হাওরবিলাপ-জীবন কৃষ্ণ সরকার।। HPBN-2017–009-01-02

0
335

প্রাককথনঃ

হাওর পারে প্রকৃতির সাথে বেড়ে ওঠা এক প্রকৃতি প্রেমী কবি জীবন কৃষ্ণ সরকার।ছোট বেলা থেকেই অত্যন্ত পরিশ্রমী ও মেধাবী ছিলেন।তার জ্বলন্ত প্রমাণ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জণ।হাওর পারে বেড়ে ওঠা কবি পানি ও প্রকৃতির সাথে প্রতিদিন আপন মনে প্রেম করে যান।হাওরের মানুষের দুঃখ দুর্দশা প্রতিনিয়ত কবিকে পীড়া দেয়।কবি অসংখ্য যন্ত্রনায় চটপট করেন।মানুষের কল্যানে ছুটে বেড়ান দিক-বিদিগ।একজন মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে বেঁছে নিয়েছেন আপন ভুবন।কবি তাঁর কবিতা গ্রন্থে হাওরবাসী মানুষের কথা বলেছেন! কথা বলেছেন অনেকের না বলা কথা।কবি এখানেই সফল যেখানে তুলে আনতে পেরেছেন মানুষের দুঃখ, দুর্দশা ও বহু মানুষের না বলা কথা।

কবি জীবন কৃষ্ণ সরকারের হাওরবিলাপ কবিতা গ্রন্থের বহুল প্রচার ও প্রসার কামনা করছি।

সিদ্দিক আহমদ

উৎসর্গঃ ২০১৭ সালে অকাল বন্যায় দুর্গত হাওরবাসীকে।
ISBN: 978-984-92136-2-8

Font:NikoshBan

প্রতিষ্ঠাতা,হাওরসাহিত্য পাঠাগার

সূচীপত্রঃ
১. প্রার্থনা
২.আমরা হাওরবাসী
৩.বাতাসে লাশের গন্ধ
৪. হাওর পাড়ে জন্ম মোদের
৫.বাঁধ ভাঙ্গার পানি
৬.হাওরের কান্না
৭.হাওরবাসীর দুঃখ
৮.হাওর পাড়ের মানুষ
৯.লাল গরুটা
১০. মাছেদের কান্না
১১.করুণা নয় অধিকার চাই
১২.হাওরবিলাপ
১৩.ওরা বলে নিষ্পাপ
১৪.জাঙ্গাল ভাঙ্গার পানি
১৫.ওদের শাস্তি চাই
১৬.আমি একজন কৃষক
১৭.দুঃখের মাঝেই হাসি
১৮.হাওর পাড়ের কুমীর
১৯.জন্ম ভূমির মাটি
২০ বাল্য বিবাহ
২১.মত প্রকাশের স্বাধীনতা
২২.সাদামাটা জীবন
২৩.ঘোষখোরের আর্তনাদ
২৪.অনিত্য জীবাত্মা
২৫.সম্বলহীন কৃষক
২৬.চাকরিটি তোমার হয়নি বলে
২৭.জল তরঙ্গ
২৮.সীমাহীন চাওয়া
২৯.মৃত্তিকার ক্রন্দন
৩০.সুখ বনাম দুঃখ
৩১.দীর্ণ-বিদীর্ণ হৃদয়
৩২.আজন্ম পাপ
৩৩.পাঁজর ভাঙ্গা দুঃখ
৩৪.দুঃখ কথন
৩৫.শিক্ষক!
৩৬.কূড়ে ঘর কূড়ের ঘর

১. প্রার্থনা

তুমি আছো প্রভু এ ভব সংসারে
দয়ার কান্ডারি তুমি বলি ফিরে ফিরে
দেখিতে পায়না কেহ থাকো নিরাকারে
প্রভু দেখা দাও আমারে।।

দ্যুলোকে,ভূলোকে খুঁজি তোমায় পাইবারে
পুরাণ বলে থাকো তুমি বৈকুন্ঠেরো পরে
কোরআন বলে থাকো তুমি সাত আসমান উপরে
যেথায় থাকো আশা মোদের বিপদে পাবো তোমারে
প্রভু দেখা দাও আমারে।।

আশরাফুল মাখ্লুকাত আমি পাইতে দিদারে
কোরআন,পুরাণ পাঠ করিলাম তোমায় জানিবারে
জানলাম তোমার বিশ্ব সৃজন ইশারার উপরে
কিঞ্চিৎ ক্ষুন্ন হলে তুমি সবি ভেঙ্গে পড়ে
প্রভু দেখা দাও আমারে।।

সুধাকর,প্রভাকর সবে তোমার পূজা করে
অনল,অনিল,গিরি,বারিশ ডাকে করজোড়ে
আকারে সৃজিয়া বিশ্ব র’লে নিরাকারে
যুগে যুগে সাধু,দরবেশ কিঞ্চিৎ জানতে পারে
প্রভু দেখা দাও আমারে।।

কেহ করে কীর্তণ, পূজা তোমায় ভজিবারে
কেহ করে যি্কির, নামাজ পড়ে তোমার তরে
কেহ করে গভীর ধ্যান ঘরবাড়ি সব ছেড়ে
আবার ঘটি হাতে কেহ দেশ-বিদেশে ঘুরে,
প্রভু দেখা দাও আমারে।।

আল্লাহ্, নানক, যিশু,ঈশ্বর ডাকুক যেই স্বরে
জেনে রেখো সবাই ডাকে শুধুই একজনারে
সেই একজনাই পরম প্রভু দেখো পরখ করে
অধম জীবন ডাকে জেনো কেবল সেই জনারে
প্রভু দেখা দাও আমারে।।
০৯/১২/১৫
দাতিয়াপাড়া

২.আমরা হাওরবাসী

হাওর পাড়ে বাড়ী মোদের
হাওর পাড়ে বাসা
হাওর পাড়েই জন্ম মোদের
মনে কতো আশা!
বাড়ী করবো,গাড়ী করবো
হবো কতো ধনী,
ধনী হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই
সোনার ফসল বুনি।
বৈশাখ মাসে বজ্রপাতের
শব্দ যখন শুনি
চারিদিকে একি! আওয়াজ
কান্না-কাটির ধ্বনি।
ফসল কাটতে কাঁচি নিয়ে
ক্ষেতে যখন যাই
চারিদিকে জাঙ্গাল ভাঙ্গার
ধ্বনি শুনতে পাই।
একসময় সব তলিয়ে যায়
জাঙ্গাল ভাঙ্গার জলে
এভাবেতেই সুখে, দুখে
মোদের জীবন চলে।
দু-মুটো ধান কাটতে পারলেই
আমরা কত খুশি!
আমরা হাওরবাসীরে ভাই
আমরা হাওরবাসী।

বর্ষাকালে বন্যার জলে
বাড়িতে দেয় হানা
কতো বাড়ি,ঘর তলিয়ে যায়
যায়না তাহা গোনা
বছর বছর ভোট দিয়ে যায়
এই হাওরের মানুষ
নির্বাচনের নাম শুনিলেই
হয়ে যায় তারা বেহুঁশ
কি পেল আর কি দিল ভাই
তার নেই কোন হিসাব
সেই সুযোগেই কতো কোকিলরা
হয়েছে বাবু,সাব।
বন্যার পরে বাবু,সাবেরা
ঘুরে দেখলেই খুশি!
আমরা হাওরবাসী রে ভাই
আমরা হাওরবাসী।

কবিতায় আর কি লিখবো ভাই
মোদের দুঃখ কথা
যত বলি ততই বাড়ে
কেবল মনের ব্যাথা।
স্বপ্ন নিয়ে জন্ম মোদের
স্বপ্ন নিয়েই মরণ
এভাবেতেই চলছি মোরা
চলছি আজীবন।
না জানি ভাই আর কতোদিন
চলবো এমন করে,
সুখ,দুঃখকেই সঙ্গী করে
চলছি বছর ধরে।
ভাগ্য দোষেই কষ্ট মোদের
কাউকে নাহি দোষী
আমরা হাওরবাসীরে ভাই
আমরা হাওরবাসী।
২৬/০৭/১৬
কবিকুঞ্জ,বাট্টা।

৩. বাতাসে লাশের গন্ধ

টানা বর্ষণ, কৃষককুল নির্ঘুম
বারিধি যে বারি পূর্ণ থেকে পূর্ণতর হচ্ছে
লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বারিদলের উচ্চতা
বাঁধের পাড়ে হাজারো মানুষের ঢল
কখন থামবে বৃষ্টি?
কখন থামবে বারিদলের উচ্চতা বৃদ্ধি?

ওপারে সোনার ফসল সবুজকায় হয়েছে মাত্র,
ক-দিন পর রঙ্গিন শোভিত হবে,
চাষীরা ফসল তুলবে ঘরে,
ফুটবে কৃষকের মুখে হাসি।

কিন্তু বিধি বাম!
চাহিলনা অন্তর্যামী,ভেঙ্গে গেলো বাঁধ
শো শো শব্দে মুহুর্তে তলিয়ে গেলো সবুজিমা,
তলিয়ে গেলো কৃষকের স্বপ্ন।

দিন কয়েক পর সবুজিমা পঁচে বিষাক্ত হলো
সেই বিষ পান করলো জলমীনেরা
পরিণামে মৃত্যু তাদের গ্রাস করলো,
একে একে লাশ আর লাশ ভাসতে লাগলো।

বাতাসে লাশের গন্ধ-
মাছের লাশ,গাছের লাশ
কোথায় যাবে হাওরবাসী?
ঠিকানা কেবল তিনিই জানেন
যিনি সৃজিয়াছেন এই হাওরবাসীকে
প্রভু রক্ষা করো মোদের।
১৯.০৪.১৭
দাতিয়াপাড়া

৪. হাওর পাড়ে জন্ম মোদের

হাওর পাড়ে জন্ম মোদের
হাওর পাড়ে বাস,
একটুখানি বন্যা হলেই
বাঁচার নেইকো আশ।

তবুও ভাই বাঁচার জন্য
ভয় করি না কিছু,
যদিও দুঃখ,দুর্দশা
লেগেই আছে পিছু।

ক্ষণিক সময় পেরুলেই ভাই
দুঃখ ভুলে যাই,
মনের সুখে হাওর বুকে
নৌকোতে গান গাই।

বছর বছর ফসল ফলায়
এই হাওরের মানুষ,
প্রায় বছরই বন্যার পানি
সব করে দেয় তুষ।

হাওর পাড়ে তখন চলে
কান্না কাটির রোল
মনের দুখে সবাই বলে
চাষ করাটাই ভুল।

বর্ষা শেষে আবার যখন
পৌষ মাঘ মাস আসে,
চাষ তখন ঠিকই করে
চির অভ্যাসের বশে।

এই ভাবেতে হাওরবাসীর
চলছে জীবন গাড়ী,
অতীত স্মৃতি ভুলেই মোরা
(আবার) বাঁচার জন্য লড়ি।
১৪/০৪/১৭
কবিকুঞ্জ,বাট্ট।

৫. বাঁধ ভাঙ্গার পানি

সোনার ফসল ফলেছে সোনার মাঠে
কিন্তু তাতে কি? বিধি যে বাম হয়ে আছে,
ফসলের রং হলদে না হতেই পরে গেলো বিধাতার কোপানলে। শুরু হলো শিলা বৃষ্টি,সাথে তুমুল বাতাস সমেত ঝড়।

শিলাবৃষ্টির আক্রোশে পরে ঢেড় পরিমাণ ধান ঝড়ে গেলো জননী বৃক্ষ হতে।
তবুও কৃষক আশায় বুক বাঁধলো এই ভেবে,অন্তত কিছু তো পাবো,তাতেই অল্প অল্প
খেয়ে পড়ে বছর পাড়ি দেবো মোরা।

তাও সইলোনা বিধির গায়,
শুরু হলো নদীর জল বৃদ্ধি,
বৃদ্ধি পেতে পেতে এক সময় জাঙ্গাল গড়িয়ে চললো পানি।
হঠাৎ শুরু হলো কালবৈশাখী ঝড়,
প্রবল বাতাস আর বৃষ্টিতে এক সময় ভেঙ্গে গেলো
হাওরের বাঁধ,ঢুকে গেলো পানি হাওরে।

একদিকে বাঁধ ভাঙ্গার পানি অন্যদিকে
তুমুল বৃষ্টি,আর কি রক্ষিতে পারে নিজেকে?
একের পর এক তলিয়ে গেলো সোনার ফসলখানি,
কৃষকের ক্রন্দন ও পারেনি গলাতে বিধাতার মন,
এভাবেই চলছে হাজার বছর ধরে হাওর পাড়ের নেহায়েত কৃষকের জীবন।
২০/০৪/১৭
দাতিয়াপাড়া

৬. হাওরের কান্না

দিদিমা,দিদিমা,চারদিকে মানুষ সব
কান্না-কাটি করছে কেন?
যেদিকে তাকাই কেবল চোখের পানি,
তোমার চোখেও পানি কেনো দিদিমা?

নিথর হয়ে যাওয়া দিদিমা কি বুঝ দেবে
তার অবুঝ নাতনীকে,তাই ভাবছে,
অকাল বন্যায় তলিয়ে গিয়েছে ফসল
দিশেহারা মানুষগুলো ক্ষুধার যাতনায়,
হতাশায় কান্না কাটি করছে,
কথাগুলো কিছুটা বুঝানোর চেষ্ট করছিল দিদিমা।

নাতনী প্রশ্ন করলো,তাহলে শহরের মানুষগুলো আমাদের জন্য কিছু করছেনা কেনো?
আমাদেরকে সাহায্য করছেনা কেনো?

মাথায় হাত বুলিয়ে বুঝিয়ে বললো দিদিমা
” হাওরের কান্না হাওরেই শেষ হয়ে যায় দিদিবোন,
সেই কান্না শহুরের অট্টালিকা পর্যন্ত পৌঁছায়না,
পৌঁছুলে কি আর তারা চুপ করে বসে থাকতো?”
চিন্তা করোনা দিদিবোন
পরম করুনাময় তো আছেন
আমরা তার করুনাতেই বাঁচবো।
২১.০৪.১৭
কবিকুঞ্জ,বাট্টা

৭. হাওরবাসীর দুঃখ

দুঃখ মোদের হাওরবাসীর
নিত্য চলার সাথী
কিছু সময় সুখে থাকলেও
বাকি সময় লাথি।

ঝড়ের লাথি,মেঘের লাথি
বন্যার লাথি খেয়ে
সুখে,দুখে চলছি মোরা
সময়ের ডাল বেয়ে।

সময় পুরোয়,জীবন পুরোয় না
কেমনে বুঝাই বলো
বুঝতে হলে তোমরা কেহ
হাওরপানে চলো।

দেখবে তখন ঝড়-তুফানে
কেমনে হানে আঘাত
ঘরবাড়ি সব লন্ডভন্ড
কৃষকের মাথায় হাত।

এর পরে ভাই অতি বৃষ্টি
দিনের পর দিন চলে
মুহুর্তেই সব তলিয়ে যায়
জাঙ্গাল ভেঙ্গে গেলে।

সোনার ফসল তলিয়ে কৃষক
কান্নাকাটি করে
এভাবেতেই চলছে জীবন
বছর বছর ধরে।
২৫/০৪/১৭
কবিকুঞ্জ,বাট্টা।

৮. হাওর পাড়ের মানুষ

রাত-বিরাত খাটুনি করে
আমরা কেবল ফসল বুনিনা,স্বপ্ন বুনি,
দিনকে দিন খাটুনির ফলে কেবল শস্যগুলো বেড়ে ওঠেনা
আমাদের স্বপ্নও বেড়ে ওঠে,
বেড়ে ওঠে আমাদের ইচ্ছা,আখাঙ্খা।
আমরা নিজেরা ঠকি,কিন্তু অন্যকে ঠকাইনা
আমরা নিজেরা দুঃখ ভোগী,কিন্তু,অন্যকে ভোগতে দেইনা,
আমাদের শস্যগুলি যেমন কোমল,তেমনি কোমল
আমাদের মন,মানিসিকতা,চেতনা।

“আমরা হাওর পাড়ের মানুষ-
আমাদের মন হাওরের মতই বিশাল,
আমরা অল্পতে ভেঙ্গে পড়িনা কভু
বছর বছর ফসল হানিতেও
টিকে থাকি আমরা তবু”
কেবল পরম করুনাময়কে স্মরণ করে।

পৃথিবীর মানব আমাদের ভুলিলেও
পরম করুনাময় আমাদের ভুলেননা!
ভুলিলে কি আজো টিকে আছি মোরা!
বড়ো বিচিত্র করে সৃজিয়াছেন এই ধরা,
আমরা যে ইহারই অংশ
মাত্র।
১৯.০৪.১৭
দাতিয়াপড়া

৯. লাল গরুটা

মাগো! মা, ওঠো
ক্ষুধার যাতনায় লাল গরুটা
কেমন জানি ছটফট করছে,
ওকে কিছু খেতে দাও মা।

মা অপলক দৃষ্টিতে মেয়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে,
হাওর ডুবিতে সব কিছু তলিয়ে গেছে,
নেই ঘরে এক মুষ্টি চাল, তার উপর
গরুটির খাবারের এক মুটো খড় ও নেই
ভাবতে ভাবতে চোখে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো,
তখনি হাউ -মাউ করে জড়িয়ে ধরলো মেয়েটি।

কি হয়েছে মা! তুমি কাঁদছো কেনো?
উত্তরে মা বললো-কোথায়? না তো?
ছি, মা,তোমার মতো লক্ষী মেয়ে থাকতে কি কোনো মা কাঁদে?
মা দুমুটো চাল সংগ্রহ করে রাঁধি
খড়-কুটো কোথায় পাবো-
অন্তত ফেনটুকু তো আমাদের
লাল গরুটাকে খেতে দিতে পারবো।
২১/০৪/১৭
কবিকুঞ্জ,বাট্টা

১০.মাছেদের কান্না

মা,মাগো! চলো মা আমরা কোথাও পালাই
আমাদের বাঁচতে হবে মা,
আমাদের বাঁচতে হবে।
কান্নার স্বরে বাচ্ছা রুহিতটি বললো মা রুহিতটিকে।

অকাল বন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষকের জমি,
ধানগাছ,কীটনাশক,সার মিশে বিষে পরিনত হয়েছে।
আর সেই বিষপান করে হাজার হাজার লাখো লাখো মীনেরা মৃত্যু কোলে ঢলে পড়ছে।

মা রুহিতটি আজ নিথর হয়ে গেছে,
করুণ দুঃখে হৃদয় পাথর হয়ে গেছে তার,
ফসল হানিতে মানুষের কান্না হয়তো মানুষ শুনবে,
কিন্তু মাছেদের কান্না কে শুনবে?
তাই কেবল চোখের জল ফেলছে মা রুহিতটি।

এমন সময় হাজারো চিৎকার
বাঁচাও,বাঁচাও,বাঁচাও শব্দ,
বিষের হাত থেকে বাঁচাও..
বলতে বলতে একের পর এক মাছ
মৃত্যু কোলে ঢলে পড়তে লাগলো,
ভাসতে লাগলো হাওড় পাড়ে লাশ হয়ে
গন্ধ হয়ে মিশতে লাগলো বতাসে…
এক সময় মা ও বাচ্চা রুহিতটিও
তাদেরই অংশ হয়ে গেলো।
২১/০৪/১৭
কবিকুঞ্জ,বাট্টা।

১১.করুণা নয় অধিকার চাই

আমরা হাওর পাড়ের মানুষ,
আমরা খেটে খেতেই পছন্দ করি
তবু কারো মাথায় কুড়োল মেরে খাওয়া
আমাদের পছন্দ নয়।

তোরা ছদ্মবেশী ডাকাত, পরের মাথায়
কুড়োল মেরে খাওয়াই তোদের কাজ
তাই তো তোরা বেলাজের বেশে চলিস।

করুণা নয় অধিকার চাই মোরা
তোদের অপকর্মে বাঁধ ভেঙ্গে ফসল হানিছে মোদের
তাই ক্ষতিপুরণ চাই মোদের ফসলের,
ক্ষতিপূরণ চাই আমাদের শ্রমের ঘামের,
এটা আমাদের করুনা ভিক্ষা নয়,
এটা আমাদের অধিকার।

যখন আমরা অধিকার চাই
তখন মূর্খ হয়ে যাই মোরা
আর যখন ভোট দিতে যাই
তখন আমরা হয়ে যাই জ্ঞাণী
বন্ধ করো এইসব হুলিখেলা।
পেটের ক্ষুধায় কাঁদিছে হাওরবাসী
এখনো সময় আছে বন্ধ করো
তোমাদের মুচকী হাসি
নয়তো তোমাদেরকেই চিবিয়ে খাবে
মিলে সকল ক্ষুধার্ত হাওরবাসী।
২০/০৪/১৭
দাতিয়াপাড়া।

১২.হাওরবিলাপ

এইতো কদিন সবুজিমা পূর্ণ ছিলো হাওরগুলো
যেদিকে তাকাতোম,দেখতোম কেবল
লালিত স্বপ্নের মাথা নাড়ানি,
দেখতোম শস্য দানার হেয়ালিপনা,
নীল দিগন্তের নিচে যেনো ওরা মাতোয়ারা,
কেহ কেহ লজ্জায় মাথা নোয়াবার অবস্থা
আমি দেখতোম কেবল আলোছায়ার খেলা।
চাষীদের স্বপ্ন এইতো ক-টা দিন,
রঙ্গীণ আভায় ঢেকে যাবে তাদের সাধনাগুলো
তাদের স্বপ্নগুলো,তারপর বরণ করবে ওদের মহাধূমধামে,পূর্ণ করবে কৃষক-কৃষাণীর মনোবাঞ্চা,

কিন্তু বিধি বাম! বারিধির যৌবন উতালায়
আজ স্বপ্নগুলো অথৈ সায়রে।
চোখের সামনেই তলিয়ে গেলো সব,
কিছুই করার থাকলোনা কারো
কেবল চোখের জল ফেলা ছাড়া
কি নিয়ে বাঁচবে ওরা?

দিন সাতেক পর পঁচন ধরলো -অন্নজননীতে,
কীটনাশক,সার,পঁচা অন্নজননী মিশে তৈরি হলো বিষ,
দুর্গত হাওরবাসীর অন্তিম সম্বল মীনেরা পান করলো সেই বিষ
কাঁতরাতে কাঁতরাতে নিঃশ্বাস ত্যাগ করে
ওপারে পাড়িল তারা,ভাসতে লাগলো লাশ আর লাশ হয়ে হাওরে
এমন সময় হাওরবাসীর ক্রন্দন আর কি ধরে রাখা যায়?
কি নিয়ে বাঁচবে ওরা?

তাইতো আজ কেবল হাওরবিলাপ চারিদিকে-
“আমরা সহায় সম্বলহীন হাওরবাসী,আমাদের দুর্গত ঘোষনা করো,
আমাদের অন্ন বস্ত্রের ব্যবস্থা করো,
আমরা বাঁচতে চাই,আমরা বাঁচতে চাই।”

ওরা করেনি দাবি-
খড় কুটোর অভাবে বিক্রি করা গরুটি ফিরিয়ে দিতে হবে,
ওরা করেনি দাবি-
হাওর ডুবিতে হারানো সকল শস্য দানাগুলো ফিরিয়ে দিতে হবে
ওরা করেনি দাবি-
দিনের পর দিন অনাহারে থেকে শস্যালয়ে দেয়া শ্রমগুলো ফিরিয়ে দিতে হবে।

ওদের দাবি একটাই-
আমাদের বাঁচতে দাও,আমাদের বাঁচতে দাও
তাই অপেক্ষার প্রহর গুণছিল হাওরবাসী
কখন আসবে ‘দুর্গত’নামক অমর ঘোষণা খানি।
অবশেষে সেই দশ দিগন্তের সীমানা ঘেঁষে,সাতসমুদ্দুর
তেরোনদী পেরিয়ে ব্যঘ্র কন্ঠে ধ্বণিত হলো সেই অমর ঘোষণা খানি-
“অর্ধেক মরার পর ও চলে যদি হানি
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আইনে তাহা দুর্গত হয় জানি।”

শুনে নিথর হয়ে গেলো সবে
পেটের ক্ষুধা নিবারিল আইন দেখিয়ে,এই কি তাদের সাজে?
“পেটের ক্ষুধা আইন বুঝেনা,
পেটের ক্ষুধা বুঝে কেবল অন্ন আর অন্নসম অন্য কিছু।”
তাইতো অঝোরে ঝড়তে লাগলো অশ্রু,
পড়তে লাগলো গাল বেয়ে বেয়ে
আর হৃদয় থেকে উচ্চারিত হতে লাগলো
এই ছিল মোর পুড়া কপাল,এই ছিল মোর ভালে
প্রভুর কাছেই এবার ফরিয়াদ দেখিও অন্তিম কালে,
প্রভুর কাছেই এবার ফরিয়াদ দেখিও অন্তিম কালে।
২০/০৪/১৭
দাতিয়াপাড়া।

১৩. ওরা বলে নিষ্পাপ

ওরা বলে নিষ্পাপ!
লোকেরা বলে ওরা লোভী,পাপী,দুর্ণীতিবাজ,
পরের টাকা,বাঁধের টাকা লুটপাট করে অট্টালিকা গড়ে ওরা,
লোকেরা কেনো ওদের এসব বলে জানিনা।

ওরা বলে নিষ্পাপ
লোকেরা ওদের দেখলে ঘৃণা করে,
থুথু ছিটায়,বিধাতার কাছে ওদের নামে বিচার দেয়,
সামনে থেকে চলে গেলে মুখ ভরে গালিদেয় ওদের
লোকেরা কেন এমন করে জানিনা।

ওরা বলে নিষ্পাপ
লোকেরা ওদের দেখলে
চুর,বাটপার,প্রতারক বলে গালি দেয়,
মানববন্ধন করে সরকারের কাছে বিচার চায় ওদের,
এতো ভালো মানুষদের লোকেরা কেন এসব করে জানিনা।
হতে পারে বিধাতা ওদের সম্পর্কে যতটুকু জানেন লোকেরা ওদের ততটুকু জানেনা,
এপারের বিচার ক্ষমা যোগ্য,ওপারে ক্ষমা পাবেনা।
২৫.০৪.১৭
কবিকুঞ্জ,বাট্টা।

১৪. জাঙ্গাল ভাঙ্গার পানি

হাওর জুড়ে ধান ফলেছে
দেখতে চমৎকার
কদিন পরেই তুলবে ঘরে
রুখবে সাধ্য কার?
এভাবেতেই বৈশাখ মাসের
দিন দুয়েক প্রায় গেলো
তৃতীয় দিন হঠাৎ করেই
বৃষ্টি শুরু হলো।
দেখতে দেখতে নদীর পানি
বৃদ্ধি পেতে লাগলো
চতুর্থ দিন বৃষ্টির সাথে
তুফান শুরু হলো।
তুমুল বৃষ্টির ফলে নদীর
পানি বৃদ্ধি পেলো
হঠাৎ পানির অধিক চাপে
জাঙ্গাল ভেঙ্গে গেলো।

জাঙ্গাল ভাঙ্গার পানি যখন
হাওরে প্রবেশিল
দেখতে দেখতেই কৃষকের ক্ষেত
ডুবতে শুরু হলো।
চোখের সামনেই সকল জমি
জলে ডুবে গেলো,
মাথায় হাত দিয়ে কৃষক আলে বসে র’ল।
মনে মনে ভাবে কৃষক
ওগো দয়া ময়
তোমার তরেই সব সফিলাম
দেখিও নিশ্চয়।
২০/০৪/১৬
দাতিয়াপাড়া

১৫. ওদের শাস্তি চাই

দুর্নীতি করে আজ যারা হয়েছে টাকার কুমীর
আর নিরীহ হাওরবাসীর সাথে করেছে প্রতারনা
নিরীহ হাওরবাসীদের দেখে যারা বাঁকা চোখে তাকায়
আমি বিধাতার কর্তৃক ওদের বিচার চাই।
কৃষকের দুর্দিনে যে বা যাহারা
হাস্যকর মন্তব্য করে,গালভরে মুচকী হাসি দেয়,
বাড়ায়নি সাহায্যের হাত,
এগিয়ে আসেনি স্ব-ইচ্ছায়
আমি বিধাতা কর্তৃক
ওদের শাস্তি চাই।

কৃষকের কান্না দেখে যাহারা
উপহাস করে,ঠাট্টা বিদ্রুপ করে
কৃষকের অসহায়ত্বের সুযোগ নেয়,
যাহারা তাদেরকে হীন করে দেখতে চায়
আমি বিধাতা কর্তৃক ওদের কঠোর শাস্তি চাই।
২৫/০৪/১৭
কবিকুঞ্জ,বাট্টা

১৬. আমি একজন কৃষক

অভাবের তাড়নায় তাড়িত মোরা
জন্ম থেকেই অন্ন চিন্তা থেকে মুক্ত হতে পারেনি কভু
সেই কবে থেকে বাবার সাথে হাল ধরে ছিলুম সংসারের
আজো আছি শত দুঃখ,বঞ্চনা সয়ে সয়ে
কবে গিয়েছিলুম পাঠশালে
তারপর আর বিদ্যা জুটেনি ভালে।
কেবলি অভাবের তাড়নায়।

বিদ্যা,বিদ্যানকে আমি বড়ো ভালোবাসি।
বিশ্বাস করি ওরাই আসলে জ্ঞাণী,গুণী
আর মোরা চাষা-ভুষা,অধম
জীবনে কিছুই করতে পারিনি।
কেবল খেটেছি,খেটে যাচ্ছি।
না চিনেছি জীবনে সুখ,না চিনেছি জীবনে দুখ
জীবনটাকে শুধুই ব্যর্থ মনে করেছি
বেঁচে থাকাটকেই জীবনে সার্থক ভেবেছি,ভাবছি অজ্ঞানতার বসে।

কিন্তু আজ আর নিজেকে ব্যর্থ মনে করছিনা
বরং নিজেকে নিয়ে গর্বই হচ্ছে
এই ভেবে যে,
আমি একজন কৃষক,
আমাকে কেউ দুর্নীতিবাজ বলে না,
আমাকে নিয়ে কেউ মানববন্ধন করেনা,
আমার নাম শুনলে কেউ থু থু ছিটায় না
এটাইতো আমার জীবনের পরম পাওয়া,
এটাই তো আমার জীবনের পরম সার্থকতা।
২৫/০৪/১৭
কবিকুঞ্জ,বাট্টা

১৭. দুঃখের মাঝেই হাসি

জন্ম থেকেই দুঃখ মোদের
নেইকো সুখের দেখা
দুখের মাঝেই সুখ খোঁজ করা
মোদের কপালে লিখা।

বছর বছর তলিয়ে যায়
সোনার ফসল খানি
সময় হলেই স্বপ্ন নিয়ে
আবার ফসল বুনি।

স্বপ্নই মোদের বাঁচার শক্তি
স্বপ্নই মোদের বল
শত দুখেও স্বপ্ন নিয়ে
থাকি অবিচল।

অকাল বন্যায়,অতি বৃষ্টিতে
হলে ফসল হানি
চারদিকে সব কৃষাণ কৃষাণীর
পড়ে চোখের পানি।

কদিন পরে পূঁজো আসলে
কিংবা ঈদের বেলায়
হিন্দু,মুসলিম সবাই মিলে
ভাসি আনন্দের ভেলায়।

দুখের মাঝেই হাসি মোরা
ভুলে দুঃখ সব
কোলাকুলি আর গলাগলিতে
হয়ে যাই সরব।

সুখ,দুঃখ দুভাই নিয়ে
আমরা কতো খুশি!
আমরা হাওরবাসী,
ও ভাই আমরা সরলবাসী।
২০/০৪/১৭
কবিকুঞ্জ,বাট্টা।

১৮.হাওর পাড়ের কুমীর

বর্ষা গেলো, শীতকাল এলো
জমবে এবার বেশি
কৃষক জেলে মাঝিদেরকে
দেবো গলায় রশি।

যতো খালবিল,হাওর আছে
দখল নিবো আমি
আরো আছে বিলের পাড়ে
বোরো ক্ষেতের জমি।

সবগুলোই ভাই শোষণ করে
হবোই আমি আমীর
সবই সম্ভব আমি যে ভাই
হাওর পাড়ের কুমীর!

হাওর পাড়ে জাল পাতিয়ে
যে জেলে মাছ ধরে
তাদের ধরতে দেবো আমার
পেটোয়া বাহিনি ছেড়ে।

জাল ধরিয়েই ক্ষান্ত নই ভাই
খুঁজবো কে সেই লোকটি
আর যাতে ফেলেনাকো জাল
তাই ভাঙ্গবোই তাহার বুকটি।

আমার কাছে হউক সে ধনী
করবোই তাকে ফকির
সবই সম্ভব আমি যে ভাই
হাওর পাড়ের কুমীর!
১৪৮,বসুন্ধরা,২৩/০২/১৩
দর্জিবন্দ,সিলেট।

১৯.জন্ম ভূমির মাটি

বুক ফুলিয়ে গর্ব করি জন্মেছি এই দেশে
সারা জনম থাকবো মোরা দেশকে ভালোবেসে।

জন্ম ভূমির এদেশটি ভাই সবার চেয়ে সেরা
সুজলা,সুফলা,শস্য,শ্যামলা ফুলে ফলে এদেশ ভরা।

এদেশেরি মাঠে,ঘাটে ফলে সোনার ধান
সোনার ধানে গোলা ভরে খুশি সবার প্রাণ।

আরো আছে খালে বিলে নানান রঙ্গের মাছ
সেই মাছ পেয়ে ছেলে-মেয়ে সব করে কতো নাচ।

এদেশেরি সোনার ইলিশ সবলোকেরি প্রিয়
দেশ বিদেশেও আছে সুনাম পারলে খবর নিয়ো।

নদী,খালবিল ছাড়াও আরো আছে কতো হাওর
চৈত্রমাসে হাওরগুলো দেখতে মনোহর।

হাওর মাঝে আছে কতো বোরো ক্ষেতের জমি
তাইতো বলি ধন্য মোদের প্রিয় জন্ম ভূমি।

এদেশেরি মাটির কণা সোনার চেয়েও খাঁটি
সব থেকে তাই আমার প্রিয় জন্মভূমির মাটি।
১৩.০১.১৬
কবিকুঞ্জ,বাট্টা

২০. বাল্যবিবাহ

মানুষ রুপে জন্ম নিয়েও
আমরা যারা নারী,
মনের দুঃখ মনেই থাকে
বলতে নাহি পারি।
আমাদের ও থাকতে পারে
সুখ,আল্লাদ বা ক্লেশ
এই সমাজ তা বুঝতে চায়নি
দেখছি কতো বেশ।
সাত-আট বছর হলেই মোদের
শৈন দৃষ্টি যায় পড়ে
স্বামীর গৃহে যেতে হবে
নিজের গৃহ ছেড়ে।
এই পৃথিবীর আজব ফন্দি
দেখছি এমন শতো
অকালেই প্রাণ হচ্ছে বলি
প্রায় আমারি মতো।
আর যেনো ঝড়ে পড়েনা
না কাঁদে আর কেহ
সবাই মিলে রুখবোই এবার
বাল্য বিবাহ।

শৈশব কালেই পড়ালেখা
বন্ধ হলো আমার
বিয়ের পরেই দুঃখ নিয়ে
ছাড়লাম ভিটে বাবার।
না বুঝিলাম জীবন যুদ্ধ
না বুঝিলাম সংসার
না বুঝিয়াই দায়-দায়িত্ব
নিতে হলো আমার।
আপনাকেই বুঝিলামনা
সংসার বুঝবো আমি!
এসব নিয়ে প্রতি দিনই
ঝগড়া করেন স্বামী।
শ্বশুর,ভাসুুর সবাই মিলে
আমায় তারা দোষে
শ্বাশুড়ী কয় অলক্ষুইন্না
স্বামী যখন আসে।
সব কথা শুনিয়া স্বামী
আর কি ধৈর্য ধরে
প্রায় প্রতিদিন আমার সাথে
দুর্ব্যবহার করে।
ভাবি মনে এমন দৃশ্য
ঘটছে অহরহ
সবাই মিলে রুখবোই এবার
বাল্য বিবাহ।
১২/১০/১৫
দাতিয়াপাড়া
বিঃদ্রঃ এই কবিতাটি আমার ছাত্র ফেরদৌস,আমিনুল ও সুইটি’র(ছাত্রী) অনুরোধে লেখা।

২১.মত প্রকাশের স্বাধীনতা

বছরের পর বছর চেয়ার নড়ে কিন্তু ফাইল নড়েনা
কিন্তু কেনো?ভেবেছো বড়লোক হবার রাস্তাটা বুঝি পেয়ে গেছো এবার?তবে মনে রেখো হে দুর্ণীতির বরপুত্রগণ! আজব কিংবা গুজব নয়
সত্যি বলছি,গজব যেদিন পতিত হবে তোমাদের পানে,
পরম স্রষ্টা সেদিন আর ছাড় দেবেনা তোমাদেরকে।
ভাবছো মনে আমার কেনো এতো মাথা ব্যাথা?
আমি যে তাদেরই একজন যাদের চাওয়া কেবল
দুর্ণীতি মুক্ত দেশ,বাল্যবিবাহ মুক্ত সমাজ
আর মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

মাগো!
ভেবেছো কি একবার?
যাকে তুমি দশমাস, দশদিন উদরে রেখেছো মা,
সে কতো সুখে আছে? তুমি জানোনা মা,
তুমি জানোনা,তোমার মেয়ের চোখের জলে গাছের পাতা কাঁপে,কাঁপে নদীর জল,
পুতুল খেলার বয়সটুকুও পেরোলো না তার,
দিয়ে দিলে তাকে বিয়ে,রোগে শোকে শুকায়ে
শরীরে নেইকো তিলেক বল।
বলতে পারো হয়তো, তোমাদের মেয়ে,তোমাদের সামাজিকতা
আমি যে তাদেরই একজন,যাদের চাওয়া কেবল
দুর্ণীতি মুক্ত দেশ,বাল্যবিবাহ মুক্ত সমাজ
আর মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদুক
তা আমি চাইনা,চাইনা আমার দুখিনি মায়ের শাড়ির আঁচল ভিজুক ক্রন্দিত চোখের জলে,
সন্তান হারানো মায়ের বেদনা,কি যে কষ্ট,
কি যে জ্বালা তা একজন খোকা হারানো মায়েই কেবল জানে।
আর কত বলো?
বলতে পারো আমি কেন বলবো এসব কথা?
আমি যে তাদেরই একজন,যাদের চাওয়া কেবল
দুর্ণীতি মুক্ত দেশ,বাল্যবিবাহ মুক্ত সমাজ
আর মত প্রকাশের স্বধীনতা।
১৪.১১.১৫
দাতিয়াপাড়া।

২২. সাদামাটা জীবন
আমি চাই না রাজ প্রাসাদ,চাইনা রাজ সিংহাসন,
যেখানে কেবল অনাচার,দূরাচার ঘিরে থাকে
আমি চাই ঘাসের চাউনি,মাটির দেয়ালের ঘর
তবু যদি হেথায় পাই ন্যায়ের বাসর।

আমি চাই সাদামাটা জীবন
যেখানে থাকবেনা লোভ,লালসা
যেখানে থাকবেনা পীড়ন,উৎপীড়নের খসরা
আমি চাই ভয়হীন,শোষনহীন সমাজ
যে সমাজে নরকূল নীরবে রবে চিরকাল।

আমি চাই মেদিনীর প্রতিটি মানব
হিংসা ঘৃণা ত্যাগ করে সততার পথে চলুক
ক্ষুধা দারিদ্রতা একে অপরের পাশে
দাড়িয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলুক
আমি চাই পৃথিবী তার
আপন গতিতে চলুক।
১০/০১/১৬
দাতিয়াপাড়া।

২৩. ঘুষখোরের আর্তনাদ

লোকে আমায় ঘুষখোর বলে
বুঝি না ভাই কিছু
কেনো যে সব নির্বোধেরা
ধরলো আমার পিছু?

ঘুষ খাই ঠিকই আমি
কিন্তু করি কাজ
কাজ না করে টাকা নেবো
আমি কি বেলাজ?

লাজের ভুবন আমার মাঝেই
দেখবে তুমি শেষে
ডান হাত রেখে বাম হাত বাড়াই
টেবিলের নিচ ঘেঁষে!

তাও বুঝনা স্মরম চোখে
কেমনে আমি তাকাই
মুখে আমি কইনা কথা
ইশারায় ঘুষ চাই!

মোদের মত এত লাজুক
আর কে আছে বলো?
তার পরেও ভাই মোদের নামে
কেনো বদনাম তুলো?

তোমরা কি আর তুলসী ধূঁয়া
মোদের কেবল দোষ
ফাইল পত্র ভাই নিয়ে আসলে
হয়ে যাও বেহুঁশ।

তিলেক সময় দিতে চাওনা
করো তাড়াহুড়ি
কিছু উৎকোচ
চাইলেই আবার
করো মারামারি।

বুঝতেও চাওনা ঘুষখোরদেরো
আছে একটি মন
এবার ছিঃ ছিঃ করলে মোরা
গড়বো সংগঠন।

ঘুষখোর ইউনিয়ন গড়ে
করবো প্রতিবাদ
ঘুষখোর,ঘুষখোর চিল্লাচিল্লির
তখন মিঠবো স্বাদ।
১১/১২/১৫
দাতিয়াপাড়া।

২৪. অনিত্য জীবাত্মা

জ্যোৎস্না শোভিত রাত
আলোর জ্বল জ্বল ছটা
দুর আকাশে তারারা মিটির মিটির করছে,
হঠাৎ দখিনা বাতাস
চেয়ে থাকি আমি অন্তরীক্ষে।

মনে পড়ে আজ দেহ পিঞ্জরের কথা
মনে পড়ে আজ আমার পরম প্রভুর কথা
যিনি নিপুণ হাতে সৃজিয়াছেন এ বিশ্ব ব্রম্মান্ড,
গড়িয়াছেন এ দেহ পিঞ্জর
যাহার ইশারায় এই অনিত্য জীবাত্মা আসিয়াছে ধরাতে
সময় হইলেই আবার পাড়িবে স্বর্গপাড়ে।

গ্রহ, নক্ষত্র, নভোমন্ডল চলিতেছে
ভৃত্যের ন্যায় যাকে খুশি করিবারে
আমি তাহারি গান করি,
তাহারি পূজা করি,
আপন নিলয়ে ফিরিবারে।
২০/০১/১৬
দাতিয়াপাড়া।

২৫. সম্বলহীন এক পথিক

জগতে দুধরনের মানুষ দেখা যায়
এক-অন্যের শত দোষ দেখেও
নিজেকে সংযত রেখে চলে,কোন অভিযোগ না এনে
কেবল নিজের কষ্ট নিজের বুকে চাপা দিয়ে
নির্বাক প্রাণীর মতো পথ চলে
যেনো সহায় সম্বলহীন এক পথিক সে।

দুই- নিজের ত্রুটি না দেখে কেবল অন্যের ত্রুটি খোঁজে
অন্যের সমালোচনায় মুখর,
গাছে চড়তে না পরলেও
“বড়ো বাচ্চাটি যে আমারি চাই”এই মনোভাবের
সামান্য ঘটনাকে জঘন্য হিসেবে প্রচার করতে
ঐ লোকগুলো পটু।

বিধির লিখনে আমি যে সেই প্রথম ধারাতেই রয়ে গেলাম,
কালের এ প্রবাহে আর কতো সহিতে পারি
প্রভু তুমি বলে দিয়ো মোরে
যখনি কষ্ট পাই,প্রভু তোমারি নামে
প্রবোধ করি আপনারে।
১১/০১/১৬
দাতিয়াপাড়া।

২৬. চাকরিটি তোমার হয়নি বলে

পহেলা বৈশাখ খুশির আমেজ ছেলে-মেয়ে সবার মাঝে
কতো রঙ্গের শাড়ি পড়ে বাঙ্গালী মেয়েরা সাজে
আমিওতো বাঙ্গালী মেয়ে আমারো আছে মন
ওদের মতই সেজে ঘোরাতে চাই যে সারাক্ষণ
পারিনি বলেই বেদনা ভরে ভাসিনি চোখের জলে
চাকরিটি তোমার হয়নি বলে।

ভেবেছিলাম এবার পূজোয় করবো কেনাকাটা
আশিকি টু জামা কিনবো সাথে জুতো বাটা
রঙ বেরঙের পূজো দেখবো সারা শহর ঘোরে
সকল পূজো মন্ডপ দেখে আসবো ঘরে ফিরে
সত্যি দাদা সকল দাবি নিলাম আমি তুলে
চাকরিটি তোমার হয়নি বলে।

পড়া লেখা করি আমি পড়ি কলেজেতে
প্রতি দিনই দেখা হয় মোর বান্ধবীদের সাথে
সবাই থাকে হাসি খুশি সবই তাদের আছে
ঘড়ি কেনার সম্বলটুকুও নেইকো আমার কাছে
চাইনি দাদা তোমার কাছে মাফ করবেন ভুল হলে
চাকরিটি তোমার হয়না বলে।

করিনি রাগ তোমার প্রতি বিশ্বাস করো তুমি
পার্কে যাবো,মেলায় ঘুরবো তোমার সাথে আমি
নানান স্বাদের খাবার খাবো মনে যেমনি চায়
মেলা শেষে ঘুরতে যাবো যে দিকে চোখ যায়
সবার সেরা হারটিও সেদিন থাকবে আমার গলে
রাজকুমারীর মতো সাজবো দেখবে সবাই মিলে
তাইতো বলি আজ দুঃখ নেই বলবো সময় হলে
চাকরিটি তোমার হয়নি বলে।
৩০/০৪/১৩
বৈশাখী ১০৯/১ শেফা মঞ্জিল,খরাদিপাড়া,শিবগঞ্জ,সিলেট

২৭. জল তরঙ্গ

জীবন এক প্রবাহ চিত্রের নাম,
যার গতি বুঝা বড়ো কঠিন
কখনো মেঘ, কখনো রোদ,আলোছায়ার মতো চলে জীবন প্রবাহ,যার সীমা রেখা কেবল
তিনিই জানেন যিনি সৃষ্টি করেছেন এই বিশ্ব ব্রম্মান্ড।

কালের তালে তাল মিলিয়ে চলতে
সৃষ্টির প্রতিটি জীবই চায়
কিন্তু তা কজনা পারে?
জীবন তো এক জল তরঙ্গ
যার কোনো স্থিতি নেই
কখনো উত্তান,কখনো পত্তন এই নিয়েই
যেনো তার খেলা।

তার পরেও মানুষ স্বপ্ন দ্যাখে
চিরস্থায়ী সুখের,চিরস্থায়ী ভোগের
এটাও যেনো তার স্বপ্নিল খেলা,
সুখের পেছনে হন্যে হয়ে ঘুরতেই
একদিন তার অন্তিম সময় এসে যাবে
এবং সে চলেও যাবে অপারে
এ যেনো পৃথিবীর অমোঘ নিয়ম এক।
২২/০১/১৬
কবিকুঞ্জ,বাট্টা।

২৮. সীমাহীন চাওয়া

পৃথীবীতে মানুষ যার কাছে সব থেকে বেশী নির্যাতিত হয় এবং যার থেকে পেয়ে সব থেকে বেশী আনন্দিত হয় তা হলো লোভ।
লোভের হেতু মানুষ ধন,জ্ঞান, ঐশ্বর্য অর্জনে লিপ্ত হয়ে যায় জীবন যুদ্ধে।

কখনো এই যুদ্ধে হয় জয়ী
আর কখনো হয় পরাজিত,তবু থামেনা তাদের গতিবেগ
জাহাজ বেগেই চলে তারা সীমাহীন চাওয়াকে সঙ্গী করে,
কেবল আরো চাই,আরো চাই এই শব্দটিকে
পূঁজি করেই চলে,চলছে তাদের জীবন।

চাওয়া এবং পাওয়ার মধ্যে সামঞ্জস্যতা না থাকলেই
ঘটে যায় কতো অঘটন,ঘটে যায় কতো প্রমাদ
তাই সময় থাকতেই কেবলি চাই,চাই
নামক অতি লোভী ঘোড়াটিকে লাগাম টেনে ধরতে
না পারলে,খোয়াতে হবে জীবনের অমূল্য কিছু
যার মূল্য হয়তোবা শোধিবেনা
সারা জনমেও।
২২/০১/১৬
দাতিয়াপাড়া।

২৯. মৃত্তিকার ক্রন্দন
বসুমাতা! তুমি অপরাজিত,অপ্রতিসম আদর্শলিপি
তোমাতে বিস্মৃত মোরা হেরিয়া তোমার অসীম সহনতা
আর তব পৃষ্ঠে মূর্খেরা সার্থের খড়ুগ উড়ায়
তাহারাও তোমারি আদম সন্তান!
তিল সম লজ্জার লেশটুকু ও নেই তাহাদের মননে।
ছিঃ এই লজ্জা কি তাদের নাকি সমগ্র জাতির?

বোমার ছোবলে,মৃত্যিকার ক্রন্দনে
অনিল,ব্যোম প্রকম্পিত হলেও
প্রকম্পিত হয়না ওদের চিন্তা,চেতনার ধারা,
প্রকম্পিত হয়না তাদের আসুরিক ভাবদ্যোতকের
তাহারাও এই গ্রহেরই মানুষ!নয় কোন ভিন গ্রহের এলিয়েন।

ওহে সুবোধ সন্তান! বিস্তৃতির অতল সায়রে
ডুবিয়াছো তুমি? এই কি তোমার অভিলাষ?
ভাবিয়াছো কি কর্ণদ্বয় বন্ধ থাকিলেই বসুধা শান্ত?
তাহলে ভুল ভাবিয়াছো,
যেদিন তোমারি ছোড়া বুলেট উড়িয়া পড়িবে নিজ কলেবরে
সে দিন আর ক্ষণমূহুর্তও পাইবেনা আপন জান রক্ষিবারে।

তাই আর নয় কলহ,আর নয় চাঞ্চল্যতা
জেগে ওঠো তুমি,জাগিয়ে তুলো
ধরিত্রীর প্রতিটি হৃদয়ের বিবেকালয়কে,
প্রতিবাদ করো সকল অন্যায়ের বিভীষীকাকে,
প্রতিহত করো স্বীয় অসুর সত্ত্বাকে
তবেই তুমি সত্যের সার্থক পতাকাবাহী হিসেবে
নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে।
২৯/১১/১৫
দাতিয়াপাড়া।

৩০. সুখ বনাম দুঃখ

সুখ, দুঃখ কম বেশি
থাকবেই তারা পাশাপাশি
যতই থাকুক টাকা ভুরি ভুরি,
আছে তোমার দালান কোটা
কিংবা বাড়ি,গাড়ি ছ’টা
মনে হবে তবু মরি,মরি।

ভাবছো তুমি নয়কো মন্ত্রী
নইলে হতে সুখের তন্ত্রী
মিঠাইতে বাসনা সবাকার
হাজার চিন্তা মাথায় নিয়ে
কি করতে বিছানায় গিয়ে?
দেখতে তখন সবই একাকার।

ভাবছো তোমার নেইকো টাকা
নইলে খুলতো ভাগ্যের চাকা
সবই ধরা দিতো তোমার হাতে
দেখবে কতো কোটিপতি
ঘটাচ্ছে নিজের দুর্গতি
আরো হাত রেখেছে কতো মাথে।

তাই বলি ভাই আজ এই ক্ষণে
কি ভাবিছ?আপন মনে
পড়েছো কি অতল সায়রে?
দেখবে ধনী আর দরিদ্র
হউক সে বৃহৎ কিংবা ক্ষুদ্র
সুখের সাথে দূঃখও বরণ করে।
০২/০৩/১৩
১৪৮,বসুন্ধরা,দর্জিবন্ধ,সিলেট।

৩১.দীর্ণ-বিদীর্ণ হৃদয়

সুখগুলো যখন আসতে শুরু করে
তখন দলবেঁধে আসতে শুরু করে
আর যখন দুঃখগুলো আসে তখনো দলবেঁধেই আসে
এটাই বুঝি পৃথিবীর অমোঘ নিয়ম।

জীবন খেলায় হেরে যিনি
দীর্ণ বিদীর্ণ হৃদয় নিয়ে বসে আছেন
আপন মনে,আপন নিলয়ে
তিনিই বুঝেন ভালো,কতো দিনে বছর,তিনিই বুঝেন ভালো কিভাবে দিন যায়,রাত্রি পোহায়।

সংসার সাগরে দূঃখ নামক সাঁকোটি
পেরুতে হলে সাবধানে পদ ফেলতে হয়,
যৎকিঞ্চিত পিচ্ছিলে যে পড়ে যেতে হয় হতাশার অতল গহ্বরে
যেখানে কেবল প্রবেশই সহজ
কিন্তু বেরোনোর আশা খুবই ক্ষীণ।
২২/০১/১৬
দাতিয়াপাড়া।

৩২. আজন্ম পাপ

জলকণাগুলো শুধায় আমায়
কেমন আছি আমি?
বলি ভালই আছি,
ভোরের শিশির কণাগুলো শোধায় আমায়
কেমন চলছে আমার জীবন?
বলি ভালই চলছে,
ঘাসবনের উপর দিয়ে,সোনালী ধান ক্ষেতের আলবেয়ে যেতে যেতে ধানশীষেরা আমায় শুধায়
আমার জীবন যুদ্ধ কেমন চলছে?
বলি ভাই ভালই চলছে।

এই হলো আমার সুখের সমাচার-
জীবন যন্ত্রনায় ওড়ামুড়ি করে চলেছি আমি
পৃথিবীর পথ বেয়ে বেয়ে
কখনো হেঁটে হেঁটে আবার কখনো সাতারিয়ে,
উজবুকেরা সব পিছু নিয়েছে আমার,
বলিতে চাই কিছু,আবার বলিতে নাহি পারি
সুখেই চলেছি আমি!

অসত্য আর দাম্ভিকতায় ছেয়ে গেছে সমাজ
নাহি কোনো উঁচু ভেদাভেদ
“নগণ্য হয়েছে আজ জগণ্য
আর যিনি মান্য হয়েছেন অতি সামান্য,আজন্ম পাপীরাও হয়েছে আজ নিষ্পাপী
শুধুই শক্তির বলে”
দেখছি কতো অনেক,
তাই বলছি মন্দ কিসে,ভালই চলছি আমি পরম করুনাময়ের অসীম করুণার জোরে।

২৪/০১/১৬
কবিকুঞ্জ,বাট্টা।

৩৩.পাঁজর ভাঙ্গা দূঃখ

আমি যে এক পথ হারা পথিক
জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত চলে বিষাদের ছায়ায়
চলে আলোছায়ার খেলায়।

জীবনের রঙ্গ মঞ্চে আমি কে?
আমি যে কেবলি একজন অভিনেতা বৈকি!
আবার আমিই যেনো দর্শক,
ক্ষণে হাসি,ক্ষণে কাঁদি
আবার ক্ষণে কাঁদাই অপরকে
এই হলো আমার জীবন নদী
যে নদীতে আমিই শুধু মাঝি
পথিক ও সেই আমিই।”

আমার মাঠে আমিই খেলোয়াড়,
আবার রেফারিও সেই আমিই
বিজয়ীও হই আমি
আবার পরাজিত সেই আমিই!
বুক ভরা সুখ নিয়ে চলি আমি,
আমিই চলি পাঁজর ভাঙ্গা দূঃখ নিয়ে,
তবুও হেঁটে চলেছি আমি
হাজারো পথ হারা পথিকের ন্যায়
শিকড়ের সন্ধানে,জীবন নদীর তটে ফুঁফিয়ে হাঁপিয়ে।
১১/০৭/১৬
দাতিয়াপাড়া।

৩৪.দুঃখ কথন

দূঃখ আমার জীবন মরণ
দুঃখ আমার সাথী
দুখ সরাতেই লড়ি
আবার দুখ থাকাতেই বাঁচি।

সুসময়ে কেউ লাগে না
দুঃসময়েই লাগে
দুঃসময়ে মতি ভ্রমে
দুঃখই আসে আগে।

বলে বন্ধু কেউ না থাকলেও
আমি আছি সাথে
অযথাই কু টেনশান নিয়ে
হাত দিয়োনা মাথে।

চেয়ে দেখো তোমার সামনে
কতো ভবিষ্যৎ,
বাঁচতে হলে ক্ষুদ্র দুঃখ
করো তুমি বধ।

মনে তখন সাহস নিয়ে
বড়ো চিন্তা করি,
বড়ো দুঃখ সঙ্গী করেই
বাঁচার জন্য লড়ি।

এভাবেতেই দুখ সরাতে
দুঃখই আমার বল
দুঃখই আমার সুখের শুরু
দুঃখই সুখের মূল।
২২/০১/১৭
কবিকুঞ্জ,বাট্টা

৩৫. শিক্ষক!

সারা জনম পড়া লেখা করলে কতো তুমি
বিদেশ থেকে ডিগ্রী নিয়ে ফিরলে স্বদেশ ভূমি
শিক্ষকতার চাকরি নিলে মহৎ পেশা ভেবে
সারা জনম যাচ্ছে তোমার অভাবে অভাবে
এই কি ছিলো ভাগ্যের লিখন এই কি ছিলো ভালে
নাকি তোমার ইচ্ছার বসে শিক্ষক তুমি হলে
ভুল করেছো এই সমাজে শিক্ষক তুমি হয়ে
দিন মজুরের সম্মান বেশী দেখবে তুমি চেয়ে
কিন্তু মুখে কতো সম্মান দেখবে শিক্ষক সমাজ!
বেতন-ভাতার কথা বললেই বলবে তোমায় বেলাজ
বলবে তোমায় তুমি যে ভাই কেনো এতো লোভী,
মনে হবে তার ধন সম্পদ নিয়েছো তুমি সবি
আর যদি বলোনা কথা বেতন ভাতা নিয়ে
দেখবে তুমি তোমার মনিব হাসবে খিলখিলিয়ে
বলবে তোমায় মহৎ তুমি,অমূল্য তোমার বাণী
শিক্ষক! তুমি জ্ঞান সমুদ্র, আমরাতো অজ্ঞাণী।

তোমার ছাত্র শিখবে পড়া হবে ব্যারিস্টার
হবে দেশের কর্তা ব্যক্তি রুখবে সাধ্য কার?
এরাই হবে মন্ত্রী,সচিব সময়ের ডাল বেয়ে
শিক্ষক তুমি শিক্ষকই রবে দেখবে কেবল চেয়ে
তোমার ছাত্রই আসবে একদিন তোমার বিদ্যাপীঠে
তখন সে আর সেই ছাত্র নয় যারে ধমকায়িতে
পরিদর্শক হয়ে সেদিন উল্টো জিজ্ঞাসিবে
প্রতিষ্ঠাণ এমনি চালায় দেখবেন একটু ভেবে
দিনের পর দিন ঘটছে এমন দেখবো আরো কতো
এমনি মন্ত্রীর শিক্ষক লাঞ্চনা ঘটছে শতো শতো
অপমান আর লাঞ্চনাতে বেঁচে থেকেও যেনো মরা
শিক্ষক! তোমার দুঃখ কিসের ওরাও তো তোমারি গড়া!
তোমার ছেলেই মন্ত্রী-এমপি কতো গর্ব তোমার
কতো বড়ো স্যার হয়েছো ভেবে দেখেছো একবার!
আমরা তোমায় কি জ্ঞান দেবো মোরা কিছুই না জানি
শিক্ষক!তুমি জ্ঞান সমুদ্র, আমরাতো অজ্ঞাণী।
বলবে তোমায় মহাজ্ঞাণী, তুমিই জাতির বিবেক
তোমার থেকেই শিক্ষা নেবে গন্ড মূর্খ অনেক
শুনে হয়তো খুশিই হলে শান্তি লাগলো তোমার
মনে ভাববে তোমার মতো সুখি কেউ নাই আর
ভুল ভেবেছো ধৈর্য ধরে থাকো কিছু দিন
দেখবে হঠাৎ তারাই বলবে তোমায় জ্ঞাণহীন
তিল পরিমান তোমার কাজে ফাঁক পেলে ভাই তারা
তুচ্ছ বলে ধিক্কার দেবে প্রশংসা করেছিল যারা।
আবার বলবে আমরা জানি,আপনি জ্ঞাণী লোক
আপনি যদি ভুল করেন ভাই কেমনে দেখাই মুখ।
আমরা তো মুর্খ মানুষ বুঝিনা এসব কিছু
এজন্যই তো আমরা সবাই ঘুরি আপনার পিছু,
বলবে না কেউ শিক্ষক হলেও উনিও মানুষ বটে
কিঞ্চিৎ ভুলে এই সমাজে কেনো এতো কথা রটে?
বলবে আরো কেনো ভুল করবেন,আপনিতো মহাজ্ঞানী?
শিক্ষক! তুমি জ্ঞাণ সমুদ্র আমরাতো অজ্ঞাণী।
১৮/০১/১৭
দাতিয়াপাড়া।

৩৬.কূড়ে ঘর কূড়ের জল

তখন আমি দশবছরের এক বালক
জিরাত করতে যেতোম মকসুদ পুরে
চারপাশে ঘাসবনে ঘেরা গ্রামটির কথা আজ ভীষণ মনে পড়ছে আমার,
ভীষণ মনে পড়ছে,ছোট ছোট কূড়ে ঘরগুলোর কথা
এবং দুগ্ধ রুপী কূড়ের জলের কথা।

একটার সাথে আরেকটা কূড়ের ঘর আঁটসাঁট
হয়ে লেগে থাকতো, কখনো কখনো
লাল, সবুজ, খয়েরী রঙ্গের ফড়িং ধরতে যেয়ে
ওগুলোর পেছন দিয়ে দৌড়াতোম।
ঘুড়ি ওড়ানোর বেলায় ঐ ঘরগুলোর টুইয়ে ঘুড়ি বেঁধে রাখতোম
আবার কখনো লুকোচুরি খেলার ছলে
ওই ঘরগুলোর কোনোয় কোনোয় লুকিয়ে থাকতোম আপন মনে।

মাঝ দুপুরে স্নান করিবার কালে
দাঁড়িয়ে থাকতোম স্মৃতি ঘেরা ওই কূড়ের পাড়ে,
একদল সাঁতারিয়ে উঠে গেলে নেমে যেতোম আমরা আরেক দল।
ডেকে তুলতেন ঠাকুর মা,বলতেন দাদু ভাই, কূড়ের জলে কুমীর আছে,
একা জলে আসবিনা তুই কভু,
তুই যে আমার আদরের দাদুভাই।

বিকেল বেলায় হারিয়ে যেতোম মাঠে
খেলতোম কতো রঙ্গের খেলা,
সন্ধ্যে হলে গরু নিয়ে ফিরতোম ঘরে,
কখনো মায়ের আদর,কখনো মায়ের বকুনি,
বড়ো শিহরিত সেই দিনগুলি।

মাছ ধরতে যেতোম লালুক্কার বিলে
যেতোম কাট্টুউড়ায়
কখনো পলো দিয়ে,আবার কখনো ইজারাদারের ভয়ে
মাছ শিকার না করে বাড়িতে চলে আসতোম,
কতো আনন্দ, বিষাদের দিনগুলি।

নৌকো নিয়ে যেতোম ঘুরমার বিলে
ডেগ ভরে তুলতোম সিংড়া
নিয়ে আসতোম বাড়িতে,
সিদ্ধ করে চুলিয়ে দিতেন ঠাকুর মা
খেতোম কতো মজা করে, কতো রঙ্গ করে।

যেতোম কানা মিয়ার হাওরে,চড়াতোম গরু
প্রায় দুপুরেই সাঁতার কাটতোম বৌলাই নদীতে
ভেজা শরীর নিয়েই চলতোম সারা দুপুর,
প্রখর রোদে শুকিয়ে যেতো শরীর নিমিষেই,
খেতোম বাটিতে রাখা দুপুরের হালকা খাবার ওয়াপদার সড়কে বসে।

আজ আর সেই দিনগুলি নেই,আজ নেই ইজারাদারের ভয়,আজ নেই লাল,কালা, দলামিয়া ডাকাতের ভয়,আজ নেই মা, ঠাকুরমার বকুনি খাওয়ার ভয়,
ভীষণ মনে পড়ছে সেই স্মৃতি ঘেরা দিনগুলির কথা,
ভীষণ মনে পড়ছে,স্মৃতিময় সেই মানুষগুলির কথা,
ভীষণ মনে পড়ছে
খেলার সাথী সুজন,রিটন,রুপন,রেন্টুদের কথা
যাদের সাথে কাটিয়েছি আমার ছেলেবেলা,
সুখে থাকুক,ভালো থাকুক সবে
স্রষ্টার কাছে এই আমার কামনা।
২২/০১/১৬
কবিকুঞ্জ,বাট্টা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে