মধ্যনগর উপজেলাঃ আশ্বাস নয় চাই পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন

0
166

মধ্যনগর উপজেলা,আশ্বাস নয় চাই পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন

জীবন কৃষ্ণ সরকার

এক.
লিখাটা এমন একসময়ে লিখছি যখন মধ্যনগর উপজেলা বাস্তবায়নের এই দাবিটি পুরোপুরি গণদাবিতে পরিনত হয়েছে।হাওর বেষ্টিত এই ভাটির জনপদটি আকাশে বাতাসেও যেনো একই রব।তারপরো দীর্ঘদিন দাবিটি পূরণ না হওয়ায় অনেকে অনেকটা হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছেন।তাদেরকে আমি বলি আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা আমেরিকার সেই দিগ্বিজয়ী প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের সেই বিখ্যাত উক্তিটির কথা -“পরাজয় মানেই শেষ নেয় যাত্রাপথ একটু দীর্ঘ হওয়া মাত্র”। আমিও আজ আপনাদের এটুকুই বলবো পরম স্রষ্টার অসীম করুনায় মধ্যনগর উপজেলা আমাদের বাস্তবায়িত হবে হবে হবেই।
এ দাবি আমাদের খেয়ালের দাবি নয়, এটা আমাদের প্রাণের দাবি,যৌক্তিক দাবি,অস্তিত্বের দাবি।কারো ব্যক্তিগত এলার্জিতে আমরা এ দাবি থেকে ফিরে আসবো কেনো?

দশম শ্রেনীতে অধ্যয়ন কালে বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি লেখক প্রমথ চৌধুরীর একটি উক্তি মনে পড়ে গেলো।উক্তিটি হলো “মনের দাবি রক্ষা না করলে আত্মা বাঁচেনা।” জীবনের প্রতিটি ক্ষনে সেই উক্তিটি উপলব্ধি করি।তাই আজ এই ক্ষনে এই দাবিটিও সেরকমই মনে হচ্ছে।এটা এখন আত্মার সাথে সম্পর্কিত দাবিতে পরিনত হয়েছে।তাই দ্রুত এর বাস্তবায়ন চাই। বহুদিন যাবত আমার উপর কিছু পাঠকের অনেকটা চাপ ছিল এতদবিষয়ে কিছু একটা লিখার জন্য।কিন্তু কথায় আছে না বেকারের ব্যস্ততা বেশি।আমার অবস্থাও তাই।প্রায় নয় মাস যাবত লেখার টেবিলে বসতেই পারছিলামনা।তাছাড়া মধ্যনগর উপজেলা বাস্তবায়ন বিষয়ক এতো বড়ো একটা ইস্যু নিয়ে আমার মতো একজন কাব্যিক মনস্ক ক্ষুদ্র লেখকের প্রবন্ধ সমাজে কতটুকুই বা গ্রহনযোগ্য হবে এ ব্যাপারে অনেকটাই সন্ধিহান প্রায়।তবে বরাবরই লিখতে আগ্রহী ছিলাম যদিও আমার কিছু পাঠক ইতোমধ্যে বিরক্ত হয়ে ধরেই নিয়েছেন হয়তোবা আমি ব্যক্তিগতভাবে দাবিটাকে গুরুত্ব দিচ্ছিনা।তাঁদেরকে বলি আমি মধ্যনগরেরই সন্তান।ওখানকার আলো বাতাস খেয়েই আমার সোনালী শৈশব কেটেছে।জন্মের পর যখন বুঝতে শিখি শনিবারটাই ছিল আমার কাছে পূর্ণিমার চাঁদের মতো শুধুমাত্র ওই দিন বাবার সাথে বাজারে গিয়ে মিষ্টি,নাড়ু খাবো বলে।পথে যেতে যেতে কতো কি দেখা আর দুষ্টুমিতো আছেই।এখনো মধ্যনগরের কথা মনে হলেই আবারো শৈশবে হারিয়ে যাই হিজল- করচ- নলখাগরা বনে।কিছু দিন আগেও সিলেট রিকাবি বাজারে মধ্যনগর ফুটসাল টুর্ণামেন্টে বিগত চৌদ্দ বছরে কোন সিনেমা নাটক, টুর্ণামেন্ট না দেখা মানুষটি দর্শক গ্যালারিতে যোগ দিয়েছি কেবল মধ্যনগর শব্দটি বার বার শুনবো বলে,মধ্যনগরের মানুষজনদের দেখবো বলে।অতএব মধ্যনগরের উন্নয়ন মানেই আমার ব্যক্তি উন্নয়ন,মধ্যনগরের উন্নয়ন মানেই আমার অস্থিত্ত্বের উন্নয়ন।এতে সূচাগ্র পরিমান সন্দেহের অবকাশ নেই।তাই মধ্যনগর উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিটি অবশ্যই আমারো প্রাণের দাবি।তাই এই বিষয়ে লিখাটা আমারো নৈতিক দায়িত্বই বটে। পাঠকদের জানিয়ে রাখি এতো দীর্ঘ আন্দোলনের পূর্ণাঙ্গ তথ্যের দুষ্প্রাপ্যতা,আর যে সময় থেকে আন্দোলনটা চলে আসছে বয়সের অপর্যাপ্ততার জন্য গোঁড়ার দিকটা আামার প্রায় অনেকটা অজানাই।তারপরো বিভিন্ন মিডিয়া এবং লোকমুখ থেকে শুনে যতটুকু সংগ্রহ করতে পেরেছি তার চুম্বক অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করছি।কোন অনাকাংখিত ভুলের জন্য অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।সমগ্র কলামটি পড়ে কোন তথ্যের ঘাটতি, কোন তথ্যের পরিবর্তন,পরিবর্ধন প্রয়োজন পরলে অবশ্যই তা মার্জিত ভাষায় আমাকে বলবেন,জানাবেন।তবে তা উপযুক্ত সূত্রভিত্তিক,প্রমান ভিত্তিক এবং পত্রিকা নির্ভর হতে হবে।সঠিক তথ্য হলে অবশ্যই আমি তা গ্রহণ করবো।যাহোক পাঠক বন্ধুরা চলে যাচ্ছি এবার মূল প্রবন্ধে।

দুই.
উপজেলা কি?
“উপ” অর্থ হচ্ছে ছোট (আপেক্ষিক অর্থে)।তাই উপজেলা নিঃসন্দেহে জেলার চেয়ে ছোট একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা।আর বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় উপজেলা ভিত্তিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিঃসন্ধেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ একক।কতগুলো গ্রাম তথা ইউনিয়ন নিয়ে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলা হয়।যতদূর জানা যায় ১৯৮২ সালের ৭ই নভেম্বর স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ ১৯৮২ বলে প্রথম থানা পরিষদ গঠণ করা হয় এবং পর্যায় ক্রমে থানা গুলোকে উপজেলা পরিষদে রুপান্তর করা হয়।কিন্তু ১৯৯১ সালে অধ্যাদেশটি বাতিল করে ১৯৯৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অধ্যাদেশটি পূনরায় চালু করা হয়।বিগত ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ আইনটি আবার সংশোধন করা হয়।বর্তমানে দেশে ৬৪টি জেলায় মোট ৪৯২ টি উপজেলা রয়েছে।

তিন.
কালের প্রবাহে মধ্যনগর

জনশ্রুতি অনুসারে স্বাধীনতার আরো পূর্বেই মধ্যনগর বাজার গঠিত হয়েছিল। কোন লিখিত সূত্র না পেলেও লোকমুখে শোনা যায় কোন এক সময় এই জনপদটি আনন্দনগর হিসেবে পরিচিত ছিল। কালের প্রবাহে সেই নামটি বিলুপ্ত হয়ে মধ্যনগর নামটিই এখন আমাদের আত্মার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বলার অপেক্ষা রাখেনা সুনামগঞ্জ জেলার দুর্গম হাওরাঞ্চলের আরেক নাম মধ্যনগর।যদিও বর্তমান সরকারের আমলে এই জনপদের অনেক উন্নতি সাধন হয়েছে।রাস্তাঘাট নির্মিত হয়েছে তবুও রাস্তাঘাটগুলো রয়েছে বেহাল দশারো নিচের গ্রেডে।চার চাকা তো দূরের কথা দুই চাকার মোটর সাইকেলও একা চালিয়ে যেতে ভয় পায় অনেকেই।মহিষখলা থেকে মধ্যনগর যেতে দিক্রযানে কেউ একবার গেলে মাসে আরেকবার যেতে চাইবে কি না সন্দেহ।আমি হলে তো ছয় মাসের নিচে কল্পনাও করতে পারিনা।বর্ষাকালে সমস্যা আরো প্রকট। কোন একসময় শুধু জলযান চলতো সেটা অনেক ভালো ছিলো।বড়ো বড়ো ছাদওয়ালা ট্রলার চলতো। মোটামুটি নিরাপদ ছিল।শখ করেই মা-বাবার বাঁধা উপেক্ষা করে মধ্যনগর যেতাম।কিন্তু এখন স্থল এবং জলযান মিলে কোনটাতেই সুবিধে নেই।স্থলে গেলে কোমড়ের অবস্থা খারাপ আর জলে গেলে উদোম টেম্পো ঢেউয়ের ভয়,বৃষ্টি ঝঞ্চার ভয়,সব মিলিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা।একবার গেলে আরেকবার কাউকে উল্টো বায়না ধরেও নেয়া যাবে কিনা সন্ধেহ।তবু এই জনপদটি প্রায় দেড় লক্ষাধিক জনমানুষের অস্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত।দুমুঠো ভাতই বলেন আর এক কড়াই তরকারির উপকরনই বলেন সবকিছুই এখনো আসে ঐ ভাটির রাজধানী খ্যাত মধ্যনগর বাজার থেকেই।মধ্যনগর সদর,চামরদানি,বংশীকুন্ডা উত্তর এবং বংশীকুন্ডা দক্ষিণ এই চারটি ইউনিয়ন নিয়ে ২২০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে প্রায় দেড় লক্ষাধিক লোকের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির প্রাপ্তির স্থান আজকের এই মধ্যনগর।মধ্যনগরের মানুষ জনেরা খুবই মায়াবী।শৈশবের একটি স্মৃতি মনে না করেই পারছিনা।তখন ২০০৩ সাল।এস.এস.সি পরীক্ষায় মধ্যনগর পরীক্ষা কেন্দ্রে সে বছর আমি সর্বোচ্চ ফলাফল করি।পরের দিন বাবার সাথে গেলোম মধ্যনগর বাজারে।বাজারে যাওয়া মাত্রই যখনি জানতে পারলো আমি সর্বোচ্চ নাম্বারধারী ছাত্রটি, তখনি শত শত অভিভাবক আমাকে ঝাঁপটে ধরে কোলে তুলে নিলো আর কতো কি যে খাওয়ালো তার ইয়ত্তা নেই।দুর্ভাগ্য ক্রমে তার প্রতিদান দেবার মতো যোগ্য আমি হতেও পারিনি তাই দিতেও পারিনি।
যাহোক তাঁদের প্রতি আমি হাজারো কৃতজ্ঞ সারা জনমের জন্য।সেই সাথে পরম স্রষ্টার কাছে তাঁদের সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।এলাকাটি দুর্গম হলেও যুগে যুগে এই এলাকায় পা রেখেছেন বিভিন্ন গুণীজনেরা।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে পররাষ্ট্র্র মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ,রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত,স্বরাষ্ট্র্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল,বিদ্যুৎ প্রতি মন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু,এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম,প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য সহ আরো সামাজিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বগণ এসেছেন বিভিন্ন সময়ে
।এই জনপদে জন্ম নেয়া অনেকেই দেশের শীর্ষপদ সচিব থেকে শুরু করে প্রশাসনিক,পুলিশের শীর্ষ পদে,ব্যাংক,বিসিএস,শিক্ষকতা সহ রাষ্ট্র্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।আরো চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে এলাকার স্বল্প শিক্ষিত মানুষ জনেরা খুবই কর্মঠ।কৃষিকাজ,মৎস্য চাষ থেকে শুরু করে কুটির শিল্পে রয়েছে তাঁদের এক অনন্য অবদান।তাছাড়া হাওর বেষ্টিত এই জনপদটি ধান ফলন এবং ক্রয় বিক্রয়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত।বলা হয়ে থাকে প্রায় ৮০ভাগ ওখানকার মানুষই ধান চাষের সাথে জড়িত।যার দরুণ খাদ্যের দিক থেকে এলাকাটি অনেকটা স্বয়ং সম্পূর্ণই বলা যায়।সৌন্দর্য পিপাসুদের কাছে তো এক ভূসর্গ হিসেবেই পরিচিত। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও তৃতীয় রামসার সাইট হচ্ছে আমাদের টাঙ্গুয়ার হাওর। এর প্রায় দুই তৃতীয়াংশই হচ্ছে মধ্যনগরের অন্তর্গত।উত্তরে হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়দলেরা।মনে হয় যেনো অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে নীলাভ জলের জলখেলি। নীলাভ জলের অতল গহ্বরে গাছ গাছালি তথা পাহাড়ের প্রতিচ্ছবি নিঃসন্দেহে শৈশবের গল্পের স্বপ্নপুরীর স্বপ্নরাজ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।ঢেউয়ের পরশে গাছেদের ডাল পাতাগুলো যেনো নৃত্যে মাতোয়ারা হয়েছে মনে হয়।বিশ্বাস না হয় একবার বর্ষাকালে আমার কলামটি সাথে নিয়ে এসে মিলিয়ে দেখার অনুরোধ রাখছি।বসন্তে যে দিকে চোখ যায় যেনো সবুজ আর সোনালি রুপের সমারোহ।বাতাসে ধানের ঝনঝনানী যেনো সঙ্গীত সৃষ্টির আদিম ধারনাকে মনে করিয়ে দেয়।শীতকালে সুদুর নেপাল, চিন,মঙ্গোলিয়া,সাইবেরিয়া থেকে উড়ে আসে নানা রংবেরঙ্গের অতিথি পাখিরা। এদের মধ্যে লেনজা,বালি হাঁস,মৌলভি হাঁস,বিলাসী শালিক, সরালি,কাইম,মাথা রাঙ্গা,চোখা হাঁস,কালা কুড়া,রামকুড়া সহ নাম না জানা আরো কতো পাখি।জোছনা শোভিত রাতে পাখিদের বিচরন পর্যটকদের নিয়ে যায় আনন্দের আরো এক নতুন ভুবনে।তাছাড়া দেশ সেরা মানিগাঁও শিমুল বাগান,বাংলার কাশ্মির নীলাদ্রি লেক, পিকনিক স্পট বারেক টিলা,পণতীর্থ ধাম তথা শাহ আরফিনের মাজার দেখতে আসা হাজারো পর্যটকদের রাত্রি যাপনের উত্তম স্থান হতে পারে এই ভাটির জনপদ মধ্যনগরে।তাই উপজেলা বাস্তবায়িত হলে এবং এখানকার উন্নয়ন হলে পরোক্ষভাবে সরকারই লাভবান হবে বলে আমি মনে করি।

চার.
উপজেলা বাস্তবায়ন আন্দোলনঃ অতীত থেকে বর্তমান

আমি আগেই বলেছি এই আন্দোলনটা যেহেতু অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে তাই এ-র সঠিক ইতিহাস খুঁজে বের করা সত্যি দূরহ ব্যাপার।তার পরো বিভিন্ন বিশ্বস্থ সূত্র হতে যেগুলো সংগ্রহ করতে পেরেছি তাই তুলে ধরার প্রয়াস করছি।বিস্তারিত জানতে পারলে অবশ্যই তার সংযোজন করার চেষ্টা করবো।তবে সেক্ষেত্রে কোন মৌখিক তথ্য নেয়া হবেনা কেবল ডকুমেন্টারি এবং পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যগুলো গ্রহণ করা হবে।

যতদূর জানা যায় স্বাধীনতার পরে ১৯৭৪ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্র্র মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ প্রথম Anti Dacoit Police Camp (ADPC) হিসেবে মধ্যনগরে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়।১৯৭৬ সালের মার্চের শেষের দিকে বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের কাউহানি গ্রামে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিরোধে সেনাবাহিনীর সাথে প্রতিরোধ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন একই ইউনিয়নের রাঙামাটি গ্রামের কৃতি সন্তান সুকেশ রঞ্জন সরকার।এতে প্রায় ১০/১২ জন সেনাবাহিনীর লোক মারা যায়।তার পর পরই মধ্যনগরে পূর্ণাঙ্গ থানা প্রতিষ্ঠিত হয়(সূত্রঃকালের কন্ঠ)।বলা হয়ে থাকে তাঁরই আন্তরিক চেষ্টায় ২০০১ সালের ৯ মে তৎকালীন ও আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা’র সভাপতিত্বে রাষ্ট্র্রের প্রশাসনিক পূনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার-NICAR-National Implementation Committee for Administrative Reform) এর ৮৬তম বৈঠকে মধ্যনগর উপজেলা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়। একই বছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় কমিশনার স্বাক্ষরিত পত্রে উপজেলা গঠন করা যাবে বলে জানানো হয়। সেই সাথে উপজেলা বাস্তবায়নের নিমিত্ত ২৪ টি অফিসের জন্য ৩৯৫ জনের জনবল কাঠামো প্রনয়ন করা হয়। কিন্তু বিধি বাম হলে কারো যে অবস্থা হয়, মধ্যনগরবাসীরো যেনো তাই। একই বছরের ১ অক্টোবর বি.এন.
পি সরকার ক্ষমতায় আসলে বন্ধ হয়ে যায় উপজেলা বাস্তবায়নের সকল কার্যক্রম।তবুও আশায় বুক বেঁধেছিলেন মধ্যনগরবাসী।কিন্তু ২০০৩ সালের ১৮ ই জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে নিকার’র ৮৮তম সভায় মধ্যনগর উপজেলা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি কবর রচিত হয়।তখন থেকেই লাখো জনতার হৃদস্পন্দনের এই দাবিটি ঘুরতে থাকে আকাশ বাতাস ভারি করে। সেই ২০০৩ থেকে অধ্যাবধি বিভিন্ন জ্ঞানী,গুনী, সামাজিক,সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী,প্রধানমন্ত্রী,জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারক লিপি দিয়ে আসছেন।তন্মধ্যে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ২৩/১০/২০১৬ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় বরাবর,২৪/০৯/২০১৭, বিভাগীয় কমিশনার বরাবর,২৬/৯/২০১৭ জেলাপ্রশাসক বরাবর, ৯/১১/১৭ প্রধানমন্ত্রী বরাবর,৩০/১১/১৭ প্রধানমন্ত্রী বরাবর,
২৬/৪/১৮ জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। দাবিটিকে যৌক্তিক সমর্থন দিয়ে কিংবা ডিও লেটার দিয়েছেন অ্যাড.সৈয়দ রফিকুল হক সুহেল (সাবেক এমপি), অ্যাড.শাহানা রাব্বানী (সাবেক সংরক্ষিত মহিলা এমপি), মোয়াজ্জেম হোসেন রতন(বর্তমান এমপি)। দূঃখ জনক হলেও সত্য যে এতকিছুর পরও আমরা আমাদের ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের কুম্ভকর্ণের ঘুম থেকে আজ অবধি জাগাতে পারিনি।

পাঁচ.
মধ্যনগর উপজেলা বাস্তবায়নঃ দাবি নয় এটা আমাদের অধিকারঃ

“রাষ্ট্র্রের বৈধ জনগণ হিসেবে যখন কোন জিনিস রাষ্ট্র্রের থেকে অবশ্য প্রাপ্য হয়ে দাঁড়ায় তখন তা দাবি থেকে অধিকারে পরিনত হয়।”তাই উপরোল্লিখিত দাবিটি এখন আর দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ইহা আমাদের অধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে কয়েকটি কারনে।

প্রথমত,
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দক্ষিণ সুনামগঞ্জ,জুড়ী, দক্ষিণ সুরমা ও ওসমানীনগর নামে চারটি নতুন উপজেলা গঠন করা হয়েছে। অথচ আমাদের এই দাবিটি অনেক পুরনো এবং দাবিটি ইতোপূর্বে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পূরণ হয়েছিল।তাই এটি অগ্রাধিকার বলেও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি রাখে।

দ্বিতীয়ত,
আমাদের বর্তমান উপজেলা প্রশাসনিক দপ্তর একেবারে দক্ষিণের শেষ প্রান্তে।উত্তর প্রান্ত থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪০ কি.মি. যেখানে যেতে আসতে প্রায় ৫ ঘন্টা সময় লাগে। ছোট বেলায় শুনতাম “ধরমপাশা যাও তবে কতলি(কিছু সংখ্যক) চাউল চিড়া লইয়া যাও।” এতেই বুঝা যায় কতটুকু দূর হতে ওই এলাকার মানুষগুলো যাওয়া আসা করে।

তৃতীয়ত,আয় উন্নতির কথা চিন্তা করলেও পিছিয়ে নেই মধ্যনগর।
জলমহাল থেকেই বছরে প্রায় ১ কোটি টাকা আয় হয়।(সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর) মধ্যনগর বাজার থেকে ৫০-৫৫ লাখ টাকা,মহেষখলা থেকে ১৬ লাখ টাকা আয় হয়। শুধু মধ্যনগর বাজারের ৫০ লাখ মন ধান বছরে বেঁচা কেনা হয়।দুটি খাদ্য গুদামে চাল ধান মজুদ প্রায় ১২৬ টন ও ১৩৫৪ টন (প্রায়)। বাঁশ,কাঠ,ডিম,সুপারি ক্রয়-বিক্রয়ে প্রায়
৪০ কোটি টাকার উপরে আয় হয়।
তাছাড়া এখানে রয়েছে হাজার হাজার একর গোচারন ভূমি।যেখানে গো-সম্পদ পালন করেই লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব।আর এগুলো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন একান্ত প্রয়োজন।

চতুর্থত,
আয়তন এবং জনসংখ্যা বিবেচনা করলে ও পিছিয়ে নেই আমাদের মধ্যনগর।মধ্যনগরের আয়তন ২২০ বর্গ কি.মি. অথচ নারায়নগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার আয়তন মাত্র ৫৫.৮৪ ব.কি.মি. তাছাড়া ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার আয়তন ১৯৫.৪০ বঃ কি.,মি. যা মধ্যনগরের চেয়ে অনেক কম।আর সম্প্রতি ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেটের আরেক উপজেলা ওসমানীনগর’র আয়তন মাত্র ২২৪ বর্গ কি.মি.(তথ্য উইকিপিডিয়া) যা মধ্যনগরের প্রায় সমান। আর লোক সংখ্যা যদি ধরি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লোক সংখ্যা ১৮৩,৮৮৩ জন যার প্রতিষ্ঠকালিন লোক সংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষেরো নিচে ছিল অথচ মধ্যনগরের বর্তমান লোক সংখ্যা দেড় লক্ষেরো উপরে।আমাদের সুনামগঞ্জেরই আরেক উপজেলা দক্ষিণ সুনামগঞ্জের লোক সংখ্যা ১৮৮১৭৯ জন যা প্রতিষ্ঠাকালীন আমাদের মধ্যনগরের চেয়েও ছিল অনেক কমে। অতএব আয়তন ও জনসংখ্যা বিবেচনা করলেও মধ্যনগর উপজেলা আরো অনেক আগেই বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু অজানা কারনে আমরা কেনো পিছিয়ে পরছি তা কেবল পরম স্রষ্টাই জানেন।

পঞ্চমত,
অনেকে জায়গা স্বল্পতা অজুহাত দেখান।আমি হলফ করে বলতে পারি আমাদের মধ্যনগরে সরকারি অনাবাদী জায়গার অভাবতো নয়ই বরং প্রাচুর্যতা রয়েছে। চাইলে মধ্যনগর বাজারের আশেপাশে কিংবা বাজারের দক্ষিণে অনেক অনাবাদী জায়গা রয়েছে সরকার উপযুক্ত মনে করলে সেখানেও বাস্তবায়ন করতে পারে অথবা বাজারের উত্তরে সুমেশ্বরী নদী পার হয়ে রাঙ্গামাটি গ্রামের দক্ষিণে পুলাকান্দার আশেপাশে স্থাপন করলেও মন্দ নয় কারন এখানে হলে একসাথে স্থল এবং জলযান দুটি যোগাযোগ ব্যবস্থাই একসাথে পাওয়া যাবে। তাছাড়া এখানে পতিত জমি অনেক বেশি তাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত জায়গা নিয়ে ভবন নির্মান করলে ওগুলো অনেকটা হাওর এলাকার সৌন্দর্য পিপাসুদেরকে আকর্ষণ করবে সহজে।সেক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী এলাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থাটা একটু উন্নত করতে হবে যা ইচ্ছে করলে স্থানীয় সরকার ও ওয়াপদা মিলে সহজেই সমাধান করতে পারবে।অথবা বংশীকুন্ডা ইউপিতে মোহাম্মদআলীপুরের দিকেও অনেক দৃষ্টিনন্দন অনাবাদী জায়গা আছে যেগুলোতে কমপ্লেক্স নির্মান করা যেতে পারে।যাহোক জায়গার সিদ্ধান্ত আমাদের বিজ্ঞজনরা দিতে পারবেন এতে কোন সমস্যা হবেনা।এটা সবার মতে যেখানে করলে ভালো হবে সেখানেই করা যাবে।পাঠকদের জানিয়ে রাখি কোন বিশেষ জায়গা আমার পছন্দ নয়।মূলকথা হচ্ছে আমাদের জায়গার সহজ প্রাপ্যতার রয়েছে।এই অজুহাতে আমাদের উপজেলা বাস্তবায়ন যেনো কোনো ক্রমেই না ঠেকে ঠেকবেওনা আশা করি।

ছয়.
আশ্বাস নয় চাই পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন

কার্যক্রম শুরুর প্রায় ৪৫ বছর পেরোলেই মধ্যনগর উপজেলা বাস্তবায়ন আলোর মুখ দেখতে পারেনি এখনো। যদিও মধ্যনগরবাসী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আগমনে তুমুল আশান্বিত হয়েছেন।কিন্তু প্রাপ্তির ঝুলিতে আশ্বাস আর আশ্বাস বীনে কিছুই জুটেনি। জানা যায় ২০১৩ সালে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার তৎকালীন সংসদ সদস্য অ্যাড. সৈয়দ রফিকুল হক সুহেলের নেতৃত্বে মধ্যনগর উন্নয়ন পরিষদ সিলেটের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছে মধ্যনগর উপজেলা পুনঃবাস্তবায়ন বিষয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।সেই সময় মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহোদয় এ ব্যাপারে আশ্বাস প্রদান করেন। ২০১৬ সালে বংশীকুন্ডায় লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন কালে এলাকাবাসীর পক্ষে মরহুম চেয়ারম্যান আক্রাম হোসেন উপজেলা ঘোষনার দাবি করলে উপস্থিত স্বরাষ্ট্র্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এ ব্যাপারে ইতিবাচক আশ্বাস প্রদান করেন।এসময় প্রতিমন্ত্রী এম. এ মান্নান,এমপি মুহিবুবুর রহমান মানিক, এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন উপস্থিত ছিলেন।২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল যাদু কাটা নদীর উপর দেশের দৃষ্টিনন্দন ওয়াচ-টাওয়ার সম্বলিত অদ্বৈত আরেফিন মৈত্রী সেতুর ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন বিষয়ক সভায় আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন উল্লেখিত দাবিটি পুনরোউল্থাপন করলে এলজিআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেন দাপুটে আশ্বাস দেন।সেই সাথে তিনি এও বলেন “মধ্যনগর উপজেলা ঘোষনা করার কি আছে,এটা অলরেডি ঘোষিতই আছে।”তাঁর সরকার উন্নয়নের সরকার দাবি করে তিনি ঢাকায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে এতদ্বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান।ঘটনাচক্রে ঐ সভায় আমি সস্ত্রীক উপস্থিত থেকে কথাগুলো শুনে বেশ উৎফুল্লই হয়েছিলাম।কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেই আশাটুকুতে যেনো গুঁড়ে পিঁপড়ে ধরেছে। ২৬ জুলাই ২০১৮ ইং পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান’র একান্ত সচিবকে দেয়া তথ্যমন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সমন্বয়ক শাখার সিনিয়র সচিব রাসেল মনজুর স্বাক্ষরিত চিঠিতে উপজেলা বাস্তবায়নের আরেক আলামত পাওয়া যায়।এরই প্রেক্ষিতে মাননীয় মন্ত্রী এম. এ. মান্নান দাবিটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

সর্বশেষ ২০ এপ্রিল ২০১৯,মধ্যনগর থানা মাঠে আয়োজিত সুমেশ্বরী নদীতে সেতু নির্মানের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন বিষয়ক সভায় বর্তমান এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম উক্ত দাবিটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।এসময় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য,জেলা চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট,এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন,সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ অ্যাড.শামীমা শাহরিয়ার উপস্থিত ছিলেন।তাই দুঃখ করে বলতেই হয় এত আশ্বাসের বস্থা রাখি কোথায়??
তাই আর কোন আশ্বাস নয়,চাই পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন,এবং সেটা যত দ্রুত সম্ভব।

সাত.
সরকারের উচিত দ্রুত বাস্তবায়নঃ
প্রথমত,
প্রাপ্ত তথ্য হতে, বিভিন্ন সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সুনামগঞ্জ তথা হাওর এলাকায় পাঁচবার এসেছিলেন।বিশিষ্ট লেখক, গবেষক নিক্সন তালুকদার এক লেখা থেকে জানা যায় ১৯৫৪ সালে সুনামগঞ্জের এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন“আপনাদের যেকোন সমস্যা, দাবি থকলে শুধুমাত্র দু’টাকার একটি খামে লিখে আমার কাছে পাঠাবেন আমি তাৎক্ষনিক তার সমাধান করবো।” তাই আমরা বিশ্বাস করি আজ সেই মহাত্মা যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে আমাদের দাবি আরো অনেক আগেই পুরন করে দিতেন।তবুও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, জাতির পিতার যোগ্য উত্তরসূরী, বঙ্গকন্যা জননেত্রী শেখহাসিনা ক্ষমতায় রয়েছেন।অতএব আমরা আশা করবো তিনিও জাতির পিতার মতোই আমাদেরকে আপন করে উল্লেখিত দাবিটি দ্রুত বাস্তবায়ন করবেন।

দ্বিতীয়ত,মধ্যনগর উপজেলা বিলটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই নিকারের বৈঠকে পাশ করিয়েছিলেন।সেই হিসেবে দাবিটি পূনঃবাস্তবায়ন সরকারের নৈতিক আদর্শের মধ্যেই পরে।বাস্তবায়িত হলে এই সরকার যে উন্নয়নের সরকার তা আবারো নিরীহ হাওর বাসীর হৃদমঞ্জিলে স্থান পাবে।

তৃতীয়ত, সুনামগঞ্জ -১ আসন তথা মধ্যনগরবাসী বরাবরই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তথা নৌকার প্রতি প্রচন্ডরকম দূর্বল।যার প্রমাণ প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনেই নৌকার জয়জয়কার।সেই দিকটি বিবেচনা করলেও হাওরবান্ধব বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা উক্ত দাবিটি নিমেষে সমাধান করতে পারেন।

তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উক্ত দাবিটি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করে কাব্যিক ভাষায় চারটি লাইন লিখে আপনাদের থেকে আজকের মতো এখানেই বিদায় চাইছি।
জীবন কৃষ্ণ সরকার
দাবি মোদের একটাই এখন
চাইযে উপজেলা
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনিই মোদের ভেলা।
জীবন কৃষ্ণ কাব্যিক ছন্দে
এই প্রার্থনা করি
দাবি পূরণ হয়েছে যেনো
শীঘ্রই শুনতে পারি।

(লেখাটিতে বিভিন্ন তথ্য কালের কন্ঠ,যুগান্তর,ভোরের কাগজ,প্রাবন্ধিক নিক্সন তালুকদার এর কলাম, উইকিপিডিয়া ও মধ্যনগরের লোকমুখ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।)

লেখক,
জীবন কৃষ্ণ সরকার
কবি ও প্রাবন্ধিক,
সভাপতি,হাওর সাহিত্য উন্নয়ন সংস্থা (হাসুস) বাংলাদেশ।
সম্পাদক,হাওরপিডিয়া

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে