এসএসসি পরীক্ষায় হল পরিদর্শকের জন্য নির্দেশিকা

0
39

এসএসসি পরীক্ষায় হল পরিদর্শকদের জন্য নির্দেশিকা

আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় আপনার উপর যদি হল পরিদর্শকের দায়িত্ব পরে তাহলে লেখাটি আপনার জন্য।দেখে নিন হলে কি কি দায়িত্ব সুনিপুণ ভাবে পালন করলে আপনি হতে পারেন একজন দায়িত্ববান ও আদর্শ হলসুপার শিক্ষক।

১। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৪০- ৪৫ মিনিট পূর্বে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হবেন নতুবা নিজের ডিউটির রোম,আনুষাঙ্গিকাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যাবেনা।

২। কত নং কক্ষে দায়িত্ব পালন করতো হবে তা পরীক্ষার ৩০ মিনিট আগেই জেনে নিন।আপনার সাথে কে কে আছেন সেটাও জেনে নিন।

৩। MCQ এবং CQ উত্তর পত্র, হাজিরা সিট, সিট প্লান, কোড ফাইলে আছে কি না চেক করে নিন।

৪। উত্তর পত্রের পিছনের পৃষ্ঠায় লেখা পরীক্ষার নিয়মাবলি ভালো করে পড়ে বুঝে নিন কারণ সময়ের পরিবর্তনে পরীক্ষার রোলস এ পরিবর্তন আসতে পারে,সেগুলো আপডেট হয়ে নিন।

৫। পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট পূর্বে নির্দিষ্ট কক্ষে অর্থাৎ ওয়ার্নিং ঘন্টা পরার সাথে সাথে কক্ষে উপস্থিত হোন।

৬। MCQ এবং CQ এর উত্তর পত্র পরীক্ষার্থীদের সিটে দ্রুত পৌছে দিন।

৭। বৃত্ত ভরাটে সহযোগিতা চাইলে সহযোগিতা করুন।বৃত্ত ভরাটের শুরুতে এতদ সংক্রান্ত একটি ব্রিফ দিয়ে দিন এতে শিক্ষার্থীদের ভুলের পরিমান কম হবে।

৮। ঘণ্টা পড়ার সাথে সাথে প্রশ্ন পরীক্ষার্থীর হাতে পৌঁছে দিন।নজর রাখুন কারো কোন সমস্যা আছে কি না।

৯। পরীক্ষার্থীর হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর পূরণ করতে সহযোগিতা করুন। ( নির্দিষ্ট তারিখের ঘরে নির্দিষ্ট বিষয়ের উপস্থিতি স্বাক্ষর ও OMR নম্বর লিখতে)

১০। শিক্ষার্থীর রোল,রেজিস্ট্রেশন নম্বর,বিষয়কোড,সেট কোড,বোর্ড প্রভৃতি বৃত্তগুলো সঠিকভাবে পূরণ করা হয়েছে কিনা,উত্তরপত্রের উপরে শিক্ষার্থীর নাম,পরীক্ষার সাল লিখেছে কিনা যাচাই করে উত্তর পত্রে আপনার স্বাক্ষর করুন।

১১। হাজিরা খাতায় শিক্ষার্থীর উত্তর পত্রের বিশেষ লম্বা সিরিয়াল নাম্বার টি হাজিরা খাতায় যথাযথভাবে লিখুন,এক্ষেত্রে ভুলে খাতার নাম্বার না লিখে শিক্ষার্থীর রেজিঃ নম্বর লিখে ফেলতেছেন কিনা তা সতর্কভাবে খেয়াল রাখুন।

১২। পরীক্ষার শেষের ১০ মিনিট, ৫ মিনিট, ২ মিনিট এবং ১ মিনিট পূর্বে সময় বলে সতর্ক করুন।এতে শিক্ষার্থীরা যথা সময়ে উত্তরপত্র জমা দিতে মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকবে।

১৩। গণিত পরীক্ষার দিন গ্রাফ পেপার হলে নিতে ভুলবেননা।আবার কেউ প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর পরীক্ষায় আনলো কিনা তাও চেক করতে ভুলবেননা।

১৪। ঘণ্টা পড়ার সাথে সাথে উত্তর পত্র সযত্নে শিক্ষার্থীদের তুলে নিন।এক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব তা করবেন,কারণ আপনার কারণে কোন শিক্ষার্থীর সময় নষ্ট হওয়া কাম্য হতে পারেনা।

১৫।যথাসময়ে সৃজনশীল প্রশ্ন বিতরন করুন। এতে সম্পূর্ভাবে গাফিলতি পরিহার করুন।কারণ আপনার গাফিলতির কারণে কোন না কোন বাচ্ছা ফেল বা লাজুক নাম্বার পেতে পারে।

১৬। প্রয়োজন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত উত্তরপত্র শিক্ষার্থীদের কাছে পৌছে তিন।এক্ষেত্রে গাফিলতি দ্রুত পরিহার করুন।অতিরিক্ত উত্তর পত্রের সিরিয়াল নাম্বারটা মূল খাতার একবারে শেষ পাতার নিচে লিখতে শিক্ষার্থীকে বলুন এবং মূল খাতার একবারে প্রথম পেজে অতিরিক্ত খাতার সিরিয়াল নাম্বারটি লিখে বৃত্ত ভরাট করতে বলুন।দুটো কাজই নিজে দাঁড়িয়ে থেকে শিক্ষার্থীদের করিয়ে নিন।

১৭। উত্তর পত্র সেলাইয়ে সহযোগিতা করুন।
এবং ঘণ্টা পড়ার সাথে সাথে উত্তর তুলে নিন।কোন ক্রমেই বাচ্চাদের হাতে সেলাইয়ের দায়িত্ব দিবেননা এতে করে খাতার সেলাই দুর্বল হতে পারে,অধিকন্তু সুই শিক্ষার্থীর হাতে বিঁধতেও পারে।

১৮। রোল নম্বর ক্রমানুসারে উত্তর পত্র সাজিয়ে নিন। এতে OMR সাজাতে সুবিধা হবে। যদি তা না করেন তাহলে উত্তর পত্র সংরক্ষণের সময় হলেও রোল নম্বর অনুযায়ী াক্রমাণুসারে সাজাবেন।

১৯। ভাল করে গণনা করে নিশ্চিত হন আপনার কক্ষের উপস্থিত পরীক্ষার্থী সংখ্যার সাথে উত্তর পত্রের সংখ্যা মিলে গেছে।প্রয়োজনে পরীক্ষার্থীর সংখ্যাটা পরীক্ষার শুরুতেই গুণে লিখে রাখুন।

২০। OMR এর প্রথম অংশ (পরীক্ষার্থীর তথ্য) উত্তর পত্র থেকে ছিড়ে আলাদা করুন। খেয়াল রাখুন যেন দ্বিতীয় অংশ ছিড়ে না যায়। OMR রোল সিরিয়ালে সাজিয়ে ব্যান্ড রাবার দিয়ে বেঁধে নিন। গণনা করে সংখ্যা মিলিয়ে নিন।

২১। উত্তর পত্রসহ অন্যান্য কাগজ পত্র অফিসে জমা দিন এবং অবশ্যই এক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গুণে বুঝিয়ে দিবেন।কোন অবস্থাতে উত্তরপত্রের হিসেব না বুঝিয়ে টেবিলে রেখে কেন্দ্র থেকে বিদায় নেবেননা।তা না হলে কোন উত্তরপত্র না পেলে এর দায়ভার আপনাকেই নিতে হবে।

২২।পরীক্ষার হলে ব্যক্তিত্বের পরিচয় ফুটিয়ে তুলুন। এতে পরীক্ষার্থীরা অহেতুক বিশৃঙ্খলা বা হৈচৈ করবে না।ব্যক্তিত্ব ফুটাতে অহেতুক ধমকাধমকি থেকে বিরত থাকুন।

২৩। আপনার কক্ষে পরীক্ষা কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ব্যাতিত অন্য কাউকে কক্ষে প্রবেশ করতে দিবেন না। এতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। এমনকি আপনি দায়িত্বহীনতার দায়ে শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।

২৪। পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কথা বলা, অন্যের খাতা দেখে লেখার চেষ্টা, কোন কাগজ,টুকন বা চিরকুটের সাহায্যে নকল যাতে করতে না পারে তার প্রতি কড়া নজরদারি রাখা। মনে রাখবেন, আপনার শিথিলতা মানেই আপনার বিপদ।

২৫। পরীক্ষার হলে অহেতুক আলাপ, গল্প বা শব্দ করা থেকে বিরত থাকুন। এতে পরীক্ষার মনোযোগ নষ্ট হয়। ভুলে যায় মুখস্ত উত্তর। ফলে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা খারাপ হয়।ভুলেও এসব করতে যাবেননা।শিক্ষক হিসেবে নিজের ওয়েট নিজে রাখুন।

২৬। পরীক্ষার্থী ভুল করলে বকবেন না বুঝিয়ে বলুন এবং ভুল সংশোধন করুন।বকলে শিক্ষার্থীরা হতাশ হতে পারে,এ ব্যাপারে সজাগ থাকুন।

২৭। কোন বিষয়ে সংশয় থাকলে অফিস থেকে বা সিনিয়রদের কাছ থেকে অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত যে কেউর কাছ থেকে জেনে নিন।ভুলেও না বুঝে নিজ জ্ঞানে অনজানা কাজে হাত দেবেননা।

২৮। কোনক্রেমেই হলে মোবাইল সাথে রাখবেননা।কারণ হল পরিদর্শক(ম্যাজিস্ট্রেট) এর কাছে ধরা পরলে লাঞ্চিত বা ভর্ৎসনার শিকার হতে পারেন।

২৮। প্রতিটি কাজ পরিপাটি ও গোছানো রাখবেন। মনে রাখবেন আপনার উপর আপনার কক্ষের পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। ওদের ভালো ফলাফলের শেষ ধাপ আপনার হাতে। তাই একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে উপরের সবগুলো বিষয় বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকুন।
শিক্ষক হিসেবে প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে নিজ সন্তানের মত মনে করুন। সবার জন্য শুভকামনা।

লেখক

জীবন কৃষ্ণ সরকার
কবি ও প্রাবন্ধিক

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে