ভক্ত কখন গুরুদেব ও কৃষ্ণকে ত্যাগ করে?

0
220

প্রশ্নঃ ভক্ত কখন গুরু এবং কৃষ্ণকে ত্যাগ করে? এর থেকে মুক্তির উপায় কি?

উত্তরঃ কখনও কখনও ভক্তের চিত্তও বিষয় বাসনায় উন্মুখ হয়ে উঠে তখন সে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে বৈষ্ণব চরনে চরম অপরাধ করে। বৈষ্ণব চরনে অপরাধের ভয় কেটে গেলে নিজ গুরুদেবের চরনে অপরাধ করে। নিজ গুরুদেবের চরনে অপরাধের ভয় কেটে গেলে শ্রীকৃষ্ণের চরনে অপরাধ করে। এভাবে একজন পতিত ভক্ত অন্তিমে নিজগুরুদেবকে ত্যাগ করে এবং তার ইষ্টদেব গোবিন্দকেও ত্যাগ করেন।

ভক্তের হৃদয় যখন প্রবল যশ, খ্যাতি, মান, মর্যাদা, লাভ, পুজা, প্রতিষ্ঠায় লালায়িত হয় তখন সে সদগুরুদেব এবং ভগবানের চরনে অপরাধ করতে ভয় করেনা। বৈষ্ণবদের নিন্দা, বৈষ্ণবদের নামে মিথ্যা অপবাদ দিতে ভয় করে না। বৈষ্ণব অপরাধের ফল এমনই ভয়াবহ যে পতিত হওয়া স্বত্তেও নিজের পরিনতি দর্শন করতে পারে না। এমন বৈষ্ণব অপরাধীকে ভগবান ক্ষমা করেন না।
চৈতন্য চরিতামৃতে বলা হয়েছে,

ভক্ত স্বভাব অজ্ঞ দোষ ক্ষমা করে।
কৃষ্ণ স্বভাব ভক্ত নিন্দা সহিতে না পারে।।

চৈতন্য চরিতামৃতে আরও বর্ননা করা হয়েছে কিভাবে রামচন্দ্রপুরী বৈষ্ণব চরনে অপরাধ করেন তারপর তার গুরুদেব ঈশ্বরপুরীপাদের চরনে অপরাধ করেন এবং অবশেষে কলিযুগের পাবন অবতার শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর চরনে অপরাধ করেন।

এভাবে পতিত হয়ে যাওয়া ভক্ত সাধু শাস্ত্র গুরুবাক্য অনুধাবন করতে পারেনা। এটি অধপাতনের সর্বোচ্চ পরিস্থিতি। অজ্ঞানতার এমন গভীর অন্ধকার থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো অপরাধের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করা। তবেই বৈষ্ণব, গুরুদেব এবং কৃষ্ণ তার অপরাধ ক্ষমা করে তাকে পুনরায় ভক্তি প্রদান করেন। কারন ভক্তের স্বভাব অজ্ঞ লোকের দোষ ক্ষমা করা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে