চোখ উঠা কি,চোখ কেন উঠে, চোখ উঠার লক্ষণ এবং আমাদের করণীয়

0
237

চোখ উঠা কি,চোখ কেন উঠে, চোখ উঠার লক্ষণ
এবং আমাদের করণীয়

প্রতিবছরই গরম ঠান্ডার সন্ধিক্ষণ পরিস্থিতি চোখ উঠার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।তবে চোখ বছরের যেকোন সময়েই কম বেশি উঠতে পারে।অতি সম্প্রতি স্কুল কলেজগামী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে চোখ উঠার প্রাদুর্ভাব খুব বেশি দেখা দিয়েছে যা স্কুল,কলেজগামী অভিভাবকদের মহা আতংকের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।তাছাড়া চোখ যেকোন বয়সের মানুষের হতে পারে এমনকি হচ্ছেও।তাই এই গুরুত্বপূর্ণ সমসাময়িক বিষয়টি নিয়ে আমার আজকের লেখা।তাহলে চলুন প্রিয় পাঠক চলে যাই মূল বিষয়ে।

চোখ উঠা কি

চোখ উঠা বা কন্‌জাঙ্কটিভাইটিস হচ্ছে চোখের ভাইরাসজনিত ইনফেকশন। সাধারণভাবে প্রচলিত কথা ‘চোখ ওঠা’ বলতে চোখ লাল হওয়া বুঝানো হয়ে থাকে। কিন্তু চোখ লাল হওয়া একটি উপসর্গ মাত্র। বিভিন্ন কারণে চোখ লাল হতে পারে। যেমন-জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, এডিনো ভাইরাসজনিত কারণে, হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসজনিত কারণে, স্কেলেরার ইনফেকশনজনিত কারণে,ইউভিয়াল টিস্যু ইনফেকশনজনিত কারণ ইত্যাদি। তবে ভাইরাস কেরাটাইটিস বা হারপেম সিমপেক্স ভাইরাসজনিত ইনফেকশনই মুলত ভাইরাসজনিত ইনফেকশন। এ ধরনের ইনফেকশনে সাধারণত এক চোখ আক্রান্ত হয়ে থাকে। পরবর্তীতে দুচোখেও হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চোখে চুলকানির লক্ষণও প্রতিয়মান হয়।

চোখ কেন উঠে

সাধারনত অতি গরম থেকে আবহাওয়া ঠান্ডার দিকে যাবার কালে গরম-ঠান্ডার সন্ধিক্ষণে পরিবেশগত ভাবেই চোখ উঠতে শুরু করে।তবে চোখ উঠা হতে পারে ব্যাকটেরিয়া দিয়ে। এ ছাড়া ভাইরাস আক্রমণের কারণেও চোখ উঠার সমস্যা হতে পারে। বেশির ভাগ সময়ই ভাইরাসে চোখ উঠে।অপরিষ্কার বা নোংরা জীবনযাপন চোখ উঠার অন্যতম কারণ। চোখ উঠা রোগে চোখ লাল হয়ে যায়। আর এমনটি হয় এই কনজাঙ্কটিভার রক্তনালিগুলো প্রদাহর কারণে ফুলে বড় হয়ে যাওয়া এবং তাতে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ার কারণে।

চোখ উঠার লক্ষণ সমূহ

ঘুম থেকে ওঠলে চোখ আঠা আঠা লাগা, সব সময় চোখের ভেতর কিছু একটা পড়েছে এমন অনুভূতি, চোখ চুলকানো এবং জ্বালাপোড়া করা, আলোর দিকে তাকালে অস্বস্তি লাগা, সবকিছু ঘোলা ঘোলা দেখা, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখের কোনায় ময়লা (যা কেতুর নামে প্রচলিত) জমা, চোখ ফুলে যাওয়া ইত্যাদি চোখ উঠার লক্ষণ।

আক্রান্তরা যা করবেননা

* চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
* রোগীর ব্যবহার করা সামগ্রী অন্যদের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
*এক চোখে সমস্যা দেখা দিলে অন্য চোখকে সংক্রমণ থেকে নিরাপদে রাখতে হবে।
*আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে।
*আক্রান্ত ব্যক্তির রুমাল, কাপড়-চোপড়, তোয়ালে ব্যবহার করা যাবে না।
* হ্যান্ডশেকের মাধ্যমেও অন্যরা আক্রান্ত হতে পারেন। তাই হ্যান্ডশেক করার পর দ্রুত হাত ধুয়ে ফেলুন। নোংরা হাতে কখনই চোখে হাত দেবেন না।

চোখ উঠলে আমাদের কী কী করণীয়

১. আক্রান্ত চোখে নোংরা পানি, ধুলাবালি, দূষিত বাতাস যেন চোখে প্রবেশ না করে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। এছাড়া সকালে ওঠার পর চোখে পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। অনেকে চোখে ওঠলে বারবার পানি দিয়ে পরিষ্কার করেন বা চোখে পানির ঝাপটা দেন। এটি মোটেই করা যাবেনা।

২. চোখ ওঠা ছোঁয়াচে রোগ, তাই যাদের চোখ ওঠেছে, তাদের সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে। চোখ আক্রান্ত ব্যক্তির রুমাল, কাপড়চোপড়, তোয়ালে ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি হ্যান্ডশেকও করা যাবেনা।

৩. কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাইরাসের আক্রমণের পর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে। এ জন্য দিনে তিন থেকে চারবার চোখের অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ক্লোরামফেনিকল ব্যবহার করতে হবে। চোখে চুলকানি থাকলে অ্যান্টিহিস্টামিন সেবন করতে হবে। এ ক্ষেত্র অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ বিষয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৪। সাবানপানি দিয়ে কিছুক্ষণ পরপরই হাত পরিষ্কার করতে হবে।

৫। কোনো কারণে চোখ ভেজা থাকলে চোখ টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে নিতে হবে। ব্যবহারের পর টিস্যু পেপারটি অবশ্যই ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিতে হবে। নইলে ব্যবহার করা টিস্যু পেপার থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

৬। চোখ উঠলে চশমার ব্যবহার করুন। এতে চোখে স্পর্শ করা কমবে এবং ধুলাবালু, ধোঁয়া থেকে চোখ রক্ষা পাবে। আলোয় অস্বস্তিও কমবে।

৭। চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন।

৮। নিজের ব্যবহার করা প্রসাধনসামগ্রী ও ব্যক্তিগত কাপড়চোপড় অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। একইভাবে অন্যের ব্যবহৃত প্রসাধনসামগ্রী ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র রোগীর ব্যবহার করা চলবে না।

৯। চোখ ঘষে চুলকানো যাবে না। অন্য কারও আই ড্রপ ব্যবহার করা উচিত হবে না। এতে আবার কনজাংটিভাইটিস হতে পারে।

১০। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন

দৃষ্টি ঝাপসা হলে, চোখ খুব বেশি লাল হলে, খুব বেশি চুলকালে বা অতিরিক্ত ফুলে গেলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়,চোঁখ উঠা একটি ছোঁয়াছে রোগ।রোগটিকে একবারে হালাকাভাবে নেবার সুযোগ নেই।অবহেলা করলে চোখের মত জিনিস ক্ষতি হতে বেশি সময় নিবেনা।তাই আসুন সচেতন হই,চোখ উঠার প্রাদুর্ভাব থেকে দূরে থাকি,আর আক্রান্ত যেকেউকে অবহেলা না করে উপরে বর্ণিত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে তাকে দ্রুত সারিয়ে তুলি।

জীবন কৃষ্ণ সরকার
কবি ও প্রাবন্ধিক

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া,যুগান্তর,প্রথম আলো,বাঙ্গালি নিউজ ২৪ ডটকম

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে