বিছনাকান্দি।।সৌন্দর্যের ভূ স্বর্গ।।

0
647

বিছনা-কান্দি প্রকৃতির মাঝে এক স্বর্গ
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। বিছনাকান্দি হচ্ছে একটি পাথর কোয়ারী। এরকম আরেকটি পাথর কোয়ারী হল জাফলং। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের খাসিয়া পাহাড়ের অনেকগুলো ধাপ দুই পাশ থেকে এসে এক বিন্দুতে মিলেছে আর পাহাড়ের খাঁজে রয়েছে ভারতে মেঘালয়ের সুউচ্চ ঝর্ণা। পর্যটকদের কাছে বিছানাকান্দির মূল আকর্ষন হচ্ছে পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলা স্বচ্ছ জলধারা আর পাহাড়ে পাহাড়ে শুভ্র মেঘের উড়াউড়ি। প্রথম দেখায় আপনার মনে হবে এ যেন এক পাথরের বিছানা, আর স্বচ্ছ পানিতে গা এলিয়ে দিতেই যে মানসিক প্রশান্তি পাবেন এই প্রশান্তি আপনাকে বিছানাকান্দি টেনে নিয়ে যাবে বারবার। এ যেন পাহাড়, নদী, ঝর্ণা আর পাথর মিলিয়ে প্রাকৃতিক মায়াজাল বিছিয়ে রেখেছে বিছানাকান্দি।

ভ্রমণের সময়

তবে বর্ষাকাল বিছানাকান্দি ভ্রমণের জন্য আদর্শ সময়। চারদিকে প্রচুর পানি প্রবাহ থাকার কারণে এ সময় বিছানাকান্দির প্রকৃত সৌন্দর্য্য দেখতে পাওয়া যায়। বছরে অন্য সময় এখানে পাথর উত্তোলনের কারণে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাময়িক অসুবিধার সৃষ্টি হয়।

ছবি-আনিস মাহমুদ

বিছনাকান্দি যাওয়ার উপায়

দেশের যেখানেই থাকেন আপনাকে প্রথমে সিলেট জেলা শহরে আসতে হবে বিছনাকান্দি যাবার জন্যে। তারপর সিলেট থেকে বিছনাকান্দি যেতে হবে।

ঢাকা থেকে সিলেট যাবার উপায়
ঢাকা থেকে বাসে বা ট্রেনে অথবা বাই প্লেনে আপনি সিলেট যেতে পারবেন। ফকিরাপুল, সায়দাবাদ ও মহাখালী বাস স্টেশন থেকে গ্রীন লাইন, শ্যামলি, সৌদিয়া, এস আলম ও এনা পরিবহনের এসি বাস যাতায়াত করে। এসি বাসের ভারা সাধারণত ৮০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে। এছাড়াও ঢাকা থেকে সিলেট যেতে শ্যামলী, হানিফ, ইউনিক, এনা পরিবহনের নন এসি বাস জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ভাড়ায় পাবেন।
যেতে কমলাপুর কিংবা বিমান বন্দর রেলওয়ে স্টেশান হতে উপবন, জয়ন্তিকা, পারাবত অথবা কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনকে বেছে নিতে পারেন আপনার ভ্রমণ সঙ্গী হিসাবে। ট্রেনে যেতে সময় লাগবে সাড়ে ছয় থেকে সাত ঘন্টা।
ঢাকা থেকে সবচেয়ে দ্রুত সময়ে ও সাচ্ছন্দে যেতে আকাশ পথকে বেছে নিতে পারেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ, রিজেন্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়ার, নভো এয়ার এবং ইউএস বাংলা এয়ারের বিমান প্রতিদিন সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে সিলেট যেতে শ্রেণিভেদে টিকেট মূল্য ৩২০০ থেকে ৭২০০ টাকা।

ছবি- সংগৃহিত
চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যাবার উপায়

চট্টগ্রাম থেকে বাসে বা ট্রেনে সিলেট যাওয়া যায়। চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে যেতে চাইলে পাহাড়িকা এবং উদয়ন এক্সপ্রেস নামের দুটি ট্রেন সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে।

সিলেট থেকে বিছনাকান্দি

বিছনাকান্দি যেতে সিলেটের আম্বরখানার সিএনজি স্টেশন থেকে জনপ্রতি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় লোকাল সিএনজিতে চড়ে হাদারপার নামক জায়গায় যেতে হবে। সারাদিনের জন্য সিএনজি রিজার্ভ নিলে সাধারণত ভাড়া ১০০০-১৫০০ টাকার মত লাগবে। হাদারপার এসে নৌকা ঘাট থেকে নৌকা ঠিক করে বিছনাকান্দি যেতে হবে। বিছানাকান্দি, পান্থুমাই ও লক্ষণছড়া কাছাকাছি হওয়ায় সব গুলো একসাথে ঘুরে দেখার জন্যেই নৌকা ঠিক করে নিতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী নৌকার মাঝির সাথে কথা বলে নিন। নৌকা ভাড়া ৮০০-১৫০০ টাকা লাগতে পারে তবে অবশ্যই দামাদামি করে নৌকা ভাড়া ঠিক করে নিবেন। বড় ট্রলার ভাড়া করতে কোন কোন ক্ষেত্রে ২৫০০ পর্যন্ত টাকা লাগতে পারে। শীতকালে ও বর্ষার আগে নদীতে পানি কম থাকে সেই ক্ষেত্রে আপনি চাইলে হাদারপাড় থেকে হেটেও বিছনাকান্দি যেতে পারবেন। শুকনো সময়ে মটরবাইক চলাচল করে, জনপ্রতি ৫০-৬০ টাকা ভাড়ায় যাওয়া যায়।যেকোন ভাড়ার জন্যে ভালো মত দরদাম করে নিন। আর সিজন ও পর্যটক উপস্থিতি বেশি থাকলে ভাড়া কম বেশি হতে পারে।

কোন সমস্যায় পড়লে প্রয়োজনে ফোন করতে পারেন – উপজেলা নির্বাহী অফিসার (01730-331036) এবং উপজেলা পরিষদ – (01919-515960)।

কোথায় থাকবেন

বিছানাকান্দি যাওয়া আসার সময় কম লাগার কারণে থাকার জন্য সিলেট শহরকে বেছে নিতে পারেন। হোটেল হিল টাউন, গুলশান, দরগা গেইট, সুরমা,কায়কোবাদ ইত্যাদি হোটেলে আপনার প্রয়োজন ও সামর্থ অনুযায়ী থাকতে পারবেন। এছাড়া লালা বাজার এলাকায় ও দরগা রোডে কম ভাড়ায় অনেক মানসম্মত রেস্ট হাউস আছে৷ যেখানে ৪০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিভিন্ন ধরণের রুম পাবেন।

কি খাবেন

বিছনাকান্দিতে কিছু অস্থায়ী খাবারের হোটেল রয়েছে। সেসব হোটেলে পেটচুক্তিতে একটি তরকারির সাথে আনলিমিটেড ভাত ডাল খেতে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা খরচ হবে। এছাড়া সাথে কিছু শুকনো খাবার, পানি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিয়ে যেতে পারেন। হাদারপার বাজারে গনি মিয়ার ভূনা খিচুড়ি খেতে পারেন। এছাড়া সিলেট শহরে বিভিন্ন মানের রেস্টুরেন্ট আছে, আপনার চাহিদামত সবকিছুই পাবেন। সিলেট এর জিন্দাবাজার এলাকার পানসী, পাঁচ ভাই কিংবা পালকি রেস্টুরেন্টের সুলভ মূল্যে পছন্দমত দেশী খাবার খেতে পারেন, এছাড়াও এই রেস্টুরেন্ট গুলোতে অনেক রকম ভর্তা ভাজি পাওয়া যায় বলে সবার কাছে খুব জনপ্রিয়।

বিছনাকান্দি ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

বর্ষাকালে অল্প পানির স্রোতের গতিও অনেক বেশি থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
কিছু জায়গায় পাথর উত্তোলনের ফলে নিছে গভীর খাঁদ আছে, কোথাও নামার আগে পরামর্শ নিন।
বিছানাকান্দি একটি পাথর কোয়ারী, চারাপাশে পাথর, পানির নিচেও পাথর, তাই হাঁটা চলায় অতিরিক্ত সাবধান থাকুন।
দয়া করে পরিবেশ ও প্রকৃতির ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না।
স্থানীয়দের সাথে বিনয়ী থাকুন।
সন্ধ্যার আগেই সিলেট শহরে ফিরে আসুন।
বিছনাকান্দিতে পানিতে নামার সময় সতর্ক থাকুন।
নৌকা ও সিএনজি ভাড়া করতে ভালো মত দামাদামি করুন।
খরচ কমাতে দলগত ভাবে ভ্রমণ করুন।
চাইলে একদিনেই রাতারগুল দেখে বিছনাকান্দি ভ্রমণ করতে পারেবেন।

বিশেষ আর্কষণ
বিছনাকান্দি (নয়া বাজার) সীমামত্ম বাজারে পর্যটকদের ভিড় বাংলাদেশী টাকা ও ভারতীয় রুপি দিয়ে পণ্য ক্রয় বিক্রয়

গোয়াইনঘাট থেকে : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি (নয়াবাজার) সীমামত্ম বাজারে বাংলাদেশী টাকা ও ভারতীয় রুপি দিয়ে চলছে পন্য ক্রয় বিক্রয়। বিজিবি ও বিএসএফর কড়া প্রহরার মধ্যেও মাত্র ২ঘন্টার এ বাজারে পর্যটকদের ভীড়ও লক্ষণীয়। শনিবার বেলা আড়াইটায় বিছনাকান্দি (নয়াবাজার) সীমান্তবতী বাজারে , ভারতীয় এবং বাংলাদেশী নাগরিকরা একাকার হয়ে হাট-বাজার করছেন। নয়া বাজারটি সীমামেত্মর ১২৬৩ নং মেইন পিলার এলাকায় অবস্থিত। ভারতের মেঘালয় রাজ্যেও শিলং জেলাধীন পানিছুলা থানার আওতাধীন এ এলাকার নাম হচ্ছে হাতুমাই। হাতুমাই নয়া বাজার থেকে জেলা সদর শিলং যেতে পাহাড়ী সড়ক পথে জীপ ও ট্যাক্সি যোগে ৪/৫ ঘন্টা সময় লাগে এবং পানিছুলা থানায় যেতে সময় লাগে ২ঘন্টা। এখানে খাসিয়া মনিপুরী লোকজন বসবাস করে। সীমামেত্মর ওপাওে মেইন পিলার থেকে আনুমানিক ১৫০গজ ভারতীয় ভুমিতে বাজার অবস্থিত। বাজারে বাংলাদেশী পন্যের মধ্যে রয়েছে মাছ, শুটকি, মেলামাইন সামগ্রী ইত্যাদি। অপরদিকে ভারতীয় পন্যের মধ্যে রয়েছে কমলা, পান সুপারী, সাতকরা, নাসপাতি, বিভিন্ন জাতের জুতা উলেস্নখযোগ্য। তবে প্রত্যেকটি ভারতীয় পন্যের বাজার মুল্য বাংলাদেশী বাজার অনুযায়ী কম মূল্য। এবাজারে ক্রেতা বিক্রেতাগন বাংলাদেশী টাকা ও ভারতীয় রম্নপী দিয়ে পন্য ক্রয় বিক্রয় করে থাকে।
বাজারে গিয়ে দেখতে পাবেন, বিছনাকান্দি পর্যটন এলাকায় বেড়াতে যাওয়া অধিকাংশ পর্যটকরা বাজারে গিয়ে ভীড় জমিয়েছেন। স্থানীয় লোকদের চেয়ে পর্যটকদের উপস্থিতি বেশি। এছাড়া বাজারের দু’পাশে বিজিবি ও বিএসএফ’র রয়েছে কড়া প্রহরা।
স্থানীয়রা জানান, আমরা প্রতি ৪/৫দিন পর পর এ বাজারের আয়োজন করে থাকি। বাজারের নির্ধারিত সময় থাকে ২/৩ঘন্টা। পুর্বের তুলনায় এখন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি বেশী হচ্ছে।
কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, এখন পর্যটকরা এসে বাজারকে আরও গতিশীল উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে।
প্রাকৃতিক পরিবেশে এ বাজার অবস্থিত। তাই বাজারের সৌন্দর্য রক্ষায় দু’দেশের নাগরিকদের ভুমিকা খুবই গুরম্নত্বপুর্ণ। পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া অন্য দেশের বাজার দেখতে পারা অনেক আনন্দের।

বিঃ দ্রঃ লেখাটি “সিলেটি বিজ্ঞাপন ডটকম- www.sylhetybiggapon.com থেকে তুলে ধরা হলো।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে