মন্দিরে ঘন্টা কেন বাজানো হয়?

0
138

মন্দিরে ঘন্টা কেন বাজানো হয়

হিন্দুধর্মে পূজার গুরুত্ব অপরিসীম, পাশাপাশি পূজা ঘণ্টার স্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ । মন্দিরের দরজাই হোক বা বাড়ির মন্দিরেই হোক ঘণ্টা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। উপাসনালয় ও বিশেষ স্থানে ঘণ্টা বা ঘণ্টা রাখার প্রচলন আজকের নয়, প্রাচীনকাল থেকেই। ঘণ্টা বাজানোর পেছনে মানুষের বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী ঘণ্টার রহস্য হল বিশেষ কিছু।

ঘণ্টা সম্পর্কত এই শ্লোকটি শাস্ত্রে আছে।

“আগামারধামতু দেবানাম গামানারধামতু রাক্ষসম

কুরু ঘন্টারাবাম ক্রুতা দেবতাবান লঞ্চনাম”

যার মানে আমি এই ঘন্টাটি বাজাচ্ছি…দেবতাদের আগমনের জন্যে আর অশুভ শক্তিদের গমনের জন্যে

ভগবানের আগমনের জন্যে, মূলতঃ ঘন্টা বাঁজানো হয়ে থাকে
## আধ্যাত্মিক কারণ ##

– তামা, রূপা, সোনা, দস্তা ও লোহা— এই পঞ্চ ধাতুতে তৈরি ঘণ্টা পঞ্চভূতের প্রতীক।

– ভক্তের উচ্চারিত ‘ওঁ’ ধ্বনির সঙ্গে রণন তোলে ঘণ্টাধ্বনি। এতে সৃষ্ট হয় বিশেষ এক ভাব, যা একান্তভাবেই আধ্যাত্মশক্তির উন্মেষ ঘটায়।

– মনে করা হয়, ভক্তরা মন্দিরে প্রবেশ করলে, মন্দিরে উপস্থিত দেবতার অনুমতি চাইতে বা তার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য একটি ঘণ্টা বাজানো হয়।

– অনেক সময় মন্দিরের দেবতারা ঘুমিয়ে থাকেন, এমন অবস্থায় প্রথমে ঘণ্টা বাজিয়ে তাদের জাগিয়ে পূজা করা উচিত।

– দেবতাদের খুশির জন্য ঘণ্টাও বাজানো হয়। কথিত আছে দেবতারা ঘণ্টা ও শঙ্খের ধ্বনি পছন্দ করেন। ঘণ্টার শব্দে দেবতারা খুশি হন এবং ভক্তদের উপর তাদের আশীর্বাদ বর্ষণ করেন। এই কারণেই মন্দিরে ঘণ্টা বাজানো হয়।

– আরতি সময়েও ঘণ্টা বাজানো হয়। মনে করা হয়, ঘণ্টাধ্বনি অশুভ শক্তিকে পরাস্ত করে। এছাড়াও আরও একটি বিষয় রয়েছে। মনে করা হয়, ঘণ্টাধ্বনি এই সময়ে ভক্তের চিত্তকে একাগ্র করে। পাশাপাশি, আরতির সময় ঘণ্টাধ্বনি করে দূরবর্তী ভক্তকেও সচেতন করা হয়।

– ‘স্কন্দ পুরাণ’ অনুসারে, মন্দিরে ঘণ্টাধ্বনি মানুষের শতজন্মের পাপস্খালন করে।

– শাস্ত্র অনুযায়ী, ঘণ্টা কাল-এর প্রতীক। যুগান্তের সময়ে নাকি শত সহস্র ঘণ্টা ধ্বনিত হবে।

বৈজ্ঞানিক কারণ

– বিজ্ঞানীরা বলছেন যে ঘণ্টা বাজানোর ফলে পরিবেশে একটি কম্পন সৃষ্টি হয়। এই কম্পন বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, এই ধরনের অণুজীব ইত্যাদি ধ্বংস হয়ে যায় এবং বায়ুমণ্ডল বিশুদ্ধ হয়। তাতে সর্বত্র ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করে।

– যে সমস্ত জায়গায় নিয়মিত ঘণ্টা বাজায়, সেখানে ইতিবাচক শক্তির যোগাযোগ হয় এবং নেতিবাচকতা দূর হয়। এর পাশাপাশি ঘণ্টার আওয়াজ মানুষের মন ও মনের ওপর খুব গভীর প্রভাব ফেলে।

– মানসিক চাপকে অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। এই কারণে, লোকেরা বাড়ির দরজা-জানালায় উইন্ডচাইমও স্থাপন করে, যাতে এর শব্দ থেকে নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং ইতিবাচক শক্তি ঘরে প্রবেশ করতে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে