারের নাইয়া”, এখানকার নাইয়া মূলত কবি জীবন কৃষ্ণ সরকার।হাওরপারের ভাবুক মানুষ হিসেবে নিজেকে আবিষ্কার করেন জলে,স্থলে,কাদায়। গড়াগড়ি করে কাদা-জলে। হাওর জলের পাণ্ডুলিপিতে লিখেন মনের গহীনের অনুক্ত কথামালা।
পাঠকের সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, “হাওর পারের নাইয়া” কাব্যগ্রন্থটি প্রকৃতির সুমিষ্ট রস,জল-জোছনার মিতালি, দোয়েল-কোকিলের সুর ও হাওরের প্রকৃত নির্যাস।
মানুষের দুঃখে ব্যথিত হয় যে আত্মা সে আত্মাই তো পবিত্র। হাওরকবি জীবন কৃষ্ণ সরকার হাওরপারের জনপদের মানুষের দুঃখে ব্যথিত হন। সিলেট সুনামগঞ্জের মানুষ যখন ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হাওরকবি তখন লিখেন,
“বিনা দোষে হানা দিলি এই হাওরের মাঝে
রক্তক্ষরণ হচ্ছে মোদের হৃদয় ভাঁজে ভাঁজে”।

হাওরপারের মানুষদের সুখ,দুঃখ গীতিকা ছাড়াও কাব্যটিতে উঠে এসেছে দেশের বর্তমান সমসাময়িক বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গ। এখানে কবি দৃঢ়কণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন, “শূন্যই যদি হতে হয় আমাকে, তবে আমি মহাশূন্যই হবো” অথবা দেখিয়েছেন কলমের শক্তি, প্রতিবাদী তেজোদৃপ্ত সুরে বলেছেন,”মরণ পর্যন্ত বাঁচনের গ্যারেন্টি চাই”
একটি স্বার্থক কাব্যের যতগুলো গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকার দরকার “হাওরপারের নাইয়া”তে তাঁর সবকটি সুনির্দিষ্টভাবে বিদ্যমান।

হাওরকবি জীবন কৃষ্ণ সরকারের বহু প্রতীক্ষীত কাব্যগ্রন্থ, মা ও মাটির রসে ভরপুর, হাওরের মানুষের প্রতিচ্ছবি “হাওর পারের নাইয়া” এর উত্তরোত্তর সফলতা ও পাঠকপ্রিয়তা কামনা করি।

জেনারুল ইসলাম
কবি ও গল্পকার

সূচীপত্র

১। কবিতা তুমি নেমে এসো হাওরে
২। কি পেয়েছিস বল
৩। পৃথিবী তেলবাজদের
৪। জলে জলাময়
৫। আমিই ভিআইপি
৬। বন্যার অন্যায়
৭। নীলাদ্রী
৮। হাওর
৯। গৃহহীনের কান্না
১০। হাওর পারের জন্ম মোদের
১১। জলমহাল
১২। হাওর পারের নাইয়া
১৩। একটি শিক্ষা সফর,একটি স্মৃতিময় দিন
১৪। কবিদের থাকতে নেই যা
১৫। প্রণয় তুমি চিরকালের,চিরদিনের
১৬। জলের উপর বাসা
১৭। হৃদয়ে তুমি বঙ্গবন্ধু
১৮। শব্দেরা অশ্লীল নয়
১৯। হাওরবাসীর দুঃখ
২০। কৃপা করো হে দয়াময়
২১। ত্রাণ!
২২। কাল বৈশাখীর ঝড়
২৩। জাগো হৃদয়
২৪। স্মৃতির ১৮
২৫। সিরাজ উদ্দিন স্যার
২৬। শূন্যের উপর বসত
২৭। গণিত আমার ভালোবাসা
২৮। হাওর পারে জন্ম আমার
২৯। মরণ পর্যন্ত বাঁচনের গ্যারেন্টি চাই
৩০। হাওর পারের কুমির
৩১। সাম্প্রদায়িকতার চাষ!
৩২। জাঙ্গাল ভাঙ্গার পানি
৩৩। দোয়েল পাখি
৩৪। আমাদের সুফিয়া
৩৫। শুভ্রতাহীন এই নগরী আমার নয়
৩৬। শূন্যই যদি হতে হয় আমাকে, তবে আমি মহাশূন্যই হবো
৩৭। মানুষ আমার ধর্ম দেবতা
৩৮৷ বেকুব ফিরে এলে সৃষ্টিরা নির্বাসনে যা
৩৯। সত্য হবে নির্বাসিত!

উৎসর্গঃ

শ্রদ্ধেয় পিতা শ্রী সুধীর রঞ্জন সরকার
ও শ্রদ্ধেয় মাতা শ্রী মিলন রাণী সরকার

১। কবিতা তুমি নেমে এসো হাওরে
কবিতা তুমি দুঃখ খোঁজো,তুমি মানুষের হাহাকার খোঁজো,খোঁজো মাানুষের আর্তনাদ! তুমি কি চাও ফুটিয়ে তুলতে মানুষের নিয়ত দুর্দশার চিত্রপট!
আর এসব তুমি খোঁজে পাচ্ছনা বুঝি?
তবে আর তিলেক দন্ড ক্ষেপণ নয়,
কবিতা তুমি এক্ষুণি নেমে এসো হাওরে
এখানে দুঃখেরা দলবেঁধে খেলা করে, হাহাকারেরা সারি বেঁধে হানা দেয় নীড় থেকে নীড়ে, সকাল,দুপুর,রাত কিংবা রাত গভীরে।

কবিতা, তুমি অবলার ক্রন্দন লিখতে চাও, লিখতে চাও ভীটে হারা গৃহ হারা সম্বলহীনের কথা?
এসব যে হাওরের নিত্য দিনের সাথী!তুমি লিখবে কতো ছত্র,কতো স্কন্দ,কতো ফর্মা,কবিতা তুমি নেমে এসো হাওরে।

উতলা নদীর পার ভাঙ্গে, অতি বৃষ্টির অতিথিপনা,খড় ভাসানো জলস্রোত,বজ্রপাতে পল্লী মায়ের বুকশূণ্যতা,শিলাপাতে ফসলহানি, কিষাণ-কিষাণীর হাহাকার,সবই যে আমাদের ঐ হাওরগুলোতেই ঢুঁকড়ে মরে,
কবিতা,তুমি আর কি খোঁজতে চাও,আর কি দেখতে চাও,তানাহলে আর কালক্ষেপণ নয়,আর ক্ষণ গণনা নয়
তুমি সমীরণবেগে নেমে আসো আমাদের হাওরে।

৮/৭/২০১৮, লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ,বংশীকুন্ডা।

২। কি পেয়েছিস বল
বন্যা তুই কি পেয়েছিস বল?
বিনা হেতু ফুলে ফেঁপে
সব করিলি তল?
গোলের গরু ভাসিয়ে নিয়ে
করলি নিঃসম্বল
কি পেয়েছিস বল?

বৃষ্টি হলেই তোর গতরখান
যায় যে কেনো ফেঁপে,
কি পরিমাণ ক্ষতি করিস
দেখছিস কভু মেপে?
তোর কারণে বসত ভিটা
হয় যে বারিতল
কি পেয়েছিস বল?

তোর এই শক্তির উৎস কোথায়
বলবি মোদের কাছে
দেখবো আরো কি ক্রোধ আছে
ঐ দানবের কাছে
প্রাণ থাকিতে পেছপা আর নয়
ধ্বংসিবো তার মূল
কি পেয়েছিস বল?

সবার উপর স্রষ্টা আছেন
এই কথাটা জানিস
ক্ষেপলে তিনি এক নিমেষে
করবেন তোদের ফিনিস
পালানোর আর পথ পাবিনা
জানিস বন্যা ঢল
কি পেয়েছিস বল?

নিলয়,পার্থদের বাসা,মেজরটিলা
১২/০৭/২০১৯
৩। পৃথিবী তেলবাজদের!

কি চমকে উঠলেন? আমার মনে হয়না চমকে উঠার মতো কিছু বলা হয়েছে।ধ্রুব সত্য যখন দাঁড়ায়ে দুয়ারে,তখন চমকে উঠার মতো কি আছে বলুন?

অফিস,কোর্ট,রাজনীতি,লোকালয়,সবি যে তেলবাজদের দখলে! “তেল মর্দন যত বেশি,চলার রাস্তাও তত মসৃণ”
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া চলে যাবেন অনায়াসে নিমেষেই! জয় হয়ে যাবে মনস্কাম ক্ষণিকেই,স্বপ্ন বলতে কিছুই থাকবেনা,সবই হবে বাস্তব,রাজমুকুট শোভিত হবে নিজ শিরে।কেবল সুন্দর, সত্যরা চলে যাবে নির্বাসনে,চাপা পরে যাবে কিছু আর্তনাদ, তাতে কিছুই যায় আসেনা এই সমাজ,এই দেশ তথা ধরিত্রীর!

আর যখনি তেলের আধিক্য হৃাস পাবে ,তখনি স্বপ্ন রুপ নেবে দুঃস্বপ্নে,চাওয়া আর পাওয়া দু ভাই চলে যাবে নির্বাসনে,কাম নদী হারাবে তার গতিপথ!জীবননদী হয়ে যাবে সেচ বিহীন শস্যালয়ের মতো,পকেট হবে সহস্র শৈবাল ঘেরা হৃদ,খসে পড়তে পারে মুকুট,মুন্ডদেশ,সেই সাথে টলে যেতে পারে গদি।এসবই হবে, হচ্ছে অহরহ কেবল একজনের তৈল মর্দন হৃাস তো অন্যের বৃদ্ধি,সোজা বাংলায় সেই তেলের তেলেসমাতিতে।

আমি যান্ত্রিক গাড়ি এবং মানবগাড়ি দুটোতেই একটা অদ্ভূত মিল দেখতে পাই।দুটোই তেল নির্ভর।তেল আছে তো চলবে,তেল নেই তো দুলবে।এই যখন অবস্থা তাহলে বলাই যায় আগাম পৃথিবী তেলবাজদেরই! আক্ষেপেই বলতে হয়, ‘সত্য’ বাবাজি তুমি নির্বাসনেই থাকো,যদি কভু তেল ছাড়া যান চলার দিন আসে তবেই না হয় তুমি তাতে চড়েই এসো!
পৃথিবী তেলবাজদের!

৫৫,উম্মরকবুল,লাউয়াই,দক্ষিণ সুরমা,সিলেট
৪। জলে জলাময়
বন্যা ঢলে হাওর পারে জলে জলাময়
সব কিছু ভাসিয়ে নিচ্ছে তা কি প্রাণে সয়?
গৃহস্থের খঁড় খুটো সবি গেলো জলে
হালের দুটো গাভী ছিলো তাও ভাসলো ঢলে।
বন্যা ঢলে সদলবলে হাওরে দেয় হানা
কতো ক্ষতি হয় হাওরের যায়না সব জানা।
হাওরবাসী অন্ন ফলায় সব লোকেদের জন্য
আজ কেনো সব লোকেরা হলো এতো জগন্য?
আসেনা কেনো হাত বাড়িয়ে হাওরবাসীর তরে
তাহলে তো একটু হলেও দুঃখ যেতো দূরে।
দেশবাসী সবার তরে থাকবে আহ্বান
এমন বিপদে এগিয়ে আসবেন,বাঁচাবেন তাদের প্রাণ।

১৪৮ বসুন্ধরা,দর্জিবন্দ,রায়নগর, সিলেট।
১২/০৭/২০১৯

৫। আমিই ভিআইপি

আমিই ভিআইপি যার ডাক নাম ‘চাউলচোর’
বস্তার বস্তা চুরি করলেও ঠিকই আমি রাজপুত্তুর
আমিই ভিআইপি যার ডাক নাম চাউলচোর!

আমাকেই রাখা হয় প্রটোকলে
যদিও লোকেরা আমায় বাটপার বলে
শত হাজার গালিতে কি আসে মোর যায়
লোকেরা না বুঝে কেন যে চিল্লায়
চুরিতে জেলে গেলেও আমি!
খালাস হই বেকসুর!
আমিই ভিআইপি যার ডাক নাম চাউলচোর।

দেশে দুর্যোগের যখন হয় ঘনঘটা
চাউল, তেল চুরি করে হই কইলজা মোটা
পাবলিকে ধৃত হলে খেতে হয় মুগুর
সমস্যা নেই ছুটিয়ে নেয় নেতা যে শ্বশুর!
আমি তো আর ফকির নই ভাই!
ধন সম্পদ ভরপুর!
আমিই ভিআইপি যার ডাক নাম চাউলচোর!

আমার আছে ভিসা কার্ড গরীবের কি আছে?
আমার মতো চাউল চোরেরাই বিদেশ ভ্রমিতেছে
ভিআইপি টিকেটে আমরা ঘুরাফেরা করি
তোদের জীবন এমনি যাবে করি মরি মরি
তাই তো চুরির নেশায় আমি,
হয়েছি বেভোর!
আমিই ভিআইপি যার ডাক নাম চাউলচোর!

দেশে যখন “করোনা” দিয়েছে ভাই হানা
আমরাই ভিআইপি দেখো বলতে নেই মানা
আমাদের জন্য হবে বিশেষ হাসপাতাল
কারণ ভিআইপি মোরা তোরা যে মাকাল!
দেশের হাসপাতাল হলেও মনে হবে আছি সিঙ্গাপুর!
আমিই ভিআইপি যার ডাকনাম চাউলচোর!

আমার মতো ভিআইপি ভাই আর কে আছে বলো?
চাউলচোরই আসল ভিআইপি চৌদিকে রব তুলো
আমজনতা কিছু আছে না বুঝে ভাই হাসে
সরকার বাহাদুর মোদের ঠিকই ভালোবাসে!
না বাসলে কি এতো নিউজেও আমরা হইনিকো ফতুর!
তাইতো আমিই ভিআইপি, যার ডাকনাম চাউলচোর!

০৯/০৪/২০২১
মেজরটিলা,নিলয়,পার্থদের বাসা

৬। বন্যার অন্যায়
বন্যা তুই অন্যায় করে আসলি হাওর পারে
ঘরবাড়ি আর গরু বাছুর সবই নিচ্ছিস কেঁড়ে।
তোর কারণে স্কুল, কলেজ সবি হলো বন্ধ
এতো দুর্ভোগ দেখার পরো তোর চোখ কেনো অন্ধ?
অন্ধ চোখে বন্দী হয়ে দেখলিনা ফিরিয়া
বাসের সম্বল ভাসিয়ে নিচ্ছিস এ কেমন তোর হিয়া?
বন্যা তুই অন্যায় করলি ভাসিয়ে মোদের সব
বিনা দুঃখে আমরা কভু হইনা সরব।
বিনা দোষে হানা দিলি এই হাওরের মাঝে
রক্তক্ষরণ হচ্ছে মোদের হৃদয় ভাঁজে ভাঁজে।
প্রভুর কাছে দিলাম বিচার করে ফরিয়াদ
বন্যা যেনো এই অন্যায়ের পায়গো শাস্তির স্বাদ।
সেই সাথে প্রার্থনা করি পরম প্রভুর কাছে
বন্যা যেনো এই রুপে আর হাওরে না আসে।

১৪৮,বসুন্ধরা,দর্জিবন্দ,রায়নগর,সিলেট
১২/০৭/২০১৯

৭। নীলাদ্রী
নীল থেকে নীলাদ্রী
তুমি যদিও নয়কো হিমাদ্রী
তবু তুমি রয়েছো শত সহস্র মননে
তোমার ঐ নীল সলিলের আকর্ষণে।

নিয়ত অযুত ভ্রমণ বিলাসীরা যায় তোমায় দর্শিবারে
তুমি যে মায়াবী,মায়ার আঁকর,এখন আর তা কে না জানে?
তাই তো সময় পেলেই মন চায়, তোমায় হেরিবারে।

বিকেল বেলার উতলা হাওয়া
মেঘালয়ের মেঘো বরণ,শিলদলের নীরবিপনা
যেনো অমলিন করে তুলেছে তোমাকে।আমি যে
তোমারি প্রেমে হাবু ডুবু প্রাণ এক।
স্বপ্ন নয় সত্যিই বলে দিলো আজ আমার বিবেক
তুমিই হবে বাংলার কাস্মির, হাওরপুত্র হে নীলাদ্রী লেক।

কেন্দ্রীয় হাওরসাহিত্য গণপাঠাগার,বংশীকুন্ডা
১৬/০৩/২০১৮

৮। হাওর

হাওর পাড়ে বাসা আমার
হাওর পাড়ে বাড়ি
চৈত্রমাসে ফসলের ক্ষেত
দেখতে মনোহরি।

বর্ষাকালে হাওর মাঝে
ঝিলমিল করে পানি
সেই পানিতে ট্রলার নিয়ে
চলি উজান ভাটি।

মাঝদুপুরে হাওর মাঝে
ধরে মাছের খাঁজা
তুঁড়ি দিয়ে মাছ ধরতে ভাই
লাগে ভারী মজা।

তারপরে ভাই কত রঙ্গের
শাপলা ফুল ফুটে
মুট ভরিয়া ফুল তুলিয়া
নৌকা লাগাই ঘাটে।

শাপলা ফুল আর মাছের ঝুল ভাই
খেতে খুবই মজা
এমন স্বাদ আর ভুলবো নাকো
যদিও খাই পিজা।

হেমন্তে ভাই হাওর মাঝে
আমরা সিঁচি ডোবা
নানান রঙ্গের মাছ দেখে তাই
সকলেই হই বোবা।

বিশ্বাস আর অবিশ্বাস করা
রইলো তোমার উপর,
একবার হলেও যাইবা তোমরা
দেখতে মোদের হাওর।

০৩/০২/২০১৩
১৩৬,বসুন্ধরা,দর্জিবন্ধ,সিলেট।

৯। গৃহহীনের কান্না
আমরা বড়ো অসহায়,হাওরগর্ভে যাদের জন্ম,
হাওরেই যাদের বাস,বিধাতার নিয়মিত কোপানলের অংশই যেনো আমরা,নচেৎ হাড়খাটুনির অর্জন কেনো
নিয়ত ভাসিয়ে নেবে জলে?

ফি-বছরই বন্যার হানায় আমরা হই সহায় সম্বল হীন,হই গৃহহীন।আমাদের গৃহহীনের কান্না কে শোনবে বলো? অট্টালিকায় বাসকারী কি কভু বুঝবে গৃহহীনের আহাজারি?
তবু প্রভুর কাছে চাওয়া এই অবেলা
লোকে যাহাই করুক প্রভু,তুমি করোনাকো হেলা।
তরাও মোদের নিমেষক্ষণে বন্যার কবল হতে
সুন্দর ভাবে বাঁচতে চাই আমরাও এ ধরণীতে।

প্রতীকদের বাসা,রায়নগর,সিলেট।
১২/০৭/২০১৯

১০। হাওর পারে জন্ম মোদের

হাওর পারে জন্ম মোদের
হাওর পাড়ে বাসা
একটুখানি বন্যা হলেই
বাঁচার নেইকো আশা

তবুও ভাই বাঁচার জন্য
ভয় করি না কিছু,

যদিও দুঃখ,দুর্দশা

লেগেই আছে পিছু।

ক্ষণিক সময় পেরুলেই ভাই
দুঃখ যাই যে ভুলে
মনের সুখে হাওর বুকে
গান গাই দলে দলে।

বছর বছর ফসল ফলায়
এই হাওরের মানুষ,
প্রায় বছরই বন্যার পানি
সবি করে দেয় তুষ।

হাওর পারে তখন চলে
নিদারুন কান্নার রোল
মনের দুখে সবাই বলে
ধান চাষাবাদই ভুল।

বর্ষা শেষে আবার যখন
পৌষ মাঘ মাস আসে,
চাষ তখন ঠিকই করে
চির অভ্যাসের বশে।

এই ভাবেতে হাওরবাসীর
চলছে জীবন গাড়ী,
অতীত স্মৃতি ভুলেই মোরা
বাঁচার জন্য লড়ি।
১৪/০৪/১৭
কবিকুঞ্জ,বাট্টা

১১। জলমহাল

জলমহাল পাঁচ অক্ষরের একটি শব্দ হলেও এর
পেছনে রয়েছে অনেক বেদনা বিদূর কথামালা।
কোন এক সময় এই জলমহালগুলোই ছিল ভাটিবাংলার প্রাণ।যেখানে বাঁধা থাকতো অনেকের জীবন জীবিকার সন্ধান।

এক সময় জলমহালগুলো কানায় কানায় পূর্ণ ছিল মৎস্যরাজিতে।গভীর রাতে হ্যাজাক নিয়ে বের হতো হাওরের মানুষজনেরা।দেখতো মাছের নৃত্য,স্বীকার করতো হরেক রকম জলমীনদের।

আজ আর সেই দিন নেই,নেই সেই রাত যখন দল বেঁধে বের হতোম ঐ জলমহালগুলোতে জলমীন শিকারিতে,ইজারাদের কবলে সব জলমহাল।
তাইতো আজ হারিয়েছি মনোবল,ফিরে পেতে সেই দিন কেবল পরম প্রভুই একমাত্র সম্বল।

নিলয়,পার্থদের বাসা,মেজরটিলা
১২/০৬/২০১৯

১২। হাওর পারের নাইয়া

হাওরপারের নাইয়া আমি
থাকি হাওর পারে
সকাল থেকে সন্ধ্যায় আমি
থাকি পারাপারে।

কতক সময় রাত্রি দশটা
খেয়া বাইতে হয় যে
একদিন খেয়া না পারিলে
উপোষ থাকি সবে।

ঝড় ঝঞ্চা আর মেঘ আসিলেও
বাইতে হয় যে তরি,
তরিঘড়ি সবাই করলেও
আমি রাত্রেই ফিরি।

বর্ষাকালে গ্রাম থেকে গ্রাম
নৌকা নিয়ে চলি
পয়ঁসাপাতি না দিলে কেউ
কিছুই নাহি বলি।

ক্ষুধায় কাতর হয়ে আমি
মাইনে চাইলে কভু
রেগে অনেক মারতে আসে
রাগ করিনা তবু।

মনে ভাবি পরম প্রভু
তুমিই সৃষ্টি প্রলয়
তোমার কাছেই শেষের দিনে
পাই যেনগো আশ্রয়।

০৮/০৭/১৮
লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ।

১৩। একটি শিক্ষা সফর,একটি স্মৃতিময় দিন

ফেব্রোয়ারী ২০১৬। ভোরের কাক ডাকছে,হঠাৎ ঘুম ভাঙলো আমার,
মা ডাকছেন কিরে জীবন, তোর না আজ বইমেলায় শিক্ষা সফরে যাবার কথা,উঠ বাবা,নাক মুখ ধূয়ে শীগ্র ভাত খেয়ে নে।

তখনি আমার ধীরে ধীরে সব কিছু স্মরণ হতে লাগলো।ভাবতে লাগলুম আমার তো সাড়ে ছ-টায় বংশীকুন্ডা কলেজ ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা! তারপর যাবো অমর একুশে বই মেলায়,কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে যোগ দেবো অপরুপ মিলন মেলায়,আর আমি কিনা এখনো বিছানায়?

শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠে গেলুম বিছানা থেকে
মুখ ধূঁয়ে শীগ্রই কিছু অন্নাহার করে নিলুম।মায়ের হাতের রান্না বড়ো সুস্বাদু,কিন্তু ভ্রমণে বেড়োবো বলে যৎ সামান্যই খেয়ে নিলুম।তারপর গৃহ ছাড়লুম ঠাকুর প্রণাম করে,সাথে মা জননী হাঁটতে লাগলেন পিছু পিছু।কদম শতেক হাঁটার পর মা আমাকে দাঁড় করিয়ে পায়ের ধূলি কপালে দিয়ে আশীর্বাদ করে বললেন ওরে খোকা,এতো বড়ো শহরে যাচ্ছিস,একটু সাবধানে চলিস বাবা।

মায়ের কথা ভাবতে ভাবতে পেরুলুম আমার হাজারো স্মৃতির আঁকর মনাই নদী,যে নদীতে দলবেঁধে সাঁতার কেটে কাটিয়েছি আমার ছেলেবেলা।পারের নৌকো থেকে তীরে পৌঁছেই মিনিট তিনেক হেঁটে পৌছুলুম কাংখিত বংশীকুন্ডা কলেজে।দেখলুম শিক্ষার্থীদের আনন্দের হই হুল্লোড়,আমাকে পেয়ে তাদের আনন্দ যেনো বেড়ে গেলো আরো বহুগুণে।

ক্ষিয়দক্ষণ পর আসলেন অধ্যক্ষ মহোদয়,দিলেন সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের প্রতি,তারপর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হলো ভ্রমণের প্রথম পর্ব।গেলুম বাদশাগঞ্জ পর্যন্ত মোটর সাইকেল যোগে।সেখানে অপেক্ষমান ছিলো বাস গাড়ি।মোটর সাইকেলে যেতে যেতে দেখলুম শ্যামল শোভিত গ্রামগুলি,দেখলুম সবুজ ঘাসের মনোরম দৃশ্যমন্ডিত তটিনীর তট।দেখলুম কালো,ধলো, খয়েরি হরেক রকমের গৃহপালিতা,চোটাছুটি করছে আপনমনে।কি অপরুপ,নয়নলোভা,চিত্তহারা এই দৃশ্য। মুহুর্তে প্রাণটা জুড়িয়ে গেলো আমার।

বাসে যেতে যেতে দেখলুম কতো স্রোতস্বিনী,কতো হাওর,সবুজ ঘেরা ধান সাগর,মাঠ,রাখালের গাভী চড়ানো,আনন্দে শিহরিত হয়ে গেলুম মুহুর্তে।মাঝ দুপুরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন,অপরুপ প্রাকৃতিক দৃশ্য,স্মৃতি ভাস্কর্যে সম্মিলিত ফটোগ্রাফ।সব মিলিয়ে হৃদয়ের জড়তা কেটে পেলাম যেনো মুক্তির স্বাদ।

দুপুরের লাঞ্চ সেরে যখন আবারো বাসে চড়ছিলাম,তখন শিক্ষার্থীরা গান করছিলো আপন মনে,শুনতে শুনতে একসময় আমিও যোগ দিলাম তাদের দলে,গাইলুম হরেক রকমের লোকগীতি,হারিয়ে গেলুম আনন্দের স্বর্গপুরে মুহুর্তের জন্য।

অবশেষে সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায় পৌছুলুম প্রাণের আকাংখিত বই মেলায়।দেখলুম কতো সাংবাদিক,মিডিয়া কর্মীরা অপেক্ষা করছেন আমাদের বরণ করার জন্য।অজো পাড়াগায়ের মানুষ আমরা যেনো স্বর্গ হাতে পেলুম।তারপর ঘুরলুম বইয়ের স্টলে স্টলে,কিনলুম এক এক করে শখের বইগুলো।ক্যমেরার ফ্রেমে বন্দী হলুম দেশ সেরা লেখক আনিসুল হক,শাকুর মজিদ সহ গুণী লেখক, কবি, সাংবাদিক, শিল্পীদের সাথে। বড়ো স্বপ্নের মতো মনে হলো সেই দিনটি।

মেলাপর্ব শেষে গেলুম অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের নিকটে,ধীরে ধীরে চললুম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে,সেখানেও ছিলো অনেক গুণীজন,আমাদের শিক্ষার্থীরা শোনালো জারিগান,ধামাইলগান।উপস্থিত শ্রোতাদের মন্ত্রমুগদ্ধ করে দিলো তারা।

কতো দিন যায়, কতো রজনী আসে,তবু সেই দিনটির কথা আজো আমার হৃদমঞ্জিলে ভাসে,স্মৃতির মিনারের চূড়া হয়ে রইলো সেই দিনটি,গেঁথে থাকলো আমার হৃদয় অন্তকুঠরে।

৫৫,লাউয়াই,দক্ষিণ সুরমা,সিলেট।
০২/০৯/২০২১

১৪। কবিদের থাকতে নেই যা
কবিদের কান থাকতে নেই
থাকতে নেই ভাই চোখ
কারণ,সত্য বললে বলবে তোমায়
ভেঙ্গে দেবো বুক।

কূটরাজনীতিক,গেঁয়ো কুকুর,
আরো যতো শকুন
ঘেউ ঘেউ করে প্রবল বেগে
আসবে তেড়ে তখন।

বুঝিবেওনা কবি তুমি
কি বুঝাতে চাও
বলবে নাক গলিও না আর
অন্ধ হয়ে যাও।

এই হলো সমাজের চিত্র
নয়কো বিন্দু মিছে
তিলেক সাচ্ছা বলতে গেলেই
শত্রু লাগে পিছে।

তাই বলে কি কবির কলম
হয়ে যাবে জব্দ
চোখের সামনে যা তা দেখে
হবে কি নিঃশব্দ?

অবশ্যই না এমন ধর্ম
কবিদের কভু নয়,
লিখতে লিখতে জীবন গেলেও
মাথা নোয়াবার নয়।

২৩/০৯/২০২৩
৫৫,উম্মরকবুল, লাউয়াই,দক্ষিণ সুরমা,সিলেট

১৫। প্রণয় তুমি চিরকালের,চিরদিনের

একটা সন্ধ্যা এতো বিমর্ষ হতে পারে,
একটা রাত্রি কতটুকু নিদ্রাহীন হতে পারে তা জীবনে কখনো বুঝতে পারিনি যেটুকু বুঝতে পেরেছি প্রণয় তোমার অকাল প্রয়াণে,
প্রণয় তুমি যে চিরকালের,চিরদিনের ভাই,
তোমায় ভুলবো কি করে ?

তুমিহীনা এই পৃথিবীটাতে আমি যে আজ বড্ড একা
চারদিকে শুধু ধূধূ মরুভূমি, যে দিকে তাকাই যেনো অসহায়ত্বের ছায়া,কোথায় যাবো,কার কাছে যাবো অশান্ত মনের শান্তবানী আনতে?
তুমিহীনা এ পৃথিবীটা আমাদের কাছে যেনো অন্তঃসার শূন্য এক কাষ্ঠ।

সময় যে বড়ই নিষ্ঠুর কভু নাহি শুনে কাহারো কথা,সময়ের কাছে পরাজিত মোরা সবে।
কাল গহীনের অতলে পড়ে সবাইকে ছেড়ে যেতে
হবে একদিন পৃথিবীর আল ছেড়ে।
তাই স্রষ্টাকে ডাকি বারে বারে
ওপারে ভালো থেকো ভাই,
এই প্রার্থনা করি স্রষ্টারই দরবারে।

২৫/০১/২০১৯
১৪৮,দর্জিবন্দ,রায়নগর,সিলেট

১৬। জলের উপর বাসা

জলের উপর বসত করি
জলের উপর বাসা
জলেই মোরা বাঁচি -বাড়ি
জলেই বাঁচার আশা।

বর্ষা কালে জল আসিলে
লাগে আনন্দের ঢেউ
মুক্ত জলে সাঁতার কাটতে
ভুল করে না কেউ।

বাড়ি বাড়ি ঘাটে ঘাটে
জলেরই সমাহার
মাছ ধরতে আর গোসল করতে
আনন্দ যে সবার।

কিন্তু রে ভাই বন্যা এলে
সবই ভাসে জলে
চোখের সামনে নিঃস্ব হলে
কেউনা কথা বলে।

চেয়ারম্যান, মেম্বার, মাতুব্বর
কর্তা,ব্যক্তি যত
তিল সাহায্যেও নয়কো তারা
বলবো আমি কতো।

জলের কৃপাই সম্বল
জলই বাঁচার আশা
জলের উপর থাকি মোরা
জলেই বাঁধি বাসা।

০৬/০৬/১৯
কেন্দ্রীয় হাওরসাহিত্য গণপাঠাগার

১৭। হৃদয়ে তুমি বঙ্গবন্ধু

হৃদয়ে তুমি বঙ্গবন্ধু
থাকবে চিরকাল
যতই থাকুক মুর্খতা আর
হিংসার বেড়াজাল।

তিমির হতে আলোর পথে
পথ দেখালে তুমি
তোমায় পেয়ে ধন্য মোদের
প্রিয় জন্মভূমি।

যে সময়ে জন্মভূমি
অশান্তির ছোবলে
স্বাধীনতার ডাকটি তুমি
সেই সময়েই দিলে।

এর চেয়ে কি হতে পারে
মোদের সুসংবাদ
তাইতো মোরা সবাই মিলে
গর্ব করি আজ।

তোমার মতো বিশ্ব মাঝে
নয়কো কেহ মহান
তোমার গুণেই শ্রেষ্ঠ তুমি
শেখ মুজিবুর রহমান।

১৭ই মার্চ ২০২২,উম্মরকবুল,লাউয়াই,দক্ষিণ সুরমা,সিলেট।

১৮। শব্দেরা অশ্লীল নয়

শব্দেরা অশ্লীল নয়,আমরা তাদের অশ্লীল পরিচিতি দেই,
আর তা সৃষ্টি হয় আমাদের অশ্লীল চিন্তন থেকে,
‘শব্দ’ বেচারা এখানে কেবল শিকারে পরিণত মাত্র।

তনু মনে ষড়রিপু বিরাজমান।ষড়রিপুর আদি রিপু ‘কাম’।সেই কাম থেকেই জন্ম কামাবেগ,তার থেকে জন্ম অশ্লীলতার।কাজেই যখনই কামাভিভূত হয় মন,
তখনই ‘শব্দ’কে কলুষিত করা হয় অশ্লীলতায়।
নিজ নেত্রে ভেসে ওঠে কাল্পনিক অশ্লীল ফটোগ্রাফ,
অসহায় ‘শব্দ’ তখনই বিসর্জিত হয়ে অশ্লীল রুপ ধারণ করে,প্রশ্ন হলো তার এই অবস্থা কে করে ?এর জন্য কে দায়ী?
হ্যাঁ, আমাদের চিন্তা,মনন,কামুক মগজই এর কারিগর!

অতএব হে মানব সন্তান,
“নিজের দোষ অন্যের গাঢ়ে বর্তানুর চিরায়ত অভিপ্রায়ই আজকের “অশ্লীল শব্দ”,
অন্তত আমার কাছে তাই মনে হয়।”

৫৫,উম্মর কবুল, লাউয়াই,সিলেট//০৭/০৬/২১

১৯। হাওরবাসীর দুঃখ

দুঃখ মোদের হাওরবাসীর
নিত্য চলার সাথী
কিছু সময় সুখে থাকলেও
বাকি সময় লাথি।

ঝড়ের লাথি,মেঘের লাথি
বন্যার লাথি খেয়ে
সুখে,দুখে চলছি মোরা
সময়ের ডাল বেয়ে।

সময় পুরোয়,জীবন পুরোয় না
কেমনে বুঝাই বলো
বুঝতে হলে তোমরা কেহ
হাওরপানে চলো।

দেখবে তখন ঝড়-তুফানে
কেমনে হানে আঘাত
ঘরবাড়ি সব লন্ডভন্ড
কৃষকের মাথায় হাত।

এর পরে ভাই অতি বৃষ্টি
দিনের পর দিন চলে
মুহুর্তেই সব তলিয়ে যায়
জাঙ্গাল ভেঙ্গে গেলে।

সোনার ফসল তলিয়ে কৃষক
কান্নাকাটি করে
এভাবেতেই চলছে জীবন
বছর বছর ধরে।

২৫/০৪/১৭
কবিকুঞ্জ,বাট্টা।

২০। কৃপা করো হে দয়াময়

কৃপা করো হে প্রভু ওহে দয়াময়,
করোনার আতংকেতে কাটতেছে সময়।
চলা ও বলা বন্ধ,ঘুম বন্ধ করে,
আর কতো চলবো প্রভু বলো না মোরে।

ভূমিষ্টের পর একি আমি দেখতেছি দৃশ্য,
আমি, তুমি সহ হে কাঁপতেছে বিশ্ব।
করোনাকে করো জয় ঐশ্বরিক গুণে,
তোমাতে থাকবো ঋণী নিয়ত ক্ষণে।

চৌকোণে মৃত্যুর কাফেলা সহেনা প্রাণে,
তুমি না বাঁচালে হে বাঁচবো কেমনে।
তাই সবে করজোড়ে করি প্রার্থনা,
অপেক্ষায় আছি শুনবো “ নেহি করোনা”।

১২ জুলাই ২০২১,উম্মরকবুল ৫৫,লাউয়াই,দক্ষিণ সুরমা

২১। ত্রাণ!
ত্রাণ!
খেয়ে বাঁচে গরীবের জান!
যে দেয় বাড়ে মান-সম্মান
পেতে গিয়ে গরীব-দুখীর
ওষ্ঠাগত প্রাণ।

ত্রাণ!
সেলফিবাজদের প্রাণ
ছবিতে হতে চায় অম্লান
এক মগ চাল!সমস্যা নাই
তবু তো ভাই দান!

ত্রাণ!
দিতে নয়কো অসম্মান
ভেবোনা দিচ্ছ অনুদান
গরীবের হক,সেল্ফি থেকে
রেখো পরিত্রাণ।

২৯/০৪/২০২০
৫৫,উম্মরকবুল,লাউয়াই,দক্ষিণ সুরমা

২২। কাল বৈশাখী ঝড়

যবে থেকে জ্ঞান ফুটল বুঝতে পারি তখন
হাওর পারে জন্ম যাদের আমিও তাদের একজন।
এই হাওরে বয়ে যায় কতো কাল বৈশাখী ঝড়
ঝড়-কবলে দলে দলে ঢলে পড়ে কতো ঘর।
ঘরের তলে স্বপ্নগুলো পরে যায় কতো চাপা
স্বপ্ন কতো দুঃস্বপ্ন হয় যায় কি তাহা মাপা?
এই হাওরের বুকে জন্মে কতো সোনালী ধান
কে জানিতো আঘাত হানবে শিলপাথর ও তুফান?

একেক রাতে ঝড় তুফানে সব পরে যায় ঝড়ে
এদের হাতেই ফি-বছরে কৃষক বাঁচে মরে।
কৃষক বাঁচলে সবাই বাঁচে,বাঁচে সোনার দেশ
প্রভুর কাছে করি ফরিয়াদ করোনাকো তাদের শেষ।
প্রভু তুমি আপন করে করোনাকো মোদের পর
বোশেখ মাসে দিয়োনাকো আর কাল বৈশাখী ঝড়।

নিলয়,পার্থদের বাসা,মেজরটিলা,সিলেট।
১৭/০৫/২০১৯

২৩। জাগো হৃদয়

জাগো হৃদয় জাগো
আর ঘুম নয়,এক্ষুণী সময় জাগবার জাগাবার
এক্ষুণী সময় বন্যার্থদের পাশে দাঁড়াবার
তিলেক সময় নেইকো হাতে আর।

তোমাদের ভাই বোন আজ বন্যার জলে ভাসে
কে রে সেই নরপশু আড়ালে দাঁড়িয়ে হাসে?
ওরাও তো আদম সন্তান আজ কেনো ভুলে যাও
সুযোগ বুঝে তোমরাই কেনো সাম্যের গান গাও?

তাই আজ বলি ওহে মানব জাগাও বিবেকালয়
ওরাও মানুষ, তোমরাও মানুষ বলছি মিছে নয়।
আর দাঁড়িয়ে থেকোনা ওহে সুধী সুখী জনেরা
ওরা বাঁচলে তোমাদের বিপদেও দাঁড়াবে একদিন তারা
তাই হয়োনা হৃদয় হারা।

নিলয়,পার্থদের বাসা,মেজরটিলা,সিলেট
১২/০৭/২০১৯

২৪। স্মৃতির ১৮

তোমার সাথে দেখা হয়েছিলো কোন এক বিশেষ মাসের ১৮ তারিখ।ঝলমলে এক আলোর দিনে।
তুমি এসেছিলে এক পরীর বেশে,এক পড়ন্ত বিকেলে,আমার পাশে।

স্মৃতির মিনারে অম্লান হয়ে রয়েছে সেই দিনটি,
সেই দিনটি রয়েছে দিনলিপির ডাইরীতে।
কতো দিন যায়,কতো দিনে আসে,কেবল এই দিনটিই আমার চোখে ঝল ঝল করে ভাসে।

স্নিগ্ধতার পরশ নিয়ে তুমি এসেছিলে,
এসেছিলে আমারি প্রাণে,আমারি ধ্যানে।
তুমি চলে গেলে, শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনীতে
ভেঙ্গে গেলো আমার হৃদয়।চারদিকে কেবল হতাশায় ঘিরেছে আমায়।তোমার সামৃতি নিয়েই আছি আমি, কবে আসবে তুমি আমারি বাহুডোরে।

কবিকুঞ্জ,বাট্টা
১১/০১/২০২১

কতো রঙ্গের ছবি
গাঁ গেরামের ছবির পাশে
আঁকি রঙিন রবি।

বোশেখ মাসে অনায়াসে
আঁকি ধানের ছবি
নিমেষ তরে জাঙ্গাল ভাঙলে
যায় ফসলি ডুবি।

মনের দুঃখে নিজ বক্ষে
ভাঙা ছবি আঁকি
ভাঙা মনে ভাঙা ছবিই
আপন করে রাখি।

বর্ষাকালে বানের জলে
ভাসিয়ে নেয় যে ঘর
বছর বছর ঘটছেই এমন
না পাই কখনো ডর।

ঘর ভাসানি ছবিই তখন
রংতুলিতে আঁকি
শত দুঃখও ছবিগুলো
সংরক্ষণে রাখি।

নানান রঙের ছবি এঁকে
আমরা মিঠাই খিদে
ছবির মতই জীবন মোদের
বলতে নাহি দ্বিধে।

২৭/০২/২০১৮
কেন্দ্রীয় হাওরসাহিত্য গণপাঠাগার,বংশীকুন্ডা।

২৯। মরণ পর্যন্ত বাঁচনের গ্যারেন্টি চাই
জন্মের পর প্রথম যবে আঁখি মেলে
অবলোকন করেছিলাম এই ধরণীর মায়ামুখ,নেত্রদ্বয়ে বিম্বিত করেছিলাম পুড়া মাটির ভিটেটিকে,
চিনেছিলাম আমার আপন জন্মনিলয়কে,
আজ যোজনকাল পরে মনে হলো
এ যেনো এক অচেনা আলয়!

চৌদিকে হা-হুতাশ,হতাশা,বিষাদকণ্ঠ
যখন আমার শ্রবন-ইন্দ্রিয়কে সঙ্গী করে সারাক্ষণ
তখন এই বসুধাকে আমার
অচেনা এক বিষাদের আঁতুড়ঘরই মনে হয়।

হে হে হে অচেনা এক বিষাদের আঁতুরঘর!
হত্যা,খুন,গুম,দ্রব্যমূল্যের নাভিশ্বাস যখন আমার নিঃশ্বাসকে স্তব্দ করে দেয়,দুর্নীতি,কূটনীতি অপরাজনীতি যখন আমাকে, আমার বেঁচে থাকার পরিবেশকে বিষিয়ে তুলে
তখন বিধাতার কাছে হৃদয় থেকে একটি দাবিই গ্রথিত হয়-

হে প্রভু আমি মরতে চাই,তোমার ডাকে সারা দিয়ে ফিরে যেতে চাই তোমার আরশে,
কিন্তু হে প্রভু-
“মরণ পর্যন্ত বাঁচনের গ্যারেন্টি চাই” এই অবণী পরে,
আজ এটুকুই কেবলি চাওয়া প্রভু তোমারি দরবারে।

০৬/০১/২০২৩
৫৫,লাউয়াই,দক্ষিণ সুরমা,সিলেট

৩০। হাওর পারের কুমির

বর্ষা গেলো, শীতকাল এলো
জমবে এবার বেশি
কৃষক জেলে মাঝিদেরকে
দেবো গলায় রশি।

যতো খালবিল,হাওর আছে
দখল নিবো আমি
আরো আছে বিলের পারে
বোরো ক্ষেতের জমি।

সবগুলোই ভাই শোষণ করে
হবোই আমি আমীর
সবই সম্ভব আমি যে ভাই
হাওর পারের কুমীর!

হাওর পারে জাল পাতিয়ে
যে জেলে মাছ ধরে
তাদের ধরতে দেবো আমার
পেটোয়া বাহিনি ছেড়ে।

জাল ধরিয়েই ক্ষান্ত নই ভাই
খুঁজবো কে সেই লোকটি
আর যাতে ফেলেনাকো জাল
তাই ভাঙ্গবোই তাহার বুকটি।

আমার কাছে হউক সে ধনী
করবোই তাকে ফকির
সবই সম্ভব আমি যে ভাই
হাওর পারের কুমির!

১৪৮,বসুন্ধরা,২৩/০২/১৩
দর্জিবন্দ,সিলেট।

৩১। সাম্প্রদায়িকতার চাষ!

সাম্প্রদায়িকতার চাষ করেন আপনি?
সাম্প্রদায়িক কবিতা লিখেন আপনি? আপনি কবি! হে আপনি কবি, তবে ফুল(Fool) কবি আপনি,
অর্থাৎ বোকা কবি আপনি।
কবি কখনো সাম্প্রদায়িক হতে পারেনা,কবিতা কখনো সাম্প্রদায়িক হতে পারেনা।কবিতারা সকল কালের, সকল মানুষের,সকল ধর্মের।

সাম্প্রদায়িক প্রবন্ধ লিখেন আপনি,আপনি প্রাবন্ধিক! হে আপনি প্রাবন্ধিক তবে প্রতিবন্ধী প্রাবন্ধিক।পৃথিবীর রুপ,রস,বৈচিত্রতা কিছুই আপনার নজরে আসবেনা কারণ আপনি প্রতিবন্ধী! আপনার জানাই নেই একটি প্রবন্ধ একটি সমাজের, একটি দেশের বাস্তব প্রতিলিপি,সেটি ধর্মের গন্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়।

আপনি সাম্প্রদায়িক গল্প লিখেন,আপনি গল্পকার!
আপনি গল্পকার নন আপনি স্বল্পকার।আপনার দৃষ্টি স্বল্প,আপনার চিন্তা স্বল্প,আপনার ধ্যান স্বল্প,আপনার জ্ঞান স্বল্প।তাই আপনি গল্পকার নন স্বল্পকার। আপনার বোধে নেই একটি গল্প কোন জাতের, ধর্মের, সম্প্রদায়ের হয় না,একটি গল্প হয় সকল জাতের,সকল ধর্মের,সকল সম্প্রদায়ের প্রতিচ্ছবি।

অতএব হে সাম্প্রদায়িক কবি,প্রাবন্ধিক গল্পকার!
আশা করি সবই এখন পরিস্কার আপনি আসলে কি।তাই সময় থাকতেই সাম্প্রদায়িকতার চাষ থেকে বিরত থাকুন,পারলে সবজি চাষ করুন, নিজের এবং পরের কাজে আসবে, তবু সাম্প্রদায়িকতা চাষ করবেননা। সাম্প্রদায়িকতা চাষাবাদ করে নিজেকে হীনমন্য হিসেবে সমাজে পরিচিত করাবেননা।
মানবিক হোন,মানবের হোন,হিংসা, দ্বেষ পরিত্যাগ করুন, তবেই কেবল মানব নয় পরম প্রভু যিনি ত্রিভূবনের মালিক তিনিও হবে আপনারই।তবেই আপনি কবি,প্রাবন্ধিক,গল্পকার।

৪৭, প্রত্যয়, রায়নগর,সিলেট
১১/০৯/২০২১

৩২। জাঙ্গাল ভাঙ্গার পানি

হাওর জুড়ে ধান ফলেছে
দেখতে চমৎকার
কদিন পরেই তুলবে ঘরে
রুখবে সাধ্য কার?

এভাবেতেই বৈশাখ মাসের
দিন দুয়েক প্রায় গেলো
তৃতীয় দিন হঠাৎ করেই
বৃষ্টি শুরু হলো।

দেখতে দেখতে নদীর পানি
বৃদ্ধি পেতে লাগলো
চতুর্থ দিন বৃষ্টির সাথে
তুফান শুরু হলো।

তুমুল বৃষ্টির ফলে নদীর
পানি বৃদ্ধি পেলো
হঠাৎ পানির অধিক চাপে
জাঙ্গাল ভেঙ্গে গেলো।

জাঙ্গাল ভাঙ্গার পানি যখন
হাওরে প্রবেশিল
দেখতে দেখতেই কৃষকের ক্ষেত
ডুবতে শুরু হলো।

চোখের সামনেই সকল জমি
জলে ডুবে গেলো,
মাথায় হাত দিয়ে কৃষক

আলে বসে র’ল।

মনে মনে ভাবে কৃষক
ওগো ও দয়া ময়
তোমার তরেই সব সফিলাম
দেখে নিও নিশ্চয়।
২০/০৪/১৬

দাতিয়াপাড়া

৩৩। দোয়েল পাখি

দোয়েল পাখি,দোয়েল পাখি
একটু কথা কও
সাত সকালে আমায় ছাড়া
কেমন করে রও।

পূব আকাশে সূয্যি মামা
দেখতে বড়ো লাল
জানো নাকো তোমায় ছাড়া
পন্ড আমার সকাল?

তাইতো বলি দোয়েল পাখি
আমার কথা রাখো
মেলা থেকে ঘোড়া কিনবো
তোমার জন্য দ্যাখো।

১১.০৪.২০১৬, ১৪৮,দর্জিবন্দ,রায়নগর, সিলেট

৩৪। আমাদের সুফিয়া

আমাদের সুফিয়া
শুধু মাত্র চা খাইয়া
সারারাত জাগরণ করে,
বই পড়তে বসিয়া
নামে মাত্র শিখিয়া
চা তৈরির কাজটা সে করে।

চা খাওয়ার পরে তাই
পড়ায় বসার খবর নাই
মনে মনে কি যে সে ভাবে
জিজ্ঞাসিলে বলে তাই
খাতা আছে কলম নাই
খিলখিলিয়ে কেবলি সে হাসে।

১৮.১০.১২, ১৪৮,দর্জিবন্দ,রায়নগর,সিলেট

৩৫। শুভ্রতাহীন এই নগরী আমার নয়

যেখানে চলে তেলবাজদের দৌড়াত্ব,যে আকাশে ওড়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প,যে নদীতে ওৎ পেতে থাকে শুশুকেরা, যে কুন্ডে খেলা করে রাসেল ভাইপারেরা,যাদের ভয়ে মানুষ এন্টিভেনম সাথে করে চলে,নেই প্রাণ,নেই শ্যামলিমা,শুভ্রতা,চারিদিকে কেবলি হিংসার নিঃস্বাস।নিয়ত যেখানে হিংস্রতার চিত্রকল্প তৈরী হয়।স্বচ্ছতা, শুভ্রতাহীন এই নগরী আমার নয়।

আমি চিনিনা এই নগরীকে অথবা চেনার তিলেক প্রয়োজনও বোধ করিনা। যেথায় সৎ মননের বাস নেই,সৎ চিন্তার বাস নেই,যেথায় সকল উন্নয়নের কেবল সমালোচনা চলে,সৃজনশীলতা নিয়ে করা হয় অপচর্চা , মাফিয়া চক্রের হোতারা,কূপমুন্ডুকেরা যেখানে বাস করে, মানুষকে হেয় করার কূটরাজনীতির কারখানা গড়া হয়েছে যেই নগরীতে, ঐ নগরী আমার নয়।

যেখানে সুন্দরকে বান্দর বানানোর স্বপ্নে বিভোর থাকে অনেক কূটবাজেরা,সুন্দর স্বপ্নগুলোকে নিয়ত করা হয় সামাধি,ফুটন্ত গোলাপকে ফেলে যেখানে গোলাপের কাঁটা নিয়ে খেলা করা হয়,শুভ্রতাকে ঢেকে প্রচার করা হয় অজ্ঞতা,অসভ্যতা!
শুভ্রতাহীন এই নগরী আমার নয়।

১৩/০৯/২০২১
৪৭,প্রত্যয়,রায়নগর,সিলেট।
(প্রতীকদের বাসা)

৩৬। শূন্যই যদি হতে হয় আমাকে, তবে আমি মহাশূন্যই হবো

যে ধরণীতে আসার জন্য আমি লক্ষ কোটি সহোদরকে হারিয়েছি,যে আলোতে মুখ দেখাবার জন্য সর্বাগ্রে ভেদ করেছি গর্ভাশয় প্রাচীর,সেই ধরাতেই আমি যখন আজ অসহায় এক
কোথাও ‘রা’ শব্দ নেই আমাকে নিয়ে কারণ
না আছে আমার ধন,না আছে আমার জন,না আছে ঐশ্বর্য!
সেই ধরণীতেই যেনো আমি আজ অর্বাচীন এক।

মেদীনীর সুধা আমার জন্য নহে,হিমালয়ের মায়াবী বহ্নি আমার জন্য নহে,হিমাদ্রীর কল কল সুরধ্বনি আমার জন্য নহে
আমার অপরাধ!
আমি শূন্য,রিক্ত প্রাণ এক,আমাতে না আছে আলাদীনের চেরাগ,না আছে হীরক রাজার রাজ্য ভাগ,তাইতো রাঘবের দৃষ্টিতে আমি শূন্য,শকুনের দৃষ্টিতেও আমি হীনমন্য!
আসলে কি আমি তাই?

হে আমি তাই,আমি শূন্যই! তবে হে
“শূন্যই যদি হতে হয় আমাকে, তবে আমি মহাশূন্যই হবো”
শূন্যের ভেতর কিছু না থাকলেও মহাশূন্যে গ্রহ, উপগ্রহ,তারা,নক্ষত্র,নভোমন্ডল এমন কি অবনী সহ আপনি, সবাই যেখানে সমান্তরালে !
যেথায় চাইলেও না করা যায় হিংসা,দ্বেষ,লোভ,ক্ষোভ।
আমি সেটাই হবো।

আমাতেও সকল ধৈর্য,সকল কষ্ট,সকল ভালোবাসা,প্রেম,বিরহ,সকল অবহেলা,সকল অবমাননাকে ধারণ করবো,কাউকে দোষীবনা দুদন্ড আমি কভু
যদি সাথে থাকে আমার পরমেশ্বর প্রভু
হে হে হে হে হে জেনে রেখো ধরিত্রী ওগো
“শূন্যই যদি হতে হয় আমাকে, তবে আমি মহাশূন্যই হবো”।

০৩/০১/২০২২
মেজরটিলা,পার্থদের বাসা

৩৭। মানুষই আমার ধর্ম দেবতা

আমি মানুষ খুঁজি মানুষ,আকৃতির মানুষ নয়
হস্থ, পদ, চক্ষু, কর্ণ থাকিলেই কি মানুষ হয়?

যার রয়েছে হুঁশ জ্ঞান, রয়েছে মনুষত্যবোধ
আমার বিচারে সেই জন মানুষ আর সবি নির্বোধ।
মানবের ভেতর স্রষ্টা বিরাজ, জীবই স্রষ্টার গৃহ
মানব সেবা ব্যাতীত ধর্মে স্রষ্টা পাবেনা কেহ।
আগে মানুষ পরে ধর্ম এসেছে এই ধরাতে
মানুষ ছেড়ে মানুষ এখন মেতেছে রক্তের হুলিতে
মানুষ হয়ে মানুষ মারে দোহাই আবার ধর্মের
এ কেমন ধর্মের চর্চা, এ কেমন ধর্ম মানবের?
শান্তির জন্য ধর্ম এনে যদি হয় আবার অশান্তি
তাহলে বুঝিবে ধর্ম প্রচারে রহিয়াছে কোথাও ভ্রান্তি।
মানুষই আমার ধর্ম দেবতা মানুষেই প্রভুকে খুঁজি
মানুষেই বিরাজে নিখিলেশ্বর,তাই মানুষেরেই আমি ভজি।
১৬/১০/২০২১,লক্ষীপুর,সুনামগঞ্জ

৩৮। বেকুব ফিরে এলে সৃষ্টিরা নির্বাসনে যায়
এই শহরে সৃষ্টিদের বাস
ওরা বৃষ্টিনিলয়ে সৃষ্টি নিয়ে খেলা করে।
মহাকাশ অন্তরীক্ষে ওদের বিচরণ!
ওরা অবিরাম ছুটে চলে গ্রহ থেকে গ্রহাণু,
ওরা মঙ্গলের বুকে খোঁজে বেড়ায় জৈব অণু!

এই শহরের তনুমন সৃষ্টিশীল। ধ্যানে, জ্ঞানে,
চিন্তন মননে সৃষ্টিবিলাস বিরাজমান ওদের।
হিমাদ্রী,নিলাদ্রীর মতো সুবিশাল চিত্ত ওদের,
বেকুবের মতো ক্ষীণ প্রবৃত্তি নেই কারো,

“বেকুব ফিরে এলে সৃষ্টিরা নির্বাসনে যায়”

বেকুবদের অনুর্বর মস্তিষ্ক,ওদের নিউরণে ইবলিশের বসবাস,ওদের অগ্র-পশ্চাদ করোটিতে সদা ইবলিশ বিচরণ করে,ধমনীতেও তাই।
ওরা সৃষ্টি নয় ধ্বংস নিয়ে খেলা করতে পছন্দ করে।
কাজেই সৃষ্টিদের নয় বেকুবদের নির্বাসন চায়
সৃষ্টিশীল কায়ামন।

ওহে সৃষ্টিশীল অভিনিবেশ, বারংবার স্বাগত তোমাদের এই শহরে।
এই শহর তোমাদেরই,সৃষ্টিবীরেরাই এখানের রক্ষধার
কুরুক্ষেত্রে এরাই অর্জুন,অভিমূন্য
তাই সৃষ্টিবিলাসি বোধেরা করো অঙ্গীকার
এই শহরে সৃষ্টিরোধী বেকুববদনদের আখিঁপাত কভু নাহি হয় যেনো আর।

২৮/০৫/২০২২
৫৫ লাউয়াই,দক্ষিণ সুরমা,সিলেট
৩৯। সত্য হবে নির্বাসিত!

কলির পরে বলি এলো বলির পরে কি
আর কতো কাল চলবে জানো মানব বসতি?
বলির যুগে কি দেখোনাই একটু ভাবো মনে
হানাহানি, খুনাখুনি চলে নিত্য দিনে।

রাত পোহালেই পেপার হেডলাইন অমুক তমুখ খুন
সিরিয়ালি গোম তো আছেই,ধর্ষিত মা বোন।
এই যখন ধরার অবস্থা শুনো মানুষজন
জীবন কৃষ্ণ বলবে কিছু পাঠে রাখো মন।

সত্য হবে নির্বাসিত মিথ্যা নেবে দখল
সত্য বলার মতো বুকে থাকবে না আর বল।
মিথ্যা হবে প্রচারিত সত্য রবে মনে
আড়ালে সব সত্য বললেও বলবেনা সামনে।

সত্য বলার মতো স্বাক্ষী পাবেনা আদালত
আদালতে মিথ্যাশ্রয়ীর চলবে জয়রথ।
এই ভাবেতে প্রতি ক্ষেত্রেই সত্য খাবে মার
অনায়াসে দেখবে সবে মিথ্যার জয় জয়কার।

বেশ্যা পাবে সুনাম খ্যাতি ছাপবে পত্রিকাতে
সতী থাকবে অন্তরালে চিনবেনা ধরাতে।
সতী হবে নির্যাতিত ঘুরবে দ্বারে দ্বারে
সমাজপতি থাকবে দেখবে বেশ্যার বাহুডোরে।

সতী নিন্দা চলবে তখন সভা সেমিনারে
অসতীকে বললে কিছু আসবে সমাজ তেরে
সৎ চরিত্রের সনদ পাবে বেশ্যালয়ের রাণী
আরো কতো প্রাপ্য হবে বললাম না আর আমি।

জারজ হবে সমাজপতি করবে মুখে বয়ান
আমিই হলাম বিধাতার পবিত্র সন্তান!
বিচারকের আসন থাকবে তার-ই দখলে
তার বিচারই মানবে তখন মানুষ দলে দলে।

দুর্নীতিবাজ হবে তখন নীতির প্রবক্তা
নীতি কথার ফুলঝুড়িতে হবেন সুবক্তা।
সমাজ হবে অন্ধ ভক্ত ঐ শকুনদের কথায়
অভিযোগে আদালতে তারাই পাবে রায়।

রাজনীতিকরা জিম্মি থাকবে কেচ্চি নেতার কাছে
নেতা চলবে কেচ্চির কথায় বলছি নয়কো মিছে।
সালাম পাবে বস্তির ছেলে ধ্বিক্কার বাদশার ছেলে
সবই ঘটবে সমাজে তখন কুট-রাজনীতির ছলে।

বাপের জন্মে বাড়ি নাই যার পুড়তে যাবে গাড়ি
দুদিনের ছেলে মুরুব্বী ঠেলে করবে মাতাব্বরি।
শাসন থাকবে মুর্খের হাতে জ্ঞানী হবে শাসিত
আর দূরে নয় দেখবে তোমরা ঘটবে শত শত।

বিবেকহীনে মিছিলে,সভায় শোনাবে বিবেকের কথা
আড়ালে রবে সহি বিবেকবান,এসবে পাবে ব্যাথা।
বিবেকবানে বললে কিছু কেউ নেবেনা কানে
মনে হবে উচিত বচন লেগেছে তাদের জানে।

মদ,গাঁজা,নারীবাজি সহ অবৈধ সব কাজে
কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালতে ধরবেনা কারো লাজে।
সৎকাজে টাকা চাইলে ওরে সব্বনাশ!
টাকা তো থাক দূরের কথা করবে উপহাস।

হারাম ব্যবসায়ী আরামে থাকবে অল্পে কোটিপতি!
হালাল ব্যবসায়ী ডুঁকরে মরবে হারাবে পুঞ্জিপাতি।
দুদকের জালেও অধরা রবে হারাম ব্যবসায়ীরা
হালাল ব্যবসায়ী জরিমানা গুণে হবে ছন্ন ছাড়া।

ধর্ম কথা থাকবে তখন অধার্মীকদের মুখে
জীবন কৃষ্ণ বলে গেলাম পারলে রাখো লিখে।
ভন্ড ধার্মীক দখল নেবে ধর্মালয়ের স্থান
ধর্ম ছায়ায় থেকেও করবে অধর্মের জয়গান।

এভাবেতেই হবে সদা মিথ্যার জয় জয়কার
কতো অবাক দেখবে তোমরা বলবো কতো আর।
জীবন কৃষ্ণ প্রভুর কাছে করে ফরিয়াদ
এসব দেখার আগেই যেনো মরার পাই গো স্বাদ।

১১/০৯/২০২১,শনিবার
৫৫,লাউয়াই,দক্ষিণ সুরমা,সিলেট।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে