শতভিষা।।শতভিষা নারী সংগঠণ।।সিলেটের নারীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।।সিলেটের নারী সংগঠণ শতভিষা।।

1
477

“শতভিষাঃ সিলেটের নারীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।সংগঠনটি ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন নারী উন্নয়ন মূলক ও সামাজিক প্রোগ্রাম সফলের মধ্য দিয়ে সিলেটের সাহিত্য তথা সাংস্কৃতিক জগতে এক অনন্য জায়গা দখল করে নিয়েছে।সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও মূখ্য নির্বাহী রীমা দাস’র সাথে কথা বলে যতটুকু জানা যায় তা তাঁর নিজের উদ্ধৃতি হতে সরাসরি নিম্নে তুলে ধরা হলো।


সংগঠনের লগো

“স্বপ্ন সেটি নয় যা আমরা ঘুমিয়ে দেখি, বরং স্বপ্ন সেটাই যা আমাদের ঘুমাতে দেয় না- এ.পি.জে আব্দুল কালাম আজাদ স্যারের এই বাণী আর কবি নজরুলের “বজ্রে তোমার বাজল বাঁশী বহ্নি হ’ল কান্না হাসি” এই বীজমন্ত্রকে শ্লোগান করে একদল তরুণী স্বপ্ন দেখতে শুরু করল। তাঁরা বিশ্বাস করে এই পুরো মহাবিশ্ব তাঁদের। তাঁদের ভেতর অমিত সম্ভাবনা, তাঁরা এক একজন অগ্নি স্ফুলিঙ্গ, এক একজন নক্ষত্র। যাঁরা যেখানে থাকবে নিজের আলোয় আলোকিত করবে সংসার, সমাজ, বিশ্ব। আমাদের সমাজের চারপাশে এখনও অন্ধকারে আচ্ছন্ন। সেই অন্ধকার দূর করার সম্মিলিত প্রচেষ্টার নামই ‘শতভিষা’, নারীদের সমন্বয়ে গড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

প্রতিষ্ঠাতা ও মূখ্য নির্বাহী রীমা দাস

২০১৭ খ্রিঃ ২২শে মে স্বপ্নবাজ তরুণীরা একত্রিত হয়ে তাদের স্বপ্নগুলোকে বিনাসুতার মালায় গাঁথে। সেদিন থেকেই শতভিষা’র পথ চলা শুরু। শতভিষা নামক সেই মালায় রং, রূপ, গন্ধ দিয়ে একটি ব্যতিক্রমী আত্মপ্রকাশের জন্য থাকে সবার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেয় মঞ্চনাটক দিয়ে তাঁদের আত্মপ্রকাশ হবে। কারণ মঞ্চ নাটকের অস্তিত্ব ছিল মানবসভ্যতার প্রত্যূষকাল থেকে। নাটক জীবনের কথা বলে, মানুষের কথা, সময় ও ইতিহাসের কথা বলে। এই বলা কথাগুলো খুব সহজে মানুষের মনে রেখাপাত করে, মানুষের বোধকে নাড়িয়ে যায়, মানুষকে ভাবায়, সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার হিশেবে কাজ করে। তাই ৩ নভেম্বর ২০১৭ খ্রি. ‘শতভিষা’র আত্মপ্রকাশ মঞ্চনাটক -‘নারীপুরাণ’ দিয়ে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শতভিষা তাঁদের নিয়মিত কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সৃজনশীলতার সাথে। শতভিষা প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে আয়োজন করে ‘মুক্তির কথা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠাণ। ‘মুক্তির কথা’য় আমাদের দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের রণাঙ্গনের গল্প শোনান। এবং শতভিষা সেইসকল বীর সন্তানদের শ্রদ্ধাস্বরূপ সংবর্ধনা প্রদান করে থাকে।
শতভিষা তাঁদের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতি বছর ৮ মার্চ “আমাদের জাগরণ” শিরোনামে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব নারী দিবস পালন করে থাকে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। এবং প্রতি বছর বিশ্ব নারী দিবসে একজন আলোকিত নারীকে সম্মাননা প্রদান করে থাকে।

নারী ধর্ষণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের প্রতিবাদে এবং ধর্ষণকারী ও নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শতভিষা নিয়মিত অবস্থান কর্মসূচি পালন করে থাকে।
শতভিষা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিয়মিত সেমিনারের আয়োজন করে থাকে। যেসব সেমিনারে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে নারীদের শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতামূলক দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি, নারীদের ঘরে ও ঘরের বাইরে নির্যাতন-নিপিড়নের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার ব্যাপারেও পরামর্শ প্রদান করা হয় সেমিনারগুলোতে। এছাড়াও শতভিষা দেশের জাতীয় দিবসগুলোর সকল কর্মসূচি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে থাকে।

একবিংশ শতকে দাঁড়িয়েও শতভিষা লক্ষ করেছে নারীরা এখনও অবহেলিত। আমাদের প্রাণের কবি, বিদ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলাম মনে করতেন– নারীরা শোষণ শৃঙ্খল থেকে মুক্তি অর্জন করতে হলে নারীদেরই এগিয়ে আসতে হবে সবার আগে। কবির সাথে শতভিষাও একমত। শতভিষা আরও বিশ্বাস করে নিজেদের অধিকার পেতে হলে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। অর্জন করতে হবে সাহস, সততা, দক্ষতা আর নির্ভীকতা। সমাজের মূল স্রোতে এখনও নারীদের অংশগ্রহণ কাঙ্খিত পর্যায়ের চেয়ে অনেক নীচে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সর্বস্তরে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ হবে শতভিষা’র লক্ষ। ‘শতভিষা’ হবে এমন একটি আঙ্গিনা যেখানে নারীরা হাতে হাত রেখে চলবে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে, উচ্চকন্ঠে সমস্বরে তুলে ধরবে তাদের আনন্দ, বেদনার অনুভূতি ও নিজেদের ন্যায্য অধিকারের কথা। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বলেছিলেন- “আমরা জড়োয়া অলংকার রূপে লোহার সিন্ধুকে আবদ্ধ থাকিবার বস্তু নই, সকলে সমস্বরে বলো- আমরা মানুষ।” তাঁর সেই কন্ঠস্বর অনুরণিত হবে শতভিষা’য়- আমরা মানুষ।
সামগ্রিকভাবে নারীর ব্যক্তি অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, বৃত্ত ভেঙ্গে সমাজের সব ক্ষেত্রে নারীর স্বতঃস্ফুর্ত অংশই ‘শতভিষা’র ভিশন।”

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে